দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজির ভয়ংকর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজির ভয়ংকর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজির ভয়ংকর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ও বিত্তবান ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।চক্রটির সদস্যরা প্রথমে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতেন। পরে তারা ডেভিড ইমন, বড় সাজ্জাদ, রায়হানসহ স্থানীয়ভাবে পরিচিত কয়েকজন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ভয় দেখাতেন। দাবি করা চাঁদার টাকা না দিলে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।তাদের হুমকির ভাষাও ছিল ভয়ংকর। ভুক্তভোগীদের বলা হতো '১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না।’ এ ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান প্রকাশ সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ প্রকাশ মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)পুলিশ জানায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাটহাজারী, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসককে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

আরও  পড়ুন, মহেশপুরে সরকারি জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মান, ১০ পরিবার অবরুদ্ধ

ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তির সহায়তায় ফোনকল, যোগাযোগের ধরন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তাররা অত্যন্ত কৌশলে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিদেশি মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতেন। তারা প্রথমে সম্ভাব্য টার্গেট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালাতেন।তবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ব্যবহৃত নামগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও তারা নিজেরাই একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।অভিযানে তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে চাঁদাবাজ চক্রের এমন কর্মকাণ্ডের লাগাম টানতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিষয় : গ্রেপ্তার চাঁদাবাজি টার্গেট

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজির ভয়ংকর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ও বিত্তবান ব্যক্তিদের টার্গেট করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।চক্রটির সদস্যরা প্রথমে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতেন। পরে তারা ডেভিড ইমন, বড় সাজ্জাদ, রায়হানসহ স্থানীয়ভাবে পরিচিত কয়েকজন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ভয় দেখাতেন। দাবি করা চাঁদার টাকা না দিলে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।তাদের হুমকির ভাষাও ছিল ভয়ংকর। ভুক্তভোগীদের বলা হতো '১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না।’ এ ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান প্রকাশ সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ প্রকাশ মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)পুলিশ জানায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাটহাজারী, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসককে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

আরও  পড়ুন, মহেশপুরে সরকারি জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মান, ১০ পরিবার অবরুদ্ধ

ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তির সহায়তায় ফোনকল, যোগাযোগের ধরন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তাররা অত্যন্ত কৌশলে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিদেশি মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতেন। তারা প্রথমে সম্ভাব্য টার্গেট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালাতেন।তবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ব্যবহৃত নামগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও তারা নিজেরাই একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।অভিযানে তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে চাঁদাবাজ চক্রের এমন কর্মকাণ্ডের লাগাম টানতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত