পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন ঘটনায় সামনে এসেছে পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, মাদকাসক্তি, চুরি ও আর্থিক সংকটের মতো কারণ। তবে বেশ কিছু ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।পুলিশের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারা দেশে ২ হাজার ৭৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। তবে এসব মামলার মধ্যে পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান নেই।সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ঢাকার আশুলিয়ায়। ৫ সেপ্টেম্বর মধ্য জামগড়ার একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় এক দম্পতির পচাগলা মরদেহ। নিহত আলমগীর হোসেন ও নাজমা আক্তারের মধ্যে নাজমা ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।এর আগে রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে অগমী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী।পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যার কথা বলা হলেও, শুধু এই কারণ দিয়ে পরিবারের চার সদস্য হত্যার পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।একই পরিবারের একাধিক সদস্য হত্যার এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক কিছু কারণ সামনে এলেও তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে পারে ঘটনার চিত্র।
আরও পড়ুন, জাতীয় সংসদে গঠিত হলো চার স্থায়ী কমিটি
ফলে পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্যের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উদ্দেশ্য শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শাহিনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। হামলায় চারজনই নিহত হন। হামলাকারী পালানোর সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে এবং গণপিটুনিতে মারা যান। ফলে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের সুযোগও সীমিত হয়ে যায়।২৫ জুলাই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ব্যবসায়ী স্বপন দাশগুপ্ত ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্তকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁদের একমাত্র ছেলে রিমনের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরি নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ সামনে এলেই সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসতে পারে ঘটনার প্রকৃত কারণ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হকের মতে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক কারণ আলাদা হলেও এর পেছনে বৃহত্তর সামাজিক ও কাঠামোগত সংকট কাজ করছে। পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা ও প্রতিশোধপরায়ণতা এসব অপরাধে ভূমিকা রাখছে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন ঘটনায় সামনে এসেছে পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, মাদকাসক্তি, চুরি ও আর্থিক সংকটের মতো কারণ। তবে বেশ কিছু ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।পুলিশের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারা দেশে ২ হাজার ৭৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। তবে এসব মামলার মধ্যে পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান নেই।সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ঢাকার আশুলিয়ায়। ৫ সেপ্টেম্বর মধ্য জামগড়ার একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় এক দম্পতির পচাগলা মরদেহ। নিহত আলমগীর হোসেন ও নাজমা আক্তারের মধ্যে নাজমা ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।এর আগে রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে অগমী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী।পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যার কথা বলা হলেও, শুধু এই কারণ দিয়ে পরিবারের চার সদস্য হত্যার পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।একই পরিবারের একাধিক সদস্য হত্যার এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক কিছু কারণ সামনে এলেও তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে পারে ঘটনার চিত্র।
আরও পড়ুন, জাতীয় সংসদে গঠিত হলো চার স্থায়ী কমিটি
ফলে পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তথ্যের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উদ্দেশ্য শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শাহিনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। হামলায় চারজনই নিহত হন। হামলাকারী পালানোর সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে এবং গণপিটুনিতে মারা যান। ফলে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের সুযোগও সীমিত হয়ে যায়।২৫ জুলাই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ব্যবসায়ী স্বপন দাশগুপ্ত ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্তকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁদের একমাত্র ছেলে রিমনের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরি নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ সামনে এলেই সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসতে পারে ঘটনার প্রকৃত কারণ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হকের মতে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক কারণ আলাদা হলেও এর পেছনে বৃহত্তর সামাজিক ও কাঠামোগত সংকট কাজ করছে। পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা ও প্রতিশোধপরায়ণতা এসব অপরাধে ভূমিকা রাখছে।

আপনার মতামত লিখুন