ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় তালশহর পৃর্ব ইউনিয়ন তেলীনগর জালাল পুরে ফসলি জমি থেকে নামমাত্র মূল্যে উর্বর মাটি অবৈধ ভেকো ও ট্রাক্ট্রর দিয়ে জমির মাটি কেটে নিচ্ছে বলে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে ভূমিদস্যু বাসির মিয়া, অহিদ মিয়া ও নজরুল মিয়ার নামে । সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে তারা অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে গ্রামের সাধারণ কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। ইটভাটার মালিক ও ভূমি ব্যবসায়ীরা ট্রাক ও ট্রলারে করে নিয়ে যাচ্ছেন ফসলি জমির এই উর্বর মাটি । এতে জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানায় স্থানীয় কৃষক সমাজ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে দেখা গেছে, বহু ফসলি জমিতে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক জমি নিচু হয়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকে । স্থানীয়রা আরও জানান, আগে যেখানে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন করা যেত, এখন সেখানে চাষ করা প্রায় অসম্ভব পড়ছে ।
আরও পড়ুন, গাজীপুরে গণমাধ্যমের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ভুক্তভোগী কৃষক জানান, ফসলি জমির উর্বর মাটি কাটিয়ে ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। “আমি বারবার নিষেধ করেছি, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনে না। আমরা অসহায় কৃষক কোথায় যাব? কার কাছে বিচার চাইব—জানি না ! স্থানীয় একজন শিক্ষক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “দেশের সকল ইট তৈরির দায় মনে হয় সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার, সদর উপজেলাতে যে পরিমাণ ইট ভাটা আমার জানামতে আর কোথাও নেই। পরিবেশবিদরা ’ বলেন, ফসলি জমির টপসয়েল কাটার ফলে শুধু কৃষিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মাটির উর্বরতা হারালে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পায়, জলে পলল সংরক্ষণ দুর্বল হয় এবং কৃষি উৎপাদনে আকস্মিক পতন ঘটে, যা আগামী প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, টপসয়েল ধ্বংস হলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও পরিবর্তিত হয় এবং বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন প্রতিবেশগত সমস্যা অব্যাহত থাকে।
আরও পড়ুন, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত
এ বিষযে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাসির মিয়া, অহিদ মিয়া, নজরুল মিয়া ক্যামেরা সামনে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয় : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জমি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় তালশহর পৃর্ব ইউনিয়ন তেলীনগর জালাল পুরে ফসলি জমি থেকে নামমাত্র মূল্যে উর্বর মাটি অবৈধ ভেকো ও ট্রাক্ট্রর দিয়ে জমির মাটি কেটে নিচ্ছে বলে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে ভূমিদস্যু বাসির মিয়া, অহিদ মিয়া ও নজরুল মিয়ার নামে । সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে তারা অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে গ্রামের সাধারণ কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। ইটভাটার মালিক ও ভূমি ব্যবসায়ীরা ট্রাক ও ট্রলারে করে নিয়ে যাচ্ছেন ফসলি জমির এই উর্বর মাটি । এতে জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানায় স্থানীয় কৃষক সমাজ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে দেখা গেছে, বহু ফসলি জমিতে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক জমি নিচু হয়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকে । স্থানীয়রা আরও জানান, আগে যেখানে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন করা যেত, এখন সেখানে চাষ করা প্রায় অসম্ভব পড়ছে ।
আরও পড়ুন, গাজীপুরে গণমাধ্যমের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ভুক্তভোগী কৃষক জানান, ফসলি জমির উর্বর মাটি কাটিয়ে ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। “আমি বারবার নিষেধ করেছি, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনে না। আমরা অসহায় কৃষক কোথায় যাব? কার কাছে বিচার চাইব—জানি না ! স্থানীয় একজন শিক্ষক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “দেশের সকল ইট তৈরির দায় মনে হয় সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার, সদর উপজেলাতে যে পরিমাণ ইট ভাটা আমার জানামতে আর কোথাও নেই। পরিবেশবিদরা ’ বলেন, ফসলি জমির টপসয়েল কাটার ফলে শুধু কৃষিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মাটির উর্বরতা হারালে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পায়, জলে পলল সংরক্ষণ দুর্বল হয় এবং কৃষি উৎপাদনে আকস্মিক পতন ঘটে, যা আগামী প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, টপসয়েল ধ্বংস হলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও পরিবর্তিত হয় এবং বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন প্রতিবেশগত সমস্যা অব্যাহত থাকে।
আরও পড়ুন, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত
এ বিষযে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাসির মিয়া, অহিদ মিয়া, নজরুল মিয়া ক্যামেরা সামনে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন