দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

নেত্রকোনায় সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি

নেত্রকোনায় সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি
নেত্রকোনায় সরিষার বাম্পার ফলন

হলুদ ঢেউয়ের  মিতালি ছন্দে মৌ মৌ গন্ধে ভ্রমর ছুটছে মধু আহরণে, মাঠে মাঠে সরিষার বিস্তৃর্ন মাঠ যেন সেজেছে প্রকৃতির হলুদ কন্যায়, দিগন্ত জুড়ে হলুদের বাহার, বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষার ফুলগুলো এ দৃশ্য সকলকেই আকৃষ্ট করছে। উত্তরের জনপদ নেত্রকোনায়  সরিষার আবাদ বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। 

বাজারে তেলের দাম বেশী ও ভেজাল তেলের সয়লাব হওয়ায় এবার সরিষা চাষে ঝুকেছে কৃষক, কৃষিতে খরচ বেড়েছে তাই অল্প জমিতে বেশী ফসল ফলন করার আশায় রোপা আমণ কর্তন ও বোরো ধান আবাদ এর মধ্যবর্তী সময় জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষে প্রস্তুত করে কৃষকরা। স্বল্প খরচ আর কম সময়ে সরিষা চাষে বেশী লাভ। প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার গড়ে ৫ থেকে ৬ মণ হয় । যা ৫/৬ জনের একটি পরিবারের সারা বছরের তেলের চাহিদা পুরণ অতিরিক্ত সরিষা বীজ ও তেল বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। তাছাড়া এর তেলে মেডিসিনাল ভেল্যুও  আছে। সরিষার পাতা জমিতে জৈব পদার্থ  যোগ করে। জৈব সার হিসেবে সরিষার খৈল অনেক গুরুত্ববহন করে। সরিষার খৈল পুকুরে এবং জমিতে ও গবাদিপশুর খাবার হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন, রায়পুরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদন

উন্নত জাতের সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বেড়েছে সরিষা চাষ। প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় বারি-১৪, বারি-১৫, বারি ১৭ ও  বিনা ৯ ও বিনা ১১ জাতের সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। অনেকেই আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ শুরু করেছেন। এরপর আবার বোরো ধান রোপণ করবেন তারা। ফলে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন হচ্ছে ও নিবিড়তা বাড়ছে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সরিষা গাছে ফুল এসেছে অনেক গাছে ফলও এসেছে সরিষা চাষিরা জানান, এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে ৬-৭ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে চলতি বছরে জেলায় সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার ৭শত ৩ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে। 

আরও পড়ুন, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পলাশবাড়ীতে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

জেলার আমতলা, সিংহের বাংলা, ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের কৃষক সমির সহ, মজিবর, সামছুল, হামিদ, হামিদুলসহ অনেকে বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার দ্বি-গুন জমিতে সরিষার আবাদ করেছে তারা, কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন সরকারি প্রণোদনার বীজ পেয়ে বারি ১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন আশা করছেন ফলন ভালো হবে। অন্যান্য কৃষকরা জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে। প্রতি বিঘাতে গড়ে ৫/৬ মণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকা লাভ করা যায়। কম সময়ে কম খরচে বেশী লাভ হয়, সরিষা তোলার পরে বোরো আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে এ জেলায় বারি-১৪, ১৫, ১৭ এবং বিনা ৯ ও ১১ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। 

নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, স্বল্প খরচে, বোরো ও আমনের মাঝে কম সময়ে লাভজনক ফসল এটি। সরকারের কৃষিতে সু-দৃষ্টি রয়েছে, এ বছর জেলায় সরকারী ভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে ১১ হাজার কৃষককে। ভালো বীজ এর পর্যাপ্ততা এবং প্রণোদনা প্রদান ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সরিষা আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে । প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। সরিষা আবাদের ফলে তেলের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সহ সকল উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরী সহায়তা দিতে মাঠে কাজ করছে।

বিষয় : নেত্রকোনা সরিষা কৃষক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


নেত্রকোনায় সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

হলুদ ঢেউয়ের  মিতালি ছন্দে মৌ মৌ গন্ধে ভ্রমর ছুটছে মধু আহরণে, মাঠে মাঠে সরিষার বিস্তৃর্ন মাঠ যেন সেজেছে প্রকৃতির হলুদ কন্যায়, দিগন্ত জুড়ে হলুদের বাহার, বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষার ফুলগুলো এ দৃশ্য সকলকেই আকৃষ্ট করছে। উত্তরের জনপদ নেত্রকোনায়  সরিষার আবাদ বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। 

বাজারে তেলের দাম বেশী ও ভেজাল তেলের সয়লাব হওয়ায় এবার সরিষা চাষে ঝুকেছে কৃষক, কৃষিতে খরচ বেড়েছে তাই অল্প জমিতে বেশী ফসল ফলন করার আশায় রোপা আমণ কর্তন ও বোরো ধান আবাদ এর মধ্যবর্তী সময় জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষে প্রস্তুত করে কৃষকরা। স্বল্প খরচ আর কম সময়ে সরিষা চাষে বেশী লাভ। প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার গড়ে ৫ থেকে ৬ মণ হয় । যা ৫/৬ জনের একটি পরিবারের সারা বছরের তেলের চাহিদা পুরণ অতিরিক্ত সরিষা বীজ ও তেল বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। তাছাড়া এর তেলে মেডিসিনাল ভেল্যুও  আছে। সরিষার পাতা জমিতে জৈব পদার্থ  যোগ করে। জৈব সার হিসেবে সরিষার খৈল অনেক গুরুত্ববহন করে। সরিষার খৈল পুকুরে এবং জমিতে ও গবাদিপশুর খাবার হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন, রায়পুরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদন

উন্নত জাতের সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বেড়েছে সরিষা চাষ। প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় বারি-১৪, বারি-১৫, বারি ১৭ ও  বিনা ৯ ও বিনা ১১ জাতের সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। অনেকেই আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ শুরু করেছেন। এরপর আবার বোরো ধান রোপণ করবেন তারা। ফলে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন হচ্ছে ও নিবিড়তা বাড়ছে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সরিষা গাছে ফুল এসেছে অনেক গাছে ফলও এসেছে সরিষা চাষিরা জানান, এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে ৬-৭ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে চলতি বছরে জেলায় সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার ৭শত ৩ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে। 

আরও পড়ুন, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পলাশবাড়ীতে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

জেলার আমতলা, সিংহের বাংলা, ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের কৃষক সমির সহ, মজিবর, সামছুল, হামিদ, হামিদুলসহ অনেকে বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার দ্বি-গুন জমিতে সরিষার আবাদ করেছে তারা, কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন সরকারি প্রণোদনার বীজ পেয়ে বারি ১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন আশা করছেন ফলন ভালো হবে। অন্যান্য কৃষকরা জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে। প্রতি বিঘাতে গড়ে ৫/৬ মণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকা লাভ করা যায়। কম সময়ে কম খরচে বেশী লাভ হয়, সরিষা তোলার পরে বোরো আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে এ জেলায় বারি-১৪, ১৫, ১৭ এবং বিনা ৯ ও ১১ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। 

নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, স্বল্প খরচে, বোরো ও আমনের মাঝে কম সময়ে লাভজনক ফসল এটি। সরকারের কৃষিতে সু-দৃষ্টি রয়েছে, এ বছর জেলায় সরকারী ভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে ১১ হাজার কৃষককে। ভালো বীজ এর পর্যাপ্ততা এবং প্রণোদনা প্রদান ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সরিষা আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে । প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। সরিষা আবাদের ফলে তেলের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সহ সকল উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরী সহায়তা দিতে মাঠে কাজ করছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত