বাংলাদেশে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এখান থেকেই সরকারি সেবা, আইন প্রয়োগ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু যখন এই স্তরেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তখন শুধু একটি অফিস নয়—পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় তেমনই একটি গুরুতর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একজন পিয়ন—সোহেল লামা—তার বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ সব অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইউএনওর নাম ব্যবহার করে তিনি বছরের পর বছর ধরে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অবৈধ তদবির ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে নামে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত।
সরকারি চাকরিতে পিয়নের পদ সাধারণত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মধ্যে পড়ে। নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ সেখানে নেই। কিন্তু লামা উপজেলায় পিয়ন সোহেলের বাস্তব অবস্থান নাকি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়রা অভিযোগ কওে বলেন, সে ছিল ইউএনও অফিসের অলিখিত ‘গেটকিপার’। তার অনুমতি ছাড়া অনেক ফাইল নড়ত না। এভাবে একাধিক সূত্রের দাবি, সোহেল ধীরে ধীরে নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন তিনিই ইউএনও অফিসের মূল যোগাযোগকারী। কোনো ব্যবসায়ী, ইটভাটা মালিক, ভূমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ঠিকাদার—কারও কাজই নাকি তার ম্যানেজ ছাড়া এগোত না। তার বিরুদ্ধে ইটভাটা, পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলন সহযোগীতার চাঁদাবাজির অভিযোগ।
আরও পড়ুন, পলাশবাড়ীর ইউনিক কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাইস্কুলের বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ
লামা উপজেলায় ইটভাটা, পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল বিষয়। এসব কার্যক্রমে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সোহেল একটি চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। একজন ইটভাটা মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিমাসে সোহেল নিজের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ইউএনওর জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করত। টাকা না দিলে নোটিশ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখানো হতো। এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে একাধিক ভাটা মালিক একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এসব চাঁদাবাজি ও তদবিরের মাধ্যমে সোহেলের মাসিক আয় দাঁড়াত এক থেকে দেড় লাখ টাকা। সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে এই আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। তবে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো সোহেলের সম্পদের পরিমাণ। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, তার নামে ও পরিবারের নামে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। একজন সরকারি পিয়নের পক্ষে এমন সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে পুরো উপজেলায়।
স্থানীয় মহলে আলোচনায় আছে, সোহেল নিজেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় দেখিয়েই তিনি প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার করতেন এমন অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো দুর্নীতির অর্থের পাশাপাশি সোহেলের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুঞ্জন। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, তিনি একটি গোপন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। এ অভিযোগগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্তসাপেক্ষ। এখনো কোনো আইনগত প্রমাণ সামনে আসেনি। তবে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কেন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এই প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন, পলাশবাড়ীতে অপরিকল্পিত উন্নয়নের নগ্ন চিত্র, ড্রেনের ভেতর দাঁড়িয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি
প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, যখন নিচের স্তরের কর্মচারী এভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তখন সেটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার লক্ষণ। এই বিষয়ে পিয়ন সোহেল লামার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি শুরু হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্তের ঘোষণা এখনো আসেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীর আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য থাকলে সেটি তদন্তের জন্য যথেষ্ট কারণ। লামা উপজেলার পিয়ন সোহেল লামাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের স্তরেই রয়েছে। তবে অভিযোগের পরিমাণ, ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্ব প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে।
এবিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) এর সাথে একাধিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয় এটি হয়তো এআই দিয়ে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আপনার বক্তব্য নিতে হলে অফিসে এসে নিতে হবে এবং আপনি সাংবাদিক কিনা সেটাতো দেখতে হবে। তবে তিনি একটি ভিডিও বার্তা পঠিয়েছেন সেই ভিডিও বার্তাটির বক্তব্য এমনটাই তাকে হয়তো কেউ চাপ প্রয়োগ করে বক্তব্যটি তৈরি করেছেন। সব মিলিয়ে জেলা প্রশাসকের কথাবার্তায় বিষয়টি নিয়ে অনেকটাই সন্ধেহ।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এখান থেকেই সরকারি সেবা, আইন প্রয়োগ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু যখন এই স্তরেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তখন শুধু একটি অফিস নয়—পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। বান্দরবানের লামা উপজেলায় তেমনই একটি গুরুতর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একজন পিয়ন—সোহেল লামা—তার বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ সব অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইউএনওর নাম ব্যবহার করে তিনি বছরের পর বছর ধরে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অবৈধ তদবির ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে নামে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত।
সরকারি চাকরিতে পিয়নের পদ সাধারণত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মধ্যে পড়ে। নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ সেখানে নেই। কিন্তু লামা উপজেলায় পিয়ন সোহেলের বাস্তব অবস্থান নাকি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়রা অভিযোগ কওে বলেন, সে ছিল ইউএনও অফিসের অলিখিত ‘গেটকিপার’। তার অনুমতি ছাড়া অনেক ফাইল নড়ত না। এভাবে একাধিক সূত্রের দাবি, সোহেল ধীরে ধীরে নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন তিনিই ইউএনও অফিসের মূল যোগাযোগকারী। কোনো ব্যবসায়ী, ইটভাটা মালিক, ভূমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ঠিকাদার—কারও কাজই নাকি তার ম্যানেজ ছাড়া এগোত না। তার বিরুদ্ধে ইটভাটা, পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলন সহযোগীতার চাঁদাবাজির অভিযোগ।
আরও পড়ুন, পলাশবাড়ীর ইউনিক কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাইস্কুলের বার্ষিক ফলাফল প্রকাশ
লামা উপজেলায় ইটভাটা, পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল বিষয়। এসব কার্যক্রমে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সোহেল একটি চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। একজন ইটভাটা মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিমাসে সোহেল নিজের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ইউএনওর জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করত। টাকা না দিলে নোটিশ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখানো হতো। এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে একাধিক ভাটা মালিক একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এসব চাঁদাবাজি ও তদবিরের মাধ্যমে সোহেলের মাসিক আয় দাঁড়াত এক থেকে দেড় লাখ টাকা। সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে এই আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। তবে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো সোহেলের সম্পদের পরিমাণ। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, তার নামে ও পরিবারের নামে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। একজন সরকারি পিয়নের পক্ষে এমন সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে পুরো উপজেলায়।
স্থানীয় মহলে আলোচনায় আছে, সোহেল নিজেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় দেখিয়েই তিনি প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার করতেন এমন অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো দুর্নীতির অর্থের পাশাপাশি সোহেলের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুঞ্জন। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, তিনি একটি গোপন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। এ অভিযোগগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্তসাপেক্ষ। এখনো কোনো আইনগত প্রমাণ সামনে আসেনি। তবে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কেন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এই প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন, পলাশবাড়ীতে অপরিকল্পিত উন্নয়নের নগ্ন চিত্র, ড্রেনের ভেতর দাঁড়িয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি
প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, যখন নিচের স্তরের কর্মচারী এভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তখন সেটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার লক্ষণ। এই বিষয়ে পিয়ন সোহেল লামার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি শুরু হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্তের ঘোষণা এখনো আসেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীর আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য থাকলে সেটি তদন্তের জন্য যথেষ্ট কারণ। লামা উপজেলার পিয়ন সোহেল লামাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের স্তরেই রয়েছে। তবে অভিযোগের পরিমাণ, ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্ব প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে।
এবিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) এর সাথে একাধিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয় এটি হয়তো এআই দিয়ে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আপনার বক্তব্য নিতে হলে অফিসে এসে নিতে হবে এবং আপনি সাংবাদিক কিনা সেটাতো দেখতে হবে। তবে তিনি একটি ভিডিও বার্তা পঠিয়েছেন সেই ভিডিও বার্তাটির বক্তব্য এমনটাই তাকে হয়তো কেউ চাপ প্রয়োগ করে বক্তব্যটি তৈরি করেছেন। সব মিলিয়ে জেলা প্রশাসকের কথাবার্তায় বিষয়টি নিয়ে অনেকটাই সন্ধেহ।

আপনার মতামত লিখুন