দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আপডেট : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বন উজাড় করে ইটভাটা পরিচালনা? নাইক্ষ্যংছড়িতে ‘প্রশাসন ম্যানেজ’ বিতর্কে উত্তাল এলাকা

বন উজাড় করে ইটভাটা পরিচালনা? নাইক্ষ্যংছড়িতে ‘প্রশাসন ম্যানেজ’ বিতর্কে উত্তাল এলাকা
বন উজাড় করে ইটভাটা পরিচালনা? নাইক্ষ্যংছড়িতে ‘প্রশাসন ম্যানেজ’ বিতর্কে উত্তাল এলাকা

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশআরি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত NSB ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাটার মালিক শামসুদ্দিন জ্বালানির জন্য আশপাশের বনভূমি থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে চলেছেন, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ও ভোরবেলায় গাছ কেটে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে বনভূমি উজাড়ের পাশাপাশি কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩- এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব আইনে অবৈধভাবে বনজ সম্পদ ব্যবহার ও পরিবেশের ক্ষতি করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রশাসনিক অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে ভাটার মালিক সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৎ আচরণ করেন এবং দাবি করেন, প্রশাসন আমার পকেটে, সব ম্যানেজ করেই কাজ করছি।” তবে বৈধ অনুমতির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও তীব্র পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি ধোঁয়া ও কাঠ পোড়ানোর কারণে বায়ুদূষণও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা, বন উজাড় বন্ধ এবং ভাটার বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে।

বিষয় : ইটভাটা নাইক্ষ্যংছড়ি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বন উজাড় করে ইটভাটা পরিচালনা? নাইক্ষ্যংছড়িতে ‘প্রশাসন ম্যানেজ’ বিতর্কে উত্তাল এলাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশআরি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত NSB ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাটার মালিক শামসুদ্দিন জ্বালানির জন্য আশপাশের বনভূমি থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে চলেছেন, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ও ভোরবেলায় গাছ কেটে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে বনভূমি উজাড়ের পাশাপাশি কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩- এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব আইনে অবৈধভাবে বনজ সম্পদ ব্যবহার ও পরিবেশের ক্ষতি করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রশাসনিক অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে ভাটার মালিক সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৎ আচরণ করেন এবং দাবি করেন, প্রশাসন আমার পকেটে, সব ম্যানেজ করেই কাজ করছি।” তবে বৈধ অনুমতির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও তীব্র পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি ধোঁয়া ও কাঠ পোড়ানোর কারণে বায়ুদূষণও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা, বন উজাড় বন্ধ এবং ভাটার বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত