দেশের কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাত হলো অর্থনীতির অন্যতম প্রাণভোমরা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে শিল্পায়ন, রপ্তানি এবং স্থানীয় বাজারের জোগান- সবখানেই এ খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ খাত বর্তমানে সবচেয়ে বড় যে সংকটে পড়েছে, তা হলো ঋণখেলাপি। খেলাপির হারে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ও শরিয়াহ ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপির হার উঠেছে প্রায় সাড়ে ৪৩ শতাংশ। আর শরিয়াহ ব্যাংকের খেলাপির হার প্রায় ৪১ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন- দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সিএমএসএমএই খাতের ভূমিকাই বেশি। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোক্তারা বেশ চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে ব্যবসা সংকোচন, কোভিড-পরবর্তী ধাক্কা, বাজারে অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকের দুর্বল মনিটরিং- সব মিলিয়ে এসএমই উদ্যোক্তাদের অনেকে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে এ খাতেও খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে।
চলতি বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ২৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতে রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৬ দশমিক শূন্য ৯০ শতাংশ। এটি আগের দুই বছরের তুলনায় কম। ২০২৪ সালে মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ছিল সিএমএসএমই খাতে। আর ২০২৩ সালে ছিল ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ।
গত জুন পর্যন্ত সিএমএসএমইতে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে প্রায় ৮৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা বা ২৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর মধ্যে মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণে ১০ কোটি ১ টাকা থেকে ৫০ কোটি পর্যন্ত; খেলাপির হার ৩৮ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর কুটির শিল্প, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের (সিএমএস) ঋণে এই হার ১৬ থেকে ২৬ শতাংশ। একই সময়ে বড় উদ্যোক্তাদের ঋণে (৫০ কোটি টাকার ওপরের ঋণ) খেলাপির হার উঠেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশের কুটির শিল্প, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাত হলো অর্থনীতির অন্যতম প্রাণভোমরা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে শিল্পায়ন, রপ্তানি এবং স্থানীয় বাজারের জোগান- সবখানেই এ খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ খাত বর্তমানে সবচেয়ে বড় যে সংকটে পড়েছে, তা হলো ঋণখেলাপি। খেলাপির হারে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ও শরিয়াহ ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপির হার উঠেছে প্রায় সাড়ে ৪৩ শতাংশ। আর শরিয়াহ ব্যাংকের খেলাপির হার প্রায় ৪১ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন- দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সিএমএসএমএই খাতের ভূমিকাই বেশি। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উদ্যোক্তারা বেশ চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে ব্যবসা সংকোচন, কোভিড-পরবর্তী ধাক্কা, বাজারে অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকের দুর্বল মনিটরিং- সব মিলিয়ে এসএমই উদ্যোক্তাদের অনেকে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে এ খাতেও খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে।
চলতি বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ২৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতে রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৬ দশমিক শূন্য ৯০ শতাংশ। এটি আগের দুই বছরের তুলনায় কম। ২০২৪ সালে মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ছিল সিএমএসএমই খাতে। আর ২০২৩ সালে ছিল ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ।
গত জুন পর্যন্ত সিএমএসএমইতে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে প্রায় ৮৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা বা ২৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর মধ্যে মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণে ১০ কোটি ১ টাকা থেকে ৫০ কোটি পর্যন্ত; খেলাপির হার ৩৮ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর কুটির শিল্প, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের (সিএমএস) ঋণে এই হার ১৬ থেকে ২৬ শতাংশ। একই সময়ে বড় উদ্যোক্তাদের ঋণে (৫০ কোটি টাকার ওপরের ঋণ) খেলাপির হার উঠেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ।

আপনার মতামত লিখুন