ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে গোষ্ঠীটি।বৃহস্পতিবার ইয়েমেন সরকারের সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে শহর ও বন্দর নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথিরা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কয়েক দিন ধরে মোখায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র স্থলযুদ্ধ চলছিল। শেষ পর্যন্ত সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা।কৌশলগত দিক থেকে মোখার গুরুত্ব অনেক। শহরটি বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে ৫০ মাইলেরও কম দূরে। লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই প্রণালি।বিশ্লেষকদের মতে মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ফলে এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা বাড়তে পারে হুথিদের। একই সঙ্গে লোহিত সাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বিস্তারের সুযোগও তৈরি হতে পারে।মোখা দখলের খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের বেশি উঠে যায়।
আরও পড়ুন,চীনে মেরামতাধীন কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন নিহত ২০
কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের দাম।ইয়েমেনবিষয়ক গবেষকদের মতে মোখা দখল সাম্প্রতিক বছরগুলোর সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়। হুথিরা আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।তবে হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সমুদ্রপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রয়েছে। তাদের দাবি পশ্চিম ইয়েমেনে চলমান সংঘর্ষও শেষ হয়েছে।মোখা আগে ইয়েমেন সরকারের মিত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারেক সালেহর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। হুথিদের অগ্রযাত্রার পর তিনি বাহিনী পুনর্গঠন এবং বিকল্প কমান্ড সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।এদিকে হুথিরা বলছে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। ভূখণ্ড সম্প্রসারণ তাদের উদ্দেশ্য নয়।তবে মোখা দখলের পর ইয়েমেন সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে গোষ্ঠীটি।বৃহস্পতিবার ইয়েমেন সরকারের সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে শহর ও বন্দর নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথিরা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কয়েক দিন ধরে মোখায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র স্থলযুদ্ধ চলছিল। শেষ পর্যন্ত সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা।কৌশলগত দিক থেকে মোখার গুরুত্ব অনেক। শহরটি বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে ৫০ মাইলেরও কম দূরে। লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই প্রণালি।বিশ্লেষকদের মতে মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ফলে এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা বাড়তে পারে হুথিদের। একই সঙ্গে লোহিত সাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বিস্তারের সুযোগও তৈরি হতে পারে।মোখা দখলের খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের বেশি উঠে যায়।
আরও পড়ুন,চীনে মেরামতাধীন কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন নিহত ২০
কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের দাম।ইয়েমেনবিষয়ক গবেষকদের মতে মোখা দখল সাম্প্রতিক বছরগুলোর সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়। হুথিরা আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।তবে হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সমুদ্রপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রয়েছে। তাদের দাবি পশ্চিম ইয়েমেনে চলমান সংঘর্ষও শেষ হয়েছে।মোখা আগে ইয়েমেন সরকারের মিত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারেক সালেহর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। হুথিদের অগ্রযাত্রার পর তিনি বাহিনী পুনর্গঠন এবং বিকল্প কমান্ড সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।এদিকে হুথিরা বলছে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। ভূখণ্ড সম্প্রসারণ তাদের উদ্দেশ্য নয়।তবে মোখা দখলের পর ইয়েমেন সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন