দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

পানির অধিকার নিয়ে গুলশানে গোলটেবিল বৈঠক

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে নরম সুরে কথা বলে লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ভারতের নদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানিসম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার ও উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের নদ-নদী ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। ভারত নিজের দেশের রাজ্যগুলোর মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধে জড়ালেও অন্য দেশের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করতে দ্বিধা করছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে শুধু কূটনৈতিক আলোচনা নয়, রাজনৈতিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই নেতা। ১৯৭৭ সালের পানি চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী প্রশ্ন করেন, ওই চুক্তিতে পানির সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তার ধারা থাকলেও ১৯৯৬ সালে তা কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ফারাক্কা ও গজলডোবা দিয়ে উজানের পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশের নদীগুলো ক্রমেই পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আরও পড়ুন,ভোটে স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় ইসিএই পানি শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও দেশের অন্যান্য প্রয়োজনে কাজে লাগানো সম্ভব। পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাব তুলে ধরে তিনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং কৃষি খাত রক্ষায় দ্রুত পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের আহ্বান জানান। নদী ব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী প্রকৌশলী বিএম আব্বাসের গবেষণা এবং ব্রিটিশ আমলের প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্যের সতর্কবার্তার কথাও স্মরণ করেন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে কৃত্রিম হস্তক্ষেপের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অন্যরা। পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, তিস্তা নদী সুরক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশি প্রফেশনালস যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

পানির অধিকার নিয়ে গুলশানে গোলটেবিল বৈঠক