দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের গিয়ে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর উদ্ধার

পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের গিয়ে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর উদ্ধার
পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের গিয়ে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পরউদ্ধার

নাটোরের লালপুর উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী আবু নাঈমের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এলাকায় পদ্মা সেতুর চার নম্বর পিলারের নিকট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মাসুদ।

নিহত আবু নাঈম নাটোরের লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া (কলসনগর) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবু রায়হান উদ্দিনের ছেলে এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেভেল-টু’র শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এমআইএসটির আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেভেল-টুতে অধ্যয়নরত ১৮ জন শিক্ষার্থীর একটি দল শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মাওয়া ঘাট এলাকায় যায়। বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণে বের হন।

আরও পড়ুন, ঢাকা- ১৪ আসনে সৎ নেতৃত্বের খোঁজে ভোটাররা, আলোচনার কেন্দ্রে ব্যারিস্টার আরমান

নৌকাটি পদ্মা সেতুর চার নম্বর পিলারের নিকটে একটি চরের প্রায় ৫০ মিটার দূরে পৌঁছালে আবু নাঈম, মোহাম্মদ তানভীর ও সোহান নামের তিন শিক্ষার্থী সাঁতার কেটে চরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নদীতে নামেন। সাঁতার কাটার একপর্যায়ে পদ্মার প্রবল স্রোতে তারা বিপাকে পড়েন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করেন। এ সময় নৌকায় থাকা সাঁতার জানা দুই শিক্ষার্থী দ্রুত পানিতে নেমে মোহাম্মদ তানভীরকে উদ্ধার করেন। অপর শিক্ষার্থী সোহান নিরাপদে সাঁতার কেটে নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আবু নাঈম প্রবল স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।

নাঈমের চাচাতো ভাই মশিউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে নাঈমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নৌবাহিনীর কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত ডুবুরি দল পদ্মা সেতু এলাকার দুই পাশজুড়ে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় টানা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম দিনের অভিযানে কোনো সাফল্য না এলেও পরদিন সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়।

অবশেষে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পদ্মা সেতুর চার নম্বর পিলার এলাকা থেকে আবু নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় এক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে লালপুরে তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

বিষয় : নাটোর উদ্ধার নিখোঁজ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের গিয়ে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

নাটোরের লালপুর উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী আবু নাঈমের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এলাকায় পদ্মা সেতুর চার নম্বর পিলারের নিকট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মাসুদ।

নিহত আবু নাঈম নাটোরের লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া (কলসনগর) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবু রায়হান উদ্দিনের ছেলে এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেভেল-টু’র শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এমআইএসটির আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেভেল-টুতে অধ্যয়নরত ১৮ জন শিক্ষার্থীর একটি দল শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মাওয়া ঘাট এলাকায় যায়। বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণে বের হন।

আরও পড়ুন, ঢাকা- ১৪ আসনে সৎ নেতৃত্বের খোঁজে ভোটাররা, আলোচনার কেন্দ্রে ব্যারিস্টার আরমান

নৌকাটি পদ্মা সেতুর চার নম্বর পিলারের নিকটে একটি চরের প্রায় ৫০ মিটার দূরে পৌঁছালে আবু নাঈম, মোহাম্মদ তানভীর ও সোহান নামের তিন শিক্ষার্থী সাঁতার কেটে চরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নদীতে নামেন। সাঁতার কাটার একপর্যায়ে পদ্মার প্রবল স্রোতে তারা বিপাকে পড়েন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করেন। এ সময় নৌকায় থাকা সাঁতার জানা দুই শিক্ষার্থী দ্রুত পানিতে নেমে মোহাম্মদ তানভীরকে উদ্ধার করেন। অপর শিক্ষার্থী সোহান নিরাপদে সাঁতার কেটে নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আবু নাঈম প্রবল স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।

নাঈমের চাচাতো ভাই মশিউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে নাঈমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নৌবাহিনীর কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত ডুবুরি দল পদ্মা সেতু এলাকার দুই পাশজুড়ে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় টানা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম দিনের অভিযানে কোনো সাফল্য না এলেও পরদিন সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়।

অবশেষে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পদ্মা সেতুর চার নম্বর পিলার এলাকা থেকে আবু নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় এক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে লালপুরে তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত