ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পদে পদে ঘুষ-দুর্নীতির কারণে এখানে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানর সরাসরি কারো সাথে জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেন না। তার অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাস সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে। চুক্তি/টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়,না দিলে দিনের পর দিন এমনকি মাস পেরিয়ে যায় ফলে সেবা প্রার্থীরা টাকা দিতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, কামরুজ্জামান যোগদানের পর থেকে এ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় দুর্নীতির জায়গা হল জমির মিউটিশন করা ও খাজনা আদায়ের রশিদ কাটানো। জমি ক্রয় করার পরে প্রত্যেক জমির মালিককেই বাধ্যতামূলক জমির রেকর্ড (মিউটিশন) করতে হয়। সরকারি ধার্য অনুযায়ী মিউটিশন ফি ১১৭৫ টাকা। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তার অফিসৈর পিয়ন সুবাশ বিশ্বাসের মাধ্যমে জমির মালিকদেরকে বিভিন্ন ভাবে এটা ওটা বুঝিয়ে হয়রানি করে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার চুক্তি করেন জমির মিউটিশনের জন্য। ১০৭ টাকা খাজনার জন্য গুনতে হয় ২৫০০ টাকা। জমির মালিকেরা নিরুপায় হয়ে কর্মকর্তার ফাঁদে পা দিয়ে হাজার হাজার টাকা গচ্ছা দিয়ে আসছেন। হামিদুর নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, এখানে কম ঘুষে বেশি ঘোরাঘুরি, বেশি ঘুষে কাজ তাড়াতাড়ি। আমি বাড়ির জমির খাজনা দিতে এসেছিলাম। আমার থেকে খাজনার রশিদে উল্লিখিত টাকার থেকে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। এদিকে আমির হোসেন নামে একজন বলেন, আমার বোনের জমি দলিল করে দিয়েছি, সেই জমি মিউটেশন করতে সবকিছু অনলাইনে আমি করেছি। তার পরও অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাস আমার বোনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছে। জানতে চাইছে সুবাশ বিশ্বাস বলেন নামজারি হওয়ার পর অফিসের বইতে তুলতে নেওয়া হয়েছে যা সবাই দিয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় বেতগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক ভাই গত দুই-৩ মাস আগে জমির খাজনা দিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসলে ১০৭ টাকার একটি খাজনার রশিদ কেটে দিয়ে ২৫০০ টাকা নিয়েছে। আমি জমির নাম পত্তন-নাম খারিজ করতে এসেছি, আমার কাছে ৪৫০০ টাকা চাচ্ছে। কয়েক জন ভুক্তভোগী জানান, নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো নামজারি হয় না। নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরাজ্জামানের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন আমরা বাড়তি কোনো টাকা নেই না। টাকা নেওয়ার একটা অডিও রেকড শোনানো হলে সুবাশকে দিয়ে সাংবাদিককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন তিনি।এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসতিয়াক আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি যেহেতু আমাকে অবগত করলেন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পদে পদে ঘুষ-দুর্নীতির কারণে এখানে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানর সরাসরি কারো সাথে জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেন না। তার অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাস সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে। চুক্তি/টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়,না দিলে দিনের পর দিন এমনকি মাস পেরিয়ে যায় ফলে সেবা প্রার্থীরা টাকা দিতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, কামরুজ্জামান যোগদানের পর থেকে এ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় দুর্নীতির জায়গা হল জমির মিউটিশন করা ও খাজনা আদায়ের রশিদ কাটানো। জমি ক্রয় করার পরে প্রত্যেক জমির মালিককেই বাধ্যতামূলক জমির রেকর্ড (মিউটিশন) করতে হয়। সরকারি ধার্য অনুযায়ী মিউটিশন ফি ১১৭৫ টাকা। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তার অফিসৈর পিয়ন সুবাশ বিশ্বাসের মাধ্যমে জমির মালিকদেরকে বিভিন্ন ভাবে এটা ওটা বুঝিয়ে হয়রানি করে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার চুক্তি করেন জমির মিউটিশনের জন্য। ১০৭ টাকা খাজনার জন্য গুনতে হয় ২৫০০ টাকা। জমির মালিকেরা নিরুপায় হয়ে কর্মকর্তার ফাঁদে পা দিয়ে হাজার হাজার টাকা গচ্ছা দিয়ে আসছেন। হামিদুর নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, এখানে কম ঘুষে বেশি ঘোরাঘুরি, বেশি ঘুষে কাজ তাড়াতাড়ি। আমি বাড়ির জমির খাজনা দিতে এসেছিলাম। আমার থেকে খাজনার রশিদে উল্লিখিত টাকার থেকে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। এদিকে আমির হোসেন নামে একজন বলেন, আমার বোনের জমি দলিল করে দিয়েছি, সেই জমি মিউটেশন করতে সবকিছু অনলাইনে আমি করেছি। তার পরও অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাস আমার বোনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছে। জানতে চাইছে সুবাশ বিশ্বাস বলেন নামজারি হওয়ার পর অফিসের বইতে তুলতে নেওয়া হয়েছে যা সবাই দিয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় বেতগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক ভাই গত দুই-৩ মাস আগে জমির খাজনা দিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসলে ১০৭ টাকার একটি খাজনার রশিদ কেটে দিয়ে ২৫০০ টাকা নিয়েছে। আমি জমির নাম পত্তন-নাম খারিজ করতে এসেছি, আমার কাছে ৪৫০০ টাকা চাচ্ছে। কয়েক জন ভুক্তভোগী জানান, নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো নামজারি হয় না। নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরাজ্জামানের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন আমরা বাড়তি কোনো টাকা নেই না। টাকা নেওয়ার একটা অডিও রেকড শোনানো হলে সুবাশকে দিয়ে সাংবাদিককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন তিনি।এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসতিয়াক আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি যেহেতু আমাকে অবগত করলেন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন