প্রধান ফটকে লেখা “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ” এমন প্রতিশ্রুতি থাকলেও ভিতরের চিত্র ভিন্ন। বন্দী নির্যাতন ও মাদকের ঘটনায় প্রধান ফটকের শ্লোগান যেন ম্লান হতে চলেছে। কারাগারের ভেতরে নয়ন নামের এক কয়েদীকে চোখ বেঁধে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত কারারক্ষী (সিআইডি) মিশু, হযরত ও হাবিব নামের তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে কারাগারের ভেতরে মাদক সরবরাহ ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগও সামনে এসেছে। কারাগারে বন্দীদের মারধর করার আইনী নিয়ম না থাকলেও নয়নকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে এমনই অভিযোগ করেছেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বন্দী। এছাড়াও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে কারাগার থেকে পাঠানো একটি চিঠিও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরিবার ও সহবন্দীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। নয়নকে নির্মম নির্যাতন ও বর্তমানে কারাগারের ভেতরে মাদকের সরবারহ করার তথ্য উঠে এসেছে কারাগার থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া একাধিক বন্দীর কাছ থেকে। কারাগার থেকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বন্দীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ডপ্রাপ্ত নয়ন কারাগারের ভেতরে ঝাড়ুচালির কাজ করেন। গত ২৬ ডিসেম্বর মেডিকেল এলাকার আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় তিনি একটি পোটলা গাঁজা কুড়িয়ে পান। গাঁজার প্রকৃত মালিক বিষয়টি অভিযুক্ত কারারক্ষীদের জানালে তারা কোনো ধরনের তদন্ত বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই ঘটনাস্থলে নয়নকে প্রথম দফায় মারধর করেন। পরবর্তীতে তাকে কেস টেবিলে নিয়ে দ্বিতীয় দফা এবং শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে চোখ বেঁধে তৃতীয় দফায় মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নির্যাতন ছিল পরিকল্পিত এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ।
নির্যাতনের ফলে নয়নের শারীরিক অবস্থা গুরুত্বর হয়ে পড়লেও তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বরং কয়েকদিন পর তার পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়েছে। সহবন্দীদের দাবি, নির্যাতনের পর টানা ৮ থেকে ১০ দিন তিনি ঠিকভাবে হাঁটতে পারেননি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারা আইন ১৮৯৪ ও কারা বিধিমালা অনুযায়ী বন্দীদের শারীরিক নির্যাতনের কোনো বৈধতা নেই। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ধরনের নির্যাতন দন্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি কর্তব্যরত অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করলে অভিযুক্তরা ফৌজদারি ও বিভাগীয় উভয় ধরনের শাস্তির আওতায় পড়বেন। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের আরও অভিযোগ, বর্তমানে মেহেরপুর জেলা কারাগার কার্যত মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও ঘুমের ওষুধ নিয়মিতভাবে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করছে। এই মাদক সরবারহের দায়িত্বে রয়েছেন কারারক্ষী (সিআইডি) মিশু। অনলাইন জুয়ার মামলায় আটক বন্দীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গাঁজা ও ফেনসিডিল সরবরাহের কাজ করেন তিনি এমন অভিযোগ রয়েছে মিশুর বিরুদ্ধে। তিনি কৌশলে ফুয়েল পেপার দিয়ে মুড়িয়ে গাঁজা ও কাশির সিরাপের বোতলে ফেনসিডিল নিয়ে ভিতরে পৌছে দেন। মাদক সরবারহের পাশাপশি তিনি নিজেও তাদের সঙ্গে মাদক সেবন করেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বন্দী। এছাড়াও মেডিকেলের দায়িত্বে থাকা সুকরাত বাইরে থেকে ঘুমের ওষুধ এনে বন্দীদের কাছে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, কারাগার শোধনাগার হলেও সেখানে মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রথম দায়িত্ব। নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলে সেটি শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, মানবিক মর্যাদার ওপরও আঘাত। সরেজমিন কারাগারে গিয়ে অভিযুক্ত হযরত ও মিশুকে পাওয়া যায়নি। তাদের সাথে যোগাযোগের নম্বরও দিতে পারেনি কেউ।
আরও পড়ুন, মাদারীপুরের কালকিনিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা
এবিষয়ে মেহেরপুর জেল সুপার আমান উল্লাহ্ বলেন, নয়নের কাছে মাদক পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া এবং সে নিজে স্বীকার করায় তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। নয়নকে মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অতি উৎসাহী হয়ে কেউ যদি এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রধান ফটকে লেখা “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ” এমন প্রতিশ্রুতি থাকলেও ভিতরের চিত্র ভিন্ন। বন্দী নির্যাতন ও মাদকের ঘটনায় প্রধান ফটকের শ্লোগান যেন ম্লান হতে চলেছে। কারাগারের ভেতরে নয়ন নামের এক কয়েদীকে চোখ বেঁধে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত কারারক্ষী (সিআইডি) মিশু, হযরত ও হাবিব নামের তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে কারাগারের ভেতরে মাদক সরবরাহ ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগও সামনে এসেছে। কারাগারে বন্দীদের মারধর করার আইনী নিয়ম না থাকলেও নয়নকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে এমনই অভিযোগ করেছেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বন্দী। এছাড়াও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে কারাগার থেকে পাঠানো একটি চিঠিও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরিবার ও সহবন্দীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। নয়নকে নির্মম নির্যাতন ও বর্তমানে কারাগারের ভেতরে মাদকের সরবারহ করার তথ্য উঠে এসেছে কারাগার থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া একাধিক বন্দীর কাছ থেকে। কারাগার থেকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বন্দীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ডপ্রাপ্ত নয়ন কারাগারের ভেতরে ঝাড়ুচালির কাজ করেন। গত ২৬ ডিসেম্বর মেডিকেল এলাকার আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় তিনি একটি পোটলা গাঁজা কুড়িয়ে পান। গাঁজার প্রকৃত মালিক বিষয়টি অভিযুক্ত কারারক্ষীদের জানালে তারা কোনো ধরনের তদন্ত বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই ঘটনাস্থলে নয়নকে প্রথম দফায় মারধর করেন। পরবর্তীতে তাকে কেস টেবিলে নিয়ে দ্বিতীয় দফা এবং শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে চোখ বেঁধে তৃতীয় দফায় মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নির্যাতন ছিল পরিকল্পিত এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ।
নির্যাতনের ফলে নয়নের শারীরিক অবস্থা গুরুত্বর হয়ে পড়লেও তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বরং কয়েকদিন পর তার পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়েছে। সহবন্দীদের দাবি, নির্যাতনের পর টানা ৮ থেকে ১০ দিন তিনি ঠিকভাবে হাঁটতে পারেননি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কারা আইন ১৮৯৪ ও কারা বিধিমালা অনুযায়ী বন্দীদের শারীরিক নির্যাতনের কোনো বৈধতা নেই। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ধরনের নির্যাতন দন্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি কর্তব্যরত অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করলে অভিযুক্তরা ফৌজদারি ও বিভাগীয় উভয় ধরনের শাস্তির আওতায় পড়বেন। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের আরও অভিযোগ, বর্তমানে মেহেরপুর জেলা কারাগার কার্যত মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও ঘুমের ওষুধ নিয়মিতভাবে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করছে। এই মাদক সরবারহের দায়িত্বে রয়েছেন কারারক্ষী (সিআইডি) মিশু। অনলাইন জুয়ার মামলায় আটক বন্দীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গাঁজা ও ফেনসিডিল সরবরাহের কাজ করেন তিনি এমন অভিযোগ রয়েছে মিশুর বিরুদ্ধে। তিনি কৌশলে ফুয়েল পেপার দিয়ে মুড়িয়ে গাঁজা ও কাশির সিরাপের বোতলে ফেনসিডিল নিয়ে ভিতরে পৌছে দেন। মাদক সরবারহের পাশাপশি তিনি নিজেও তাদের সঙ্গে মাদক সেবন করেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বন্দী। এছাড়াও মেডিকেলের দায়িত্বে থাকা সুকরাত বাইরে থেকে ঘুমের ওষুধ এনে বন্দীদের কাছে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, কারাগার শোধনাগার হলেও সেখানে মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রথম দায়িত্ব। নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলে সেটি শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, মানবিক মর্যাদার ওপরও আঘাত। সরেজমিন কারাগারে গিয়ে অভিযুক্ত হযরত ও মিশুকে পাওয়া যায়নি। তাদের সাথে যোগাযোগের নম্বরও দিতে পারেনি কেউ।
আরও পড়ুন, মাদারীপুরের কালকিনিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা
এবিষয়ে মেহেরপুর জেল সুপার আমান উল্লাহ্ বলেন, নয়নের কাছে মাদক পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া এবং সে নিজে স্বীকার করায় তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। নয়নকে মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অতি উৎসাহী হয়ে কেউ যদি এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন