সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামে এক গৃহবধূকে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী অর্জুন সরকার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গৃহবধূ লাবনী সরকার দাবি করেছেন, স্বামীর নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েক মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং গত ৯ সেপ্টেম্বর স্বামীকে তালাক দেন। পরে ঘটকের মাধ্যমে দেবপ্রসাদ সরকারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যও জানিয়েছেন, ঘটকের মাধ্যমে তাঁরা বিয়ে করেছেন।অর্জুন সরকার সংবাদ দিগন্তকে জানান, তিনি ভোমরা স্থলবন্দরে কর্মরত এবং পাশাপাশি নিজস্ব ঘেরের ব্যবসা করেন। তাঁর স্ত্রী লাবনী সরকার (২৬)। তাঁদের ১১ বছরের একমাত্র সন্তান অর্ক সরকার। লাবনী দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ এলাকার পত্নীতলা গ্রামের ঠাকুরপদ সরকারের মেয়ে।অর্জুনের অভিযোগ, টিকটকের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেবপ্রসাদ সরকারের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে দেবপ্রসাদ তাঁর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন : আইফোনের লোভে ৭ দিন আগেই অপ্রতিম হত্যার পরিকল্পনা
অর্জুনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর লাবনী ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরে অর্ককে নবাতকাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ছেলেকে বলেন, ‘বাবা, তুমি আজ বাড়ি যাও। আমি কয়েকদিন পরে আসব।’অর্জুনের আরও অভিযোগ, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, একটি স্বর্ণের হার, দুটি রুলি, পায়ের নূপুর ও কানের দুল নিয়ে যান। এ বিষয়ে তাঁর ছেলে অর্কের বক্তব্যের একটি ভিডিও রেকর্ডিং তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।অর্জুন সংবাদ দিগন্তকে বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তাঁদের সংসারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ১১ বছরের ছেলে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেবপ্রসাদ সরকারকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।অর্জুন আরো সংবাদ দিগন্তকে বলেন, ‘আমার ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই। আমি চাই, আমার সন্তান তার মাকে ফিরে পাক।’অন্যদিকে ছেলে অর্কও মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার দাবি, মায়ের সঙ্গে মামাবাড়ি যাওয়ার পর সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।অর্জুন আরও অভিযোগ করেন, লাবনী তাঁর মা-বাবার পরামর্শে সংসারের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে স্ত্রীর ছোট বোন সুস্মিতা সরকারের সংসার ভেঙে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন :
অর্জুন সংবাদ দিগন্তকে জানান, লাবনীর সঙ্গে তাঁর দুই-তিনবার ফোনে কথা হয়েছে। তাঁর দাবি, লাবনী তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করতে চান। স্ত্রীকে ও ছেলেকে নিয়ে তাঁরা দেখা করতে গেলে লাবনী সামনে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে লাবনী সরকার সংবাদ দিগন্তকে বলেন, ‘অর্জুন আমাকে মারধর করত এবং প্রচুর নির্যাতন করত। আমি তিন-চার মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে আসি। সে আমাকে ফোন করে কোনো দিন খোঁজও নিত না। আমি ৯ সেপ্টেম্বর তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। পরে ঘটকের মাধ্যমে দেবপ্রসাদ বাবুর সঙ্গে সম্বন্ধ হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি ও ধর্মীয় রীতিতে আমাদের বিয়ে হয়েছে।’অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবু সংবাদ দিগন্তকে বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আমি ঘটকের কাছে বিয়ের জন্য তথ্য দিয়ে রেখেছিলাম। ঘটকের মাধ্যমেই আমাদের পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়েছে।’এদিকে, স্বামী ও স্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি এখন আইনগত প্রক্রিয়ায় গড়িয়েছে। অভিযোগ, তালাকের তারিখ, বিয়ের নিবন্ধন এবং স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সত্যতা আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের নবাতকাটি গ্রামে এক গৃহবধূকে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী অর্জুন সরকার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গৃহবধূ লাবনী সরকার দাবি করেছেন, স্বামীর নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েক মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং গত ৯ সেপ্টেম্বর স্বামীকে তালাক দেন। পরে ঘটকের মাধ্যমে দেবপ্রসাদ সরকারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যও জানিয়েছেন, ঘটকের মাধ্যমে তাঁরা বিয়ে করেছেন।অর্জুন সরকার সংবাদ দিগন্তকে জানান, তিনি ভোমরা স্থলবন্দরে কর্মরত এবং পাশাপাশি নিজস্ব ঘেরের ব্যবসা করেন। তাঁর স্ত্রী লাবনী সরকার (২৬)। তাঁদের ১১ বছরের একমাত্র সন্তান অর্ক সরকার। লাবনী দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ এলাকার পত্নীতলা গ্রামের ঠাকুরপদ সরকারের মেয়ে।অর্জুনের অভিযোগ, টিকটকের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেবপ্রসাদ সরকারের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে দেবপ্রসাদ তাঁর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন : আইফোনের লোভে ৭ দিন আগেই অপ্রতিম হত্যার পরিকল্পনা
অর্জুনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর লাবনী ছেলে অর্ককে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরে অর্ককে নবাতকাটি গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ছেলেকে বলেন, ‘বাবা, তুমি আজ বাড়ি যাও। আমি কয়েকদিন পরে আসব।’অর্জুনের আরও অভিযোগ, বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় লাবনী নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা, একটি স্বর্ণের হার, দুটি রুলি, পায়ের নূপুর ও কানের দুল নিয়ে যান। এ বিষয়ে তাঁর ছেলে অর্কের বক্তব্যের একটি ভিডিও রেকর্ডিং তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।অর্জুন সংবাদ দিগন্তকে বলেন, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তাঁদের সংসারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ১১ বছরের ছেলে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেবপ্রসাদ সরকারকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।অর্জুন আরো সংবাদ দিগন্তকে বলেন, ‘আমার ছোট শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই। আমি চাই, আমার সন্তান তার মাকে ফিরে পাক।’অন্যদিকে ছেলে অর্কও মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার দাবি, মায়ের সঙ্গে মামাবাড়ি যাওয়ার পর সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে।অর্জুন আরও অভিযোগ করেন, লাবনী তাঁর মা-বাবার পরামর্শে সংসারের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে স্ত্রীর ছোট বোন সুস্মিতা সরকারের সংসার ভেঙে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন :
অর্জুন সংবাদ দিগন্তকে জানান, লাবনীর সঙ্গে তাঁর দুই-তিনবার ফোনে কথা হয়েছে। তাঁর দাবি, লাবনী তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি দেবপ্রসাদ সরকারকে বিয়ে করতে চান। স্ত্রীকে ও ছেলেকে নিয়ে তাঁরা দেখা করতে গেলে লাবনী সামনে আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে লাবনী সরকার সংবাদ দিগন্তকে বলেন, ‘অর্জুন আমাকে মারধর করত এবং প্রচুর নির্যাতন করত। আমি তিন-চার মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে আসি। সে আমাকে ফোন করে কোনো দিন খোঁজও নিত না। আমি ৯ সেপ্টেম্বর তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। পরে ঘটকের মাধ্যমে দেবপ্রসাদ বাবুর সঙ্গে সম্বন্ধ হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি ও ধর্মীয় রীতিতে আমাদের বিয়ে হয়েছে।’অভিযুক্ত ইউপি সদস্য দেবপ্রসাদ সরকার বাবু সংবাদ দিগন্তকে বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আমি ঘটকের কাছে বিয়ের জন্য তথ্য দিয়ে রেখেছিলাম। ঘটকের মাধ্যমেই আমাদের পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়েছে।’এদিকে, স্বামী ও স্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি এখন আইনগত প্রক্রিয়ায় গড়িয়েছে। অভিযোগ, তালাকের তারিখ, বিয়ের নিবন্ধন এবং স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সত্যতা আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন