কিশোর অপরাধ, মাদকের বিস্তার ও সামাজিক নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা ও রাস্তাঘাটে দলবদ্ধ আড্ডার বিষয়ে কঠোর নজরদারির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের আটক ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সন্তানদের অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরার জন্য অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। শনিবার কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিআইজি। ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, কৈশোর ও তারুণ্য জীবন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ বয়সে অসৎ সঙ্গ, মাদকাসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই অপরাধের জগতে প্রবেশের আগেই কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তাঘাটে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা দিতে দেখা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আটক কিংবা গ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অবস্থানের যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ এবং অতীতে অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার ইতিহাস বিবেচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সন্তান কেন সন্ধ্যার পর বাইরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে সতর্ক করেন ডিআইজি। ছিনতাই, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং নারী ও কিশোরীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আরো পড়ুন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল দেশের শিল্পাঞ্চল: শ্রমিক অসন্তোষে অচল বিভিন্ন মহাসড়ক
চট্টগ্রাম রেঞ্জে চলমান অপরাধবিরোধী অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরে ডিআইজি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে রেঞ্জের আওতাধীন ১১ জেলায় প্রায় ৬০ হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি, একই সময়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পরিমাণ আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ এবং আসামি গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। মাদকাসক্তির ভয়াবহ সামাজিক পরিণতি তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, বিশেষ করে ইয়াবার বিস্তার তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে। মাদকের অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই প্রথমে পরিবারের টাকা, মূল্যবান সামগ্রী ও স্বর্ণালংকার চুরির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। পরে অর্থের সংকট দেখা দিলে কেউ কেউ ছিনতাইসহ আরও গুরুতর অপরাধে জড়ায়। এমনকি মাদকের অর্থের জন্য সন্তানদের হাতে বাবা-মা হত্যার ঘটনাও ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক সমস্যা নয় এটি সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, তরুণদের মাদকাসক্তি এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, কোনো পরিবারে সহিংসতা কিংবা কোনো কিশোরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে উপেক্ষা করলে এর নেতিবাচক প্রভাব বৃহত্তর সমাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ডিআইজি বলেন, শুধু পুলিশের অভিযান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, চলাফেরা ও সঙ্গ নির্বাচনের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদক, কিশোর অপরাধ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিষয় : চট্টগ্রাম শিক্ষার্থী নিহত ডিআইজি

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
কিশোর অপরাধ, মাদকের বিস্তার ও সামাজিক নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা ও রাস্তাঘাটে দলবদ্ধ আড্ডার বিষয়ে কঠোর নজরদারির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের আটক ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সন্তানদের অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরার জন্য অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। শনিবার কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিআইজি। ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, কৈশোর ও তারুণ্য জীবন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ বয়সে অসৎ সঙ্গ, মাদকাসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই অপরাধের জগতে প্রবেশের আগেই কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাস্তাঘাটে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা দিতে দেখা গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আটক কিংবা গ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অবস্থানের যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ এবং অতীতে অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার ইতিহাস বিবেচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সন্তান কেন সন্ধ্যার পর বাইরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে সতর্ক করেন ডিআইজি। ছিনতাই, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং নারী ও কিশোরীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আরো পড়ুন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল দেশের শিল্পাঞ্চল: শ্রমিক অসন্তোষে অচল বিভিন্ন মহাসড়ক
চট্টগ্রাম রেঞ্জে চলমান অপরাধবিরোধী অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরে ডিআইজি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে রেঞ্জের আওতাধীন ১১ জেলায় প্রায় ৬০ হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দাবি, একই সময়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পরিমাণ আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ এবং আসামি গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। মাদকাসক্তির ভয়াবহ সামাজিক পরিণতি তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, বিশেষ করে ইয়াবার বিস্তার তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে। মাদকের অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই প্রথমে পরিবারের টাকা, মূল্যবান সামগ্রী ও স্বর্ণালংকার চুরির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। পরে অর্থের সংকট দেখা দিলে কেউ কেউ ছিনতাইসহ আরও গুরুতর অপরাধে জড়ায়। এমনকি মাদকের অর্থের জন্য সন্তানদের হাতে বাবা-মা হত্যার ঘটনাও ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক সমস্যা নয় এটি সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, তরুণদের মাদকাসক্তি এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, কোনো পরিবারে সহিংসতা কিংবা কোনো কিশোরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে উপেক্ষা করলে এর নেতিবাচক প্রভাব বৃহত্তর সমাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ডিআইজি বলেন, শুধু পুলিশের অভিযান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, চলাফেরা ও সঙ্গ নির্বাচনের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদক, কিশোর অপরাধ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন