সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যখন কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্প ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা গেছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। উত্তর পতেঙ্গার পূর্ব হোসেন আহমদপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুটি বড় ময়লার ডাস্টবিন বসানোয় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পতেঙ্গার শত বছরের পুরনো স্টিল মিল বাজার এবং জিএম কলোনি এলাকার দুটি ময়লার ডাস্টবিন অতি সম্প্রতি সরিয়ে নিয়ে এসে বসানো হয়েছে পূর্ব হোসেন আহমদপাড়ার জনবহুল রাস্তার পাশে। ডাস্টবিন দুটির চারপাশ ঘিরে রয়েছে শত শত পরিবারের বসতি। আরও পড়ুন,পেট্রোবাংলার পরিচালক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগএর পাশাপাশি, মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে অবস্থিত কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি পকেট গেট, যা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পোশাক শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই খালপাড় সড়কটি কয়েকটি এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলেও ডাস্টবিন স্থাপনের পর থেকে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ডাস্টবিনের বর্জ্য থেকে অনবরত ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, দুষিত হচ্ছে চারপাশের বাতাস। এর সরাসরি প্রভাবে এলাকায় মশার বিস্তার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা; এলাকার একাধিক পরিবারে শিশু ও বৃদ্ধদের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মশার বংশবৃদ্ধির ফলে ডেঙ্গু মারাত্মক রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় রাত-দিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।যেখানে ডেঙ্গু নিধনে সরকারি তহবিল থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, সেখানে জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকায় উন্মুক্ত ডাস্টবিন বসানোর সিদ্ধান্তকে অদূরদর্শী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করছেন ভুক্তভোগীরা। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে চসিকের নিকট জোর দাবি জানানো হয়েছে— অনতিবিলম্বে ডাস্টবিন দুটি এই আবাসিক এলাকা থেকে অপসারণ করে সুবিধাজনক ও উপযুক্ত অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর করা হোক।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।