দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বাংলাদেশ-চীনকে নজরে রাখতে ভারতীয় নৌবাহিনী হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করছে

বাংলাদেশ-চীনকে নজরে রাখতে ভারতীয় নৌবাহিনী হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করছে
ভারতীয় নৌবাহিনী হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করছে

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ এ খবর দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশের অনেক সিদ্ধান্ত-পদক্ষেপই এক তরফা ভারতের অনুকূলে যেত।

তবে এখন ঢাকা চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। ন্যায্যতা চাইছে সব ধরনের সম্পর্কে। এর মধ্যে দীর্ঘকাল শীতল থাকা বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ঢাকার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে চীনেরও সঙ্গে। ফলে এতদ-অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের নতুন প্রেক্ষাপটে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হলদিয়ার এই স্থাপনাটি পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি নয়; বরং এটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এখানে মূলত ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে।

বিদ্যমান হালদিয়া ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করেই ঘাঁটিটি দ্রুত কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি বিশেষ জেটি ও প্রয়োজনীয় উপকূলীয় পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে। নতুন এই ঘাঁটিতে ‘ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট’ এবং ৩০০ টন ওজনের ‘নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট’ মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব নৌযান ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। এগুলোতে সিআরএন-৯১ কামান থাকছে এবং ভবিষ্যতে নাগাস্ত্রার মতো টহলদারি যান যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা নজরদারি ও আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াবে।

ভারত–বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলের অগভীর জলরাশি ও বেশি নৌযান চলাচলের কারণে দ্রুতগতির এই নৌযানগুলো নজরদারি, প্রতিরোধ ও আটক কার্যক্রমে বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। চীনের নৌবহর সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে দেশটির অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হলদিয়ার এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন, পোপ লিও ইরান–সিরিয়ার সংঘাতে শান্তি ও সংলাপের আহ্বান

হলদিয়ার এই নৌস্থাপনাটি আকারে তুলনামূলক ছোট হবে। এখানে প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক অবস্থান করবেন। এটি কোনো স্বতন্ত্র নৌকমান্ড হিসেবে কাজ করবে না। তবে কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান হওয়ায় এবং হুগলি নদীপথের দীর্ঘ যাত্রা এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুবিধা থাকায় এটি কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের পূর্ব উপকূলে বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হালদিয়ার জন্য জমি আগেই নির্ধারিত ছিল, তবে নানা কারণে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হচ্ছিল।

এই উদ্যোগ ভারতীয় নৌবাহিনীর বৃহত্তর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল ১২০টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট ও ৩১টি নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট কেনার অনুমোদন দেয়। প্রায় ১০০ টন ওজনের এসব নৌযানে সাধারণত ১০ থেকে ১২ জন সদস্য কাজ করতে পারেন। উপকূলীয় টহল, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, বন্দর নিরাপত্তা ও বিশেষ অভিযানে এসব নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিষয় : ভারত বাংলাদেশ নৌঘাঁটি যুদ্ধজাহাজ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


বাংলাদেশ-চীনকে নজরে রাখতে ভারতীয় নৌবাহিনী হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করছে

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ এ খবর দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশের অনেক সিদ্ধান্ত-পদক্ষেপই এক তরফা ভারতের অনুকূলে যেত।

তবে এখন ঢাকা চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। ন্যায্যতা চাইছে সব ধরনের সম্পর্কে। এর মধ্যে দীর্ঘকাল শীতল থাকা বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ঢাকার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে চীনেরও সঙ্গে। ফলে এতদ-অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের নতুন প্রেক্ষাপটে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হলদিয়ার এই স্থাপনাটি পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি নয়; বরং এটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এখানে মূলত ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে।

বিদ্যমান হালদিয়া ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করেই ঘাঁটিটি দ্রুত কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি বিশেষ জেটি ও প্রয়োজনীয় উপকূলীয় পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে। নতুন এই ঘাঁটিতে ‘ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট’ এবং ৩০০ টন ওজনের ‘নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট’ মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব নৌযান ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। এগুলোতে সিআরএন-৯১ কামান থাকছে এবং ভবিষ্যতে নাগাস্ত্রার মতো টহলদারি যান যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা নজরদারি ও আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াবে।

ভারত–বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলের অগভীর জলরাশি ও বেশি নৌযান চলাচলের কারণে দ্রুতগতির এই নৌযানগুলো নজরদারি, প্রতিরোধ ও আটক কার্যক্রমে বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। চীনের নৌবহর সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে দেশটির অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হলদিয়ার এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন, পোপ লিও ইরান–সিরিয়ার সংঘাতে শান্তি ও সংলাপের আহ্বান

হলদিয়ার এই নৌস্থাপনাটি আকারে তুলনামূলক ছোট হবে। এখানে প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক অবস্থান করবেন। এটি কোনো স্বতন্ত্র নৌকমান্ড হিসেবে কাজ করবে না। তবে কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান হওয়ায় এবং হুগলি নদীপথের দীর্ঘ যাত্রা এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুবিধা থাকায় এটি কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের পূর্ব উপকূলে বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হালদিয়ার জন্য জমি আগেই নির্ধারিত ছিল, তবে নানা কারণে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হচ্ছিল।

এই উদ্যোগ ভারতীয় নৌবাহিনীর বৃহত্তর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল ১২০টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট ও ৩১টি নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট কেনার অনুমোদন দেয়। প্রায় ১০০ টন ওজনের এসব নৌযানে সাধারণত ১০ থেকে ১২ জন সদস্য কাজ করতে পারেন। উপকূলীয় টহল, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, বন্দর নিরাপত্তা ও বিশেষ অভিযানে এসব নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত