দেশকে বন্ধুহীন করতে ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান
রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশকে ‘বন্ধুহীন’ করার লক্ষ্যে নতুন করে ষড়যন্ত্র চলছে। শুক্রবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতের মতো ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও সক্রিয়। ১২ তারিখে তারা সফল না হওয়ায় নতুন করে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ৭২ জন শ্রমিক শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন—স্বৈরাচারী শাসনামলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাত ধ্বংস করা হয়েছিল এবং শ্রমিকদের অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছিল।দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।আরও পড়ুন, তারেক রহমান দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে রক্ষা করেছেন: মির্জা ফখরুলশ্রমিক ও কৃষকদের উন্নয়নকে অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দুই শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নত হলেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, যানজট ও জনদুর্ভোগের কারণে উচ্ছেদ করা হলেও তাদের পুনর্বাসন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান আরও বলেন, ৩১ দফা পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার দেশের উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছে এবং সরকার গঠনের পর থেকেই তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষি ঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড চালুসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।খাল খনন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কৃষকদের সেচ সুবিধা ও সাধারণ মানুষের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় বাংলাদেশ যখন এগিয়েছে, তখন দেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী এবং বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আরও পড়ুন, স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল: তারেক রহমানসবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ অন্যান্য নেতারা।