আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির একটি অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা।নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন প্রার্থীরা। তবে এর পাশাপাশি জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠাও বাড়ছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের অভিযোগে আতঙ্কিত তারা।কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, দৌলতপুর এলাকায় প্রচুর অস্ত্র ঢুকছে। কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনো অনেক অস্ত্র বাইরে রয়েছে। প্রশাসনকে শক্ত হাতে এসব অস্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে হবে।”আরও পড়ুন, মাদারীপুর-১: স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান নুরুদ্দিন মোল্লা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুএদিকে কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দৌলতপুর দিয়ে নানা অবৈধ কার্যক্রম হচ্ছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” শুধু প্রার্থীরাই নন, জেলার সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র সহিংসতা বা ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর উদ্যোগে ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন বলেন, অস্ত্র ব্যবহার করতে আমরা কোনোভাবেই দেব না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই।” জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে মোট ৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৩৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৭টি অস্ত্রের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া গুলির সঠিক হিসাবও এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়ে প্রার্থী ও ভোটাররা বলছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।