রাজধানীর মিরপুরের প্যারিস রোডে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল কংক্রিটের কাঠামো। প্রায় ২৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত, অন্ধকারে ঢাকা, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো একটি ভবন। রাজধানীর অন্যতম প্রাণ কেন্দ্রে থাকা এ ভবনটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘ভূতুড়ে মার্কেট’ নামে। নির্মাণ অসমাপ্ত এ ভবন এখন মাদক ও অপরাধ কর্মের নিরাপদ আখড়া হয়ে উঠেছে।সম্প্রতি ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হওয়ার পর নগর ব্যবস্থাপনার এ ব্যর্থতা নতুন করে সামনে এসেছে।
আরো পড়ুন , রূপনগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সাতজন গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ বছরে আটটির বেশি লাশ পাওয়া গেছে ওই ভবন থেকে। গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, মার্কেটটির চিত্র খুবই করুণ। দেওয়ালে শ্যাওলা জমেছে। খসে পড়ছে পলেস্তারা। মার্কেটের পশ্চিম পাশের কিছু অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে বস্তি। ভবনের নিচতলায় সারি করা রিকশা, ভ্যান। ভিতরে দিনের বেলা প্রবেশ করলেও গা শিউরে ওঠে। বিশাল আয়তনের মার্কেটটির নিচতলায় সুনসান নীরবতা। বাতাসে ভেসে আসে মাদকের গন্ধ। এ ছাড়া ফেনসিডিলের বোতল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে আশপাশে।
দুই একর জমির ওপর ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনটি এখন ভূতুড়ে। অথচ এ অবকাঠামো নির্মাণে ডিএনসিসির খরচ হয়েছে অন্তত ২৫ কোটি টাকা। ওই জমির বাজারমূল্য শত কোটি টাকার বেশি। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের প্যারিস রোডে নিউ ডিএনসিসি মার্কেটটি। ১৯৯৬ সালে মার্কেটটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ২ হাজার ৩৬৩টি দোকানও বরাদ্দ দেয় তৎকালীন কর্তৃপক্ষ। এরপর সরকার পরিবর্তন, মেয়র বদল, সিটি করপোরেশন বিভক্তির কারণে ওই মার্কেটের বাকি কাজ শেষ হয়নি। সে সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খালেক এন্টারপ্রাইজ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পালিয়ে যান। এদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘১৬ জানুয়ারি রাতে ওই মার্কেট থেকে সুমন নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুর্গন্ধের সূত্র ধরে মার্কেটের নিচতলায় লাশটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দেন তারা। নিহত ব্যক্তির মাথায় জখমের চিহ্ন ছিল।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের প্যারিস রোডে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল কংক্রিটের কাঠামো। প্রায় ২৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত, অন্ধকারে ঢাকা, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো একটি ভবন। রাজধানীর অন্যতম প্রাণ কেন্দ্রে থাকা এ ভবনটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘ভূতুড়ে মার্কেট’ নামে। নির্মাণ অসমাপ্ত এ ভবন এখন মাদক ও অপরাধ কর্মের নিরাপদ আখড়া হয়ে উঠেছে।সম্প্রতি ওই পরিত্যক্ত ভবন থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হওয়ার পর নগর ব্যবস্থাপনার এ ব্যর্থতা নতুন করে সামনে এসেছে।
আরো পড়ুন , রূপনগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সাতজন গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ বছরে আটটির বেশি লাশ পাওয়া গেছে ওই ভবন থেকে। গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, মার্কেটটির চিত্র খুবই করুণ। দেওয়ালে শ্যাওলা জমেছে। খসে পড়ছে পলেস্তারা। মার্কেটের পশ্চিম পাশের কিছু অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে বস্তি। ভবনের নিচতলায় সারি করা রিকশা, ভ্যান। ভিতরে দিনের বেলা প্রবেশ করলেও গা শিউরে ওঠে। বিশাল আয়তনের মার্কেটটির নিচতলায় সুনসান নীরবতা। বাতাসে ভেসে আসে মাদকের গন্ধ। এ ছাড়া ফেনসিডিলের বোতল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে আশপাশে।
দুই একর জমির ওপর ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনটি এখন ভূতুড়ে। অথচ এ অবকাঠামো নির্মাণে ডিএনসিসির খরচ হয়েছে অন্তত ২৫ কোটি টাকা। ওই জমির বাজারমূল্য শত কোটি টাকার বেশি। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের প্যারিস রোডে নিউ ডিএনসিসি মার্কেটটি। ১৯৯৬ সালে মার্কেটটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ২ হাজার ৩৬৩টি দোকানও বরাদ্দ দেয় তৎকালীন কর্তৃপক্ষ। এরপর সরকার পরিবর্তন, মেয়র বদল, সিটি করপোরেশন বিভক্তির কারণে ওই মার্কেটের বাকি কাজ শেষ হয়নি। সে সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খালেক এন্টারপ্রাইজ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পালিয়ে যান। এদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘১৬ জানুয়ারি রাতে ওই মার্কেট থেকে সুমন নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুর্গন্ধের সূত্র ধরে মার্কেটের নিচতলায় লাশটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশে খবর দেন তারা। নিহত ব্যক্তির মাথায় জখমের চিহ্ন ছিল।

আপনার মতামত লিখুন