দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার আগের মতো উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নয়। স্বচ্ছতা ও সরকারি তদারকির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।নতুন ব্যবস্থার শুরুতেই ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের বিমানভাড়া ও অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যয়ও বহন করতে হবে না।প্রথম ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে কর্মীদের পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সরকার বলছে এবার শুধু কর্মী পাঠানো নয় দক্ষ ও ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কর্মী তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া কিংবা ভাষাগত সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচিত হয়েছে।
আড়ও পড়ুন,নরমাল শহরে কিছুই স্বাভাবিক নয়
এর পাশাপাশি আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠান সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। সরকারি বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে।এবারের ব্যবস্থায় আগের মতো সীমিতসংখ্যক এজেন্সির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।তবে আবেদন ও কর্মী বাছাই থেকে শুরু করে নিয়োগের খাত এবং যাত্রার তারিখসহ বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া থেকে কর্মপ্রত্যাশীদের বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতাও এবার বড় সতর্কবার্তা। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশিদের জন্য বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়।এবার ১০ হাজার কর্মীর শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের উদ্যোগ তাই কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।শ্রমবাজার দ্রুত চালুর পাশাপাশি মেডিকেল কার্যক্রমেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়া অনুমোদিত ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।সব মিলিয়ে দীর্ঘ বন্ধের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে প্রকৃত চাকরি নিরাপদ কর্মপরিবেশ ন্যায্য বেতন এবং দালালমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার আগের মতো উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নয়। স্বচ্ছতা ও সরকারি তদারকির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।নতুন ব্যবস্থার শুরুতেই ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের বিমানভাড়া ও অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যয়ও বহন করতে হবে না।প্রথম ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে কর্মীদের পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সরকার বলছে এবার শুধু কর্মী পাঠানো নয় দক্ষ ও ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কর্মী তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া কিংবা ভাষাগত সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচিত হয়েছে।
আড়ও পড়ুন,নরমাল শহরে কিছুই স্বাভাবিক নয়
এর পাশাপাশি আরও ৩১২টি প্রতিষ্ঠান সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। সরকারি বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে।এবারের ব্যবস্থায় আগের মতো সীমিতসংখ্যক এজেন্সির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।তবে আবেদন ও কর্মী বাছাই থেকে শুরু করে নিয়োগের খাত এবং যাত্রার তারিখসহ বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া থেকে কর্মপ্রত্যাশীদের বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতাও এবার বড় সতর্কবার্তা। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশিদের জন্য বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়।এবার ১০ হাজার কর্মীর শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের উদ্যোগ তাই কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।শ্রমবাজার দ্রুত চালুর পাশাপাশি মেডিকেল কার্যক্রমেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়া অনুমোদিত ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।সব মিলিয়ে দীর্ঘ বন্ধের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে প্রকৃত চাকরি নিরাপদ কর্মপরিবেশ ন্যায্য বেতন এবং দালালমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর।

আপনার মতামত লিখুন