দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আপডেট : রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে নতুন কূপ খননে জোর

৫২ নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ : শেষ হয়নি একটিও।
৫২ নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ : শেষ হয়নি একটিও।
ছবি: ৫২ নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ : শেষ হয়নি একটিও।

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে ৫২টি নতুন গ্যাসকূপ খননের দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। তবে এ পর্যায়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) দায়িত্বে থাকা ৫২টি কূপের একটিরও খননকাজ শেষ হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনায় ১০৪টি নতুন কূপ খনন এবং পুরনো ৪৬টি কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর চাপ কমার পাশাপাশি শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৭১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

আরও পড়ুন,জ্বালানি খাতে আগ্রহ: এলএনজি সরবরাহ ও তেল-গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়নে রাশিয়ার প্রস্তাব

 ফলে প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে মোট সরবরাহের প্রায় ৪১ শতাংশ আসছে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সরবরাহ করছে প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং দেশীয় সরকারি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন প্রায় ২৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও সরকারের ভর্তুকির চাপও বেড়ে যায়। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে বাপেক্সের দায়িত্বে রয়েছে ৫২টি নতুন কূপ খনন এবং ১৬টি পুরনো কূপ ওয়ার্কওভার। এ পর্যায়ের বাস্তবায়নকাল ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। অথচ এখনো কোনো কূপের খননকাজ শেষ না হওয়ায় সময়মতো লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন কূপ খনন করলেই গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না। অনুসন্ধান, আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মূল্যায়ন, উন্নয়ন কূপ খনন এবং পুরনো কূপ সংস্কারের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে বাপেক্সের আধুনিক খননযন্ত্র, প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

আরও পড়ুন,গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ থামায় কারখানায় প্রাণচাঞ্চল্য

 নতুন কূপে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য উৎপাদনব্যবস্থা, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও পাইপলাইন প্রয়োজন। কোথাও কম্প্রেসার স্থাপনেরও প্রয়োজন হতে পারে। এসব অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকলে আবিষ্কৃত গ্যাস দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, অব্যবহৃত এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রতিটি কূপের খননসূচি, ব্যয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশের পাশাপাশি নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শেষ পর্যন্ত কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে কতটি কূপে বাণিজ্যিক গ্যাস পাওয়া গেল, উৎপাদন কতটা বাড়ল এবং সেই গ্যাস কত দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেল তার ওপর।

বিষয় : কূপ খননে জোর

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে নতুন কূপ খননে জোর

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে ৫২টি নতুন গ্যাসকূপ খননের দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। তবে এ পর্যায়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) দায়িত্বে থাকা ৫২টি কূপের একটিরও খননকাজ শেষ হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনায় ১০৪টি নতুন কূপ খনন এবং পুরনো ৪৬টি কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর চাপ কমার পাশাপাশি শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৭১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

আরও পড়ুন,জ্বালানি খাতে আগ্রহ: এলএনজি সরবরাহ ও তেল-গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়নে রাশিয়ার প্রস্তাব

 ফলে প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে মোট সরবরাহের প্রায় ৪১ শতাংশ আসছে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো সরবরাহ করছে প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং দেশীয় সরকারি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন প্রায় ২৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও সরকারের ভর্তুকির চাপও বেড়ে যায়। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে বাপেক্সের দায়িত্বে রয়েছে ৫২টি নতুন কূপ খনন এবং ১৬টি পুরনো কূপ ওয়ার্কওভার। এ পর্যায়ের বাস্তবায়নকাল ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। অথচ এখনো কোনো কূপের খননকাজ শেষ না হওয়ায় সময়মতো লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন কূপ খনন করলেই গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না। অনুসন্ধান, আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মূল্যায়ন, উন্নয়ন কূপ খনন এবং পুরনো কূপ সংস্কারের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে বাপেক্সের আধুনিক খননযন্ত্র, প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

আরও পড়ুন,গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ থামায় কারখানায় প্রাণচাঞ্চল্য

 নতুন কূপে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য উৎপাদনব্যবস্থা, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও পাইপলাইন প্রয়োজন। কোথাও কম্প্রেসার স্থাপনেরও প্রয়োজন হতে পারে। এসব অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকলে আবিষ্কৃত গ্যাস দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, অব্যবহৃত এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রতিটি কূপের খননসূচি, ব্যয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশের পাশাপাশি নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শেষ পর্যন্ত কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে কতটি কূপে বাণিজ্যিক গ্যাস পাওয়া গেল, উৎপাদন কতটা বাড়ল এবং সেই গ্যাস কত দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেল তার ওপর।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে নতুন কূপ খননে জোর
0:00 0:00
1.0x