মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার ধানমণ্ডিতে গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৫। বিকেলে ধানমণ্ডি ৪ নম্বর মাঠে ‘সমৃদ্ধি, শান্তি, ভালোবাসা’ স্লোগান নিয়ে এই মেলা ও উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। পরে রাত ৯টা পর্যন্ত নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মনোজ্ঞ আয়োজন ছিল।
ধানমণ্ডি সোসাইটি আয়োজিত মেলা ও উৎসব উদ্বোধনের পর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শফিউদ্দিন শিল্পালয় আয়োজিত ছাপচিত্র প্রদর্শন, শিশু ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে রিসাইকেল উপকরণ দিয়ে বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন, ধানমণ্ডি সোসাইটির প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং পরিবেশন করা হয়।
সন্ধ্যায় ছিল পাপেট শো ও ম্যাজিক শো। এরপর সংগীত পরিবেশন করে ছায়ানট। একক সংগীতে অংশ নেন রায়হানা মিশু। পরে হয় মিল্টন ও অধরার সংগীতানুষ্ঠান।রাত ৯টায় ব্যান্ড শোতে মঞ্চে ওঠে ‘লিসান অ্যান্ড দ্য ব্লাইন্ডমেন’।ধানমণ্ডি সোসাইটির এক আয়োজক বলেন, ‘বিজয় দিবসের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রতিবেশীদের একত্র করতেই এই আয়োজন। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।’ ধানমণ্ডির বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, ‘এই ধরনের আয়োজন আমাদের সন্তানদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।তারা বইয়ে নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানতে পারছে।’ আরেক বাসিন্দা নাজনীন আক্তার বলেন, ‘পরিবার নিয়ে একসঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি বিজয় দিবসের আবহটা সুন্দরভাবে উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘গ্রামীণ খেলা আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখে আমাদের শৈশবের দিনগুলো মনে পড়ে গেল। ধানমণ্ডি সোসাইটির এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’
আজ সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আয়োজন চলবে। সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। দিনভর থাকছে চিত্রকলা প্রদর্শনী, শিশুদের খেলার আয়োজন এবং ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপ, সাপের খেলা, লাটিম খেলা, বাঁদর নাচ, মার্বেল খেলা, ভাগ্য গণনা, বিস্কুট দৌড়, হাঁড়ি ভাঙা ও রণপার মতো গ্রামীণ খেলা। সকাল ১১টায় শফিউদ্দিন শিল্পালয়ের আয়োজনে শিশুদের ছাপচিত্র কর্মশালা ও চারুকুঠি স্কুলের শিশুদের নৃত্য পরিবেশনা হবে। বিকেলে নাটক ‘মাটির মহাজন’ (আরণ্যক), কবিতা আবৃত্তি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটিকা (ড্যানডেলায়ন্স), সুরভি স্কুলের নৃত্য পরিবেশনা থাকবে।
সন্ধ্যায় সোসাইটির সভাপতির বক্তব্য, প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং পরিবেশন, গুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান, সোসাইটির নিরাপত্তাকর্মীদের উপহার বিতরণ এবং স্পন্সরদের ক্রেস্ট প্রদান করা হবে। রাতে ম্যাজিক শো, ব্যান্ড শো (প্যান্ডোরা ও অবসকিউর), র্যাফেল ড্র এবং আতশবাজির মাধ্যমে উৎসব শেষ হবে।
আপনার মতামত লিখুন