চীনে বন্যা-ভূমিধসে নিহত অন্তত ১০, অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি
দক্ষিণ ও মধ্য চীনে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া প্রায় এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। চীনের আবহাওয়া প্রশাসন মঙ্গলবার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি রেখে জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত ব্যবস্থা এখন সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।আরও পড়ুন, মধ্যপ্রাচ্যে অনলাইন পোস্ট ঘিরে দমন-পীড়ন, বহু গ্রেপ্তার ও সাজাচীনের কেন্দ্রীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খরা ত্রাণ সদরদপ্তর হুনান ও গুয়াংশি অঞ্চলে চতুর্থ স্তরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি হুবেই, চংকিং ও গুইঝৌ প্রদেশেও একই ধরনের সতর্কতা জারি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে জানা গেছে, হুবেই প্রদেশের ৩৩৭টি শহরে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্থানীয় ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।আরও পড়ুন, ৬০ দিনের বদলে ৩০ দিন, বদলাচ্ছে থাইল্যান্ডের ভিসানীতিগুয়াংশি অঞ্চলে একটি পিকআপ ভ্যান পাহাড়ি ঢলের পানিতে পড়ে গেলে ছয় জনের মৃত্যু হয়। হুবেই প্রদেশে আকস্মিক বন্যায় আরও তিন জন এবং দক্ষিণ হুনানে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জিংঝৌ শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক জায়গায় মানুষ হাঁটুসমান পানিতে চলাচল করছে এবং যানবাহন সম্পূর্ণভাবে ডুবে গেছে।আরও পড়ুন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরে ভারত যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট পুতিনপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ুর সংমিশ্রণে এই বিস্তৃত বৃষ্টিপাত তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ আরও সতর্ক করেছে, আগামী দুই দিনে এই দুর্যোগ পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে পারে, ফলে ইয়াংসি নদীর মধ্য ও নিম্ন অববাহিকায় আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।