কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির এক নেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তার দোকানঘর থেকে ৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।বুধবার (২০ মে) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বোর্ডবাজার এলাকার একটি দোকানঘরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন কবির।আরও পড়ুন, পাঁচবিবি সান্তাগুড়নী স্কুল মাঠে ওয়াল্ড ফেস্টিভ্যাল ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিতঅভিযানে উদ্ধার হওয়া চালগুলো সরকারি ভিজিএফ কর্মসূচির আওতাভুক্ত বলে নিশ্চিত করে প্রশাসন। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম মানিক নোয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এসব চাল গোপনে মজুদ করে আত্মসাতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকার অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু একটি অসাধু চক্র সেই চাল সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছানোর আগেই অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়।আরও পড়ুন, টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের অভিযানে ৩ পরোয়ানাভুক্ত আসামী ও ৪ মাদকসেবী গ্রেফতারঅভিযানকালে দোকানঘরে রাখা ৯ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম মানিককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে তিনি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা বলেন, ুসরকারি খাদ্য সহায়তা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। দরিদ্র মানুষের অধিকার নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা চালগুলো করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি হাফিজিয়া মাদরাসার এতিম শিশুদের খাবারের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।আরও পড়ুন, অবৈধভাবে টিসিবি পণ্য ক্রয় করে নেওয়ার সময় জনতার হাতে আটক ফাতেমাএ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সরকারি সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভিজিএফসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।সরকারি খাদ্য সহায়তা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরিদ্র মানুষের অধিকার রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।