আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের অলিগলিতে প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণায় ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী আমেজ। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ নয়-নরসিংদীর অধিকাংশ আসনে গড়ে উঠেছে বিএনপি বনাম স্বতন্ত্র, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোটগত ত্রিমুখী লড়াই। রাজধানীর নিকটবর্তী জেলা হওয়ায় নরসিংদী বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়া তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবার নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রার্থীরাও দিন-রাত নির্ঘুম পরিশ্রম করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। ১ ও ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। আজ নরসিংদী বাকি তিনটি আসনের যাচাই বাছাই শেষ হবে।
১৯৯ নরসিংদী-১ (সদর): - আসনটিতে স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে এ আসনে জয় পেলেও এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খাইরুল কবির খোকন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ আশরাফ হোসেন ভূইয়া, গণঅধিকার পরিষদ শিরিন আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ হামিদুল হক পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সাখাওয়াত হোসেন, জাতীয় পার্টি মোহাম্মদ মোস্তফা জামান, গণফোরাম শহিদুজ্জামান চৌধুরী,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহম্মেদ মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন।
২০০ নরসিংদী-২ (পলাশ): বিএনপির ‘দুর্গ’ পুনরুদ্ধারের লড়াই। আসনটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম সারোয়ার তুষার-এর সঙ্গে। ইতিহাসে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও সাম্প্রতি নির্বাচন গুলোতে আওয়ামী লীগ এখানে ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়েছে। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহম্মেদ, ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোঃ ফারুক ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির এ. ন. ম রফিকুল আলম সেলিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জামায়াতের প্রার্থী আমজাদ হোসেন জানান,“আমাদের প্রচার জোরদার হচ্ছে, ভোটাররা ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন।
২০১ নরসিংদী-৩ (শিবপুর): - আসনটিতে বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহীর বিপরীতে রয়েছেন বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম মৃধা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি জেলার সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি আসন হতে যাচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়েতী ইসলামী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব, জাকের পার্টি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান, ইনসানিয়াত বিপ্লব রায়হান মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ ওয়ারেজ হোসেন ভূইয়া, জাতীয় পার্টি করিম এ কে এম রেজাউল, গণফোরাম এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, জনতার দল মোঃ এনামুল হকসহ মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। ২০২ নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব): -এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. জাহাঙ্গীর আলম। টানা চার মেয়াদে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ায় এবার আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ ছাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জনতার দল আবু দার্দা মোঃ মাজ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি কাজী সাজ্জাদ জহির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মুহাম্মদ মিলন মিয়া, জাতীয় পার্টি মোঃ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ কংগ্রেস কাজী শফিকুল ইসলামসহ মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ গত চার নির্বাচনে টানা বিজয়ী ছিল, ফলে এবার জমে উঠছে ভিন্ন রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিএনপির পূণরোদ্ধারের আসন।
আরও পড়ুন, সাতক্ষীরায় বিএনপি জামায়াতের সকল প্রার্থীসহ মোট চারটি আসনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ
২০৩ নরসিংদী-৫ (রায়পুরা): চতুর্মুখী লড়াই এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে জটিল। বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র জামাল আহাম্মদ চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের বদরুজ্জামান উজ্জ্বল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান জামাতের সাবেক নেতা মুহাম্মদ পনির হোসেনে বিভক্ত ভোট। এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ তাজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মোঃ সোলায়মান খন্দকার, স্বতন্ত্র মো: গোলাপ মিয়া,জাতীয় পার্টি মেহেরুন নেছা খান হেনা, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মশিউর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ তাহমিনা আক্তারসহ মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান পক্ষে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সানাউল্লাহ মনোনয়ন জমা দেন। তিনি আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এ আসন থেকে গত কয়েক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্য,রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত নাম। জেলা জোরে তাকে গিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা সমালোচনার চলছে। পাশাপাশি জামাতের প্রার্থী ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের জোটে প্রার্থীতা ছেড়ে দেন। গত ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর দীর্ঘ ২২ বছরের আধিপত্য শেষে এবার রায়পুরায় লড়াই জমেছে তিন দিকেই। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বড় লড়াই হবে বিএনপি বনাম ইসলামি আন্দোলন, জামাত, স্বতন্ত্র।
গৃহিণী সুহেরা আক্তার বলেন, অনেক দিন পরে ভোটের মাঠে উত্তেজনা উত্তাপ দেখছি। প্রার্থী কর্মীসমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি এসে নারী ভোটারদের গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। যুগ্য সৎ আদর্শবান প্রতিশ্রুতিশীল জনবান্ধন কে ভোট দেব।”তরুণ ভোটার সাইফুল ইসলাম জানান,“আমাদের জন্য কর্মসংস্থান ও আইসিটি সেক্টরে সুযোগ এসবই হবে ভোটের মূল ইস্যু। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান কথা যারা চিন্তা করে তাদেরকে ভোট দেব।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটাররা এবারের নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বিএনপি,জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। গত তিন দশকের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে নরসিংদীর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। তরুণ ভোটার এ নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের অলিগলিতে প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণায় ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী আমেজ। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ নয়-নরসিংদীর অধিকাংশ আসনে গড়ে উঠেছে বিএনপি বনাম স্বতন্ত্র, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোটগত ত্রিমুখী লড়াই। রাজধানীর নিকটবর্তী জেলা হওয়ায় নরসিংদী বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়া তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবার নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রার্থীরাও দিন-রাত নির্ঘুম পরিশ্রম করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। ১ ও ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। আজ নরসিংদী বাকি তিনটি আসনের যাচাই বাছাই শেষ হবে।
১৯৯ নরসিংদী-১ (সদর): - আসনটিতে স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে এ আসনে জয় পেলেও এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খাইরুল কবির খোকন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. ইব্রাহিম ভূঁইয়া এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ আশরাফ হোসেন ভূইয়া, গণঅধিকার পরিষদ শিরিন আক্তার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ হামিদুল হক পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সাখাওয়াত হোসেন, জাতীয় পার্টি মোহাম্মদ মোস্তফা জামান, গণফোরাম শহিদুজ্জামান চৌধুরী,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহম্মেদ মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন।
২০০ নরসিংদী-২ (পলাশ): বিএনপির ‘দুর্গ’ পুনরুদ্ধারের লড়াই। আসনটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম সারোয়ার তুষার-এর সঙ্গে। ইতিহাসে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও সাম্প্রতি নির্বাচন গুলোতে আওয়ামী লীগ এখানে ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়েছে। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহম্মেদ, ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোঃ ফারুক ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির এ. ন. ম রফিকুল আলম সেলিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জামায়াতের প্রার্থী আমজাদ হোসেন জানান,“আমাদের প্রচার জোরদার হচ্ছে, ভোটাররা ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন।
২০১ নরসিংদী-৩ (শিবপুর): - আসনটিতে বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহীর বিপরীতে রয়েছেন বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম মৃধা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি জেলার সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি আসন হতে যাচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়েতী ইসলামী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব, জাকের পার্টি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান, ইনসানিয়াত বিপ্লব রায়হান মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ ওয়ারেজ হোসেন ভূইয়া, জাতীয় পার্টি করিম এ কে এম রেজাউল, গণফোরাম এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, জনতার দল মোঃ এনামুল হকসহ মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। ২০২ নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব): -এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. জাহাঙ্গীর আলম। টানা চার মেয়াদে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ায় এবার আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ ছাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জনতার দল আবু দার্দা মোঃ মাজ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি কাজী সাজ্জাদ জহির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মুহাম্মদ মিলন মিয়া, জাতীয় পার্টি মোঃ কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ কংগ্রেস কাজী শফিকুল ইসলামসহ মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ গত চার নির্বাচনে টানা বিজয়ী ছিল, ফলে এবার জমে উঠছে ভিন্ন রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিএনপির পূণরোদ্ধারের আসন।
আরও পড়ুন, সাতক্ষীরায় বিএনপি জামায়াতের সকল প্রার্থীসহ মোট চারটি আসনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ
২০৩ নরসিংদী-৫ (রায়পুরা): চতুর্মুখী লড়াই এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে জটিল। বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র জামাল আহাম্মদ চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের বদরুজ্জামান উজ্জ্বল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান জামাতের সাবেক নেতা মুহাম্মদ পনির হোসেনে বিভক্ত ভোট। এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ তাজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মোঃ সোলায়মান খন্দকার, স্বতন্ত্র মো: গোলাপ মিয়া,জাতীয় পার্টি মেহেরুন নেছা খান হেনা, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মশিউর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ তাহমিনা আক্তারসহ মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান পক্ষে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সানাউল্লাহ মনোনয়ন জমা দেন। তিনি আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এ আসন থেকে গত কয়েক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্য,রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত নাম। জেলা জোরে তাকে গিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা সমালোচনার চলছে। পাশাপাশি জামাতের প্রার্থী ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের জোটে প্রার্থীতা ছেড়ে দেন। গত ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর দীর্ঘ ২২ বছরের আধিপত্য শেষে এবার রায়পুরায় লড়াই জমেছে তিন দিকেই। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বড় লড়াই হবে বিএনপি বনাম ইসলামি আন্দোলন, জামাত, স্বতন্ত্র।
গৃহিণী সুহেরা আক্তার বলেন, অনেক দিন পরে ভোটের মাঠে উত্তেজনা উত্তাপ দেখছি। প্রার্থী কর্মীসমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি এসে নারী ভোটারদের গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। যুগ্য সৎ আদর্শবান প্রতিশ্রুতিশীল জনবান্ধন কে ভোট দেব।”তরুণ ভোটার সাইফুল ইসলাম জানান,“আমাদের জন্য কর্মসংস্থান ও আইসিটি সেক্টরে সুযোগ এসবই হবে ভোটের মূল ইস্যু। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান কথা যারা চিন্তা করে তাদেরকে ভোট দেব।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটাররা এবারের নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বিএনপি,জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। গত তিন দশকের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে নরসিংদীর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। তরুণ ভোটার এ নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন