দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছিনতাই ঠেকাতে দ্রুত বিচার আইনে কঠোর হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

ছিনতাই ঠেকাতে দ্রুত বিচার আইনে কঠোর হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। ছিনতাইয়ের মামলায় আসামিদের জামিন ঠেকাতে তৎপর আইনজীবীরা। পাশাপাশি দণ্ডবিধির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ প্রয়োগকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একদিকে চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, অন্যদিকে আদালতে ছিনতাই মামলার আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকি জানিয়েছেন, ছিনতাই প্রতিরোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিচারকরাও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ছিনতাইয়ের মামলায় আসামিদের জামিন ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।তবে মামলা শক্তিশালী করতে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।তাদের মতে, ভাসমান সাক্ষীর পরিবর্তে ঘটনাস্থলের স্থায়ী বাসিন্দাদের সাক্ষী করা গেলে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি সাক্ষীদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও  পড়ুন, ২৪ সেপ্টেম্বরের পর আর নয়, ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময়সীমা

আইনজীবীদের মতে, সরকারি সাক্ষীদের যাতায়াত খরচ দ্রুত পরিশোধ করা হলে আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি বাড়বে। এতে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে মামলার বিচার এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।ছিনতাই প্রতিরোধে দণ্ডবিধির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত বিচার ও কার্যকর সাক্ষ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করা গেলে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ছিনতাইকারী পেশাদার এবং অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জামিনে বের হয়ে তারা আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি পুলিশের।এ কারণে ছিনতাইয়ের মামলাগুলো নিয়মিত আইনের পাশাপাশি দ্রুত বিচার আইনেও দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছিনতাইয়ের শিকার হলে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে কল করার পাশাপাশি থানায় মামলা করা জরুরি।আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারায় চুরি বা চুরির উদ্দেশ্যে আঘাত, আঘাতের চেষ্টা কিংবা অবৈধভাবে আটক করার ঘটনাকে দস্যুতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।দস্যুতার ঘটনায় বিভিন্ন ধারায় কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অপরদিকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২-এর আওতায় ছিনতাইকেও আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।এই আইনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিষয় : আইনশৃঙ্খলা ছিনতাই আইনে কঠোর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ছিনতাই ঠেকাতে দ্রুত বিচার আইনে কঠোর হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। ছিনতাইয়ের মামলায় আসামিদের জামিন ঠেকাতে তৎপর আইনজীবীরা। পাশাপাশি দণ্ডবিধির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ প্রয়োগকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একদিকে চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, অন্যদিকে আদালতে ছিনতাই মামলার আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকি জানিয়েছেন, ছিনতাই প্রতিরোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিচারকরাও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ছিনতাইয়ের মামলায় আসামিদের জামিন ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।তবে মামলা শক্তিশালী করতে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।তাদের মতে, ভাসমান সাক্ষীর পরিবর্তে ঘটনাস্থলের স্থায়ী বাসিন্দাদের সাক্ষী করা গেলে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি সাক্ষীদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও  পড়ুন, ২৪ সেপ্টেম্বরের পর আর নয়, ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময়সীমা

আইনজীবীদের মতে, সরকারি সাক্ষীদের যাতায়াত খরচ দ্রুত পরিশোধ করা হলে আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি বাড়বে। এতে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে মামলার বিচার এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।ছিনতাই প্রতিরোধে দণ্ডবিধির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত বিচার ও কার্যকর সাক্ষ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করা গেলে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ছিনতাইকারী পেশাদার এবং অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জামিনে বের হয়ে তারা আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি পুলিশের।এ কারণে ছিনতাইয়ের মামলাগুলো নিয়মিত আইনের পাশাপাশি দ্রুত বিচার আইনেও দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছিনতাইয়ের শিকার হলে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে কল করার পাশাপাশি থানায় মামলা করা জরুরি।আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারায় চুরি বা চুরির উদ্দেশ্যে আঘাত, আঘাতের চেষ্টা কিংবা অবৈধভাবে আটক করার ঘটনাকে দস্যুতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।দস্যুতার ঘটনায় বিভিন্ন ধারায় কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অপরদিকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২-এর আওতায় ছিনতাইকেও আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।এই আইনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত