গাজীপুরের চন্দ্রা ও মৌচাক এলাকায় পঞ্চম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে পোশাকশ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচি। নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও পথচারীরা। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক আন্দোলনের পরও শ্রমিকদের দাবি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত দুই শতাধিক শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে তারা সহজে জামিনে মুক্তি পেতে পারছেন না বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের বাসাবাড়ি ও বস্তিতে গিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে গতকাল আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির খবর জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন সব মিলিয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন,বাইন্যান্সে সাইবার হামলায় তোলপাড়, তদন্তে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস
পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, বেতন-ভাতা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা পোশাকশ্রমিকদের ওপর চলমান নিপীড়ন, হয়রানি ও দমন-পীড়নের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।
বিষয় : অবরোধ পোশাকশ্রমিক

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুরের চন্দ্রা ও মৌচাক এলাকায় পঞ্চম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে পোশাকশ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচি। নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও পথচারীরা। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক আন্দোলনের পরও শ্রমিকদের দাবি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত দুই শতাধিক শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে তারা সহজে জামিনে মুক্তি পেতে পারছেন না বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের বাসাবাড়ি ও বস্তিতে গিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে গতকাল আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির খবর জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন সব মিলিয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন,বাইন্যান্সে সাইবার হামলায় তোলপাড়, তদন্তে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস
পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, বেতন-ভাতা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা পোশাকশ্রমিকদের ওপর চলমান নিপীড়ন, হয়রানি ও দমন-পীড়নের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।
