জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইটে টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৫ অক্টোবর রাতে চার দিনের সরকারি সফরে ঢাকা ছাড়েন তারেক রহমান। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানো। সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। আরও পড়ুন,২০২৭ সালের নভেম্বরে শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামেও বক্তব্য দেন। সেখানে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সফরের অংশ হিসেবে জাপানের শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শনের কর্মসূচিও ছিল। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া এবং টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শনের সূচিও ছিল তাঁর। সফরে কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়। দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগও আলোচনায় উঠে আসে। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। মেট্রোরেলসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দেশটির সহযোগিতা রয়েছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।