হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা। আর সেই সংকটকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে আবারও আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ করিডর হয়ে উঠতে চাইছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া।চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ২৯৯টি ইরাকি জ্বালানি ট্যাংকার সিরিয়ার ভূখণ্ড পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরের বানিয়াস বন্দরের দিকে যায়। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর এটিই ছিল ইরাকি তেলের বৈধভাবে সিরিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে উপকূলে যাওয়ার প্রথম ঘটনা।এরপর আরও বিস্তৃত হয় এই বাণিজ্যপথ। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার উপকূলে স্থানান্তর করা হয়েছে ২১ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ইরাকি জ্বালানি।গৃহযুদ্ধের আগে ইরাক, জর্ডান, লেবানন, তুরস্ক ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল সিরিয়া। কিন্তু ২০১১ সালের গৃহযুদ্ধ দেশটির সেই অবস্থান পুরোপুরি বদলে দেয়।
আড়ও পড়ুন,সংগ্রাম, সাফল্য ও গৌরবের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আবারও সিরিয়ার দিকে ফিরতে শুরু করে আঞ্চলিক বাণিজ্য। জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক দামেস্কের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে হিজাজ রেলওয়ে। জর্ডান, সৌদি আরব, সিরিয়া ও তুরস্ক আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ঐতিহাসিক এই রেলপথ পুনর্নির্মাণে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরাক ও সিরিয়া কিরকুক-বানিয়াস তেল পাইপলাইন সংস্কারের বিষয়েও একমত হয়েছে।সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এরই মধ্যে ‘চার সাগর ও নয় করিডর’ প্রকল্পের মাধ্যমে পারস্য উপসাগর, কাস্পিয়ান, কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বড় ঝুঁকি। বিদেশি বিনিয়োগের নামে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি, কুর্দি ইস্যু এবং ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা সিরিয়ার নতুন বাণিজ্যপথকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রানজিট ও বিনিয়োগের বিপুল অর্থ যদি দেশের সাধারণ মানুষের পুনর্গঠন ও সামাজিক সেবায় না পৌঁছায়, তাহলে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে বিদেশি শক্তির পণ্য পরিবহনের একটি ভঙ্গুর করিডর হয়েই থেকে যেতে পারে।অর্থাৎ, হরমুজ সংকট সিরিয়ার সামনে খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার নতুন দরজা। এখন প্রশ্ন—দামেস্ক কি সেই সুযোগকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পারবে, নাকি নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাতেই আটকে যাবে?সংগ্রাম, সাফল্য ও গৌরবের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা। আর সেই সংকটকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে আবারও আঞ্চলিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ করিডর হয়ে উঠতে চাইছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া।চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ২৯৯টি ইরাকি জ্বালানি ট্যাংকার সিরিয়ার ভূখণ্ড পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরের বানিয়াস বন্দরের দিকে যায়। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর এটিই ছিল ইরাকি তেলের বৈধভাবে সিরিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে উপকূলে যাওয়ার প্রথম ঘটনা।এরপর আরও বিস্তৃত হয় এই বাণিজ্যপথ। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার উপকূলে স্থানান্তর করা হয়েছে ২১ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ইরাকি জ্বালানি।গৃহযুদ্ধের আগে ইরাক, জর্ডান, লেবানন, তুরস্ক ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল সিরিয়া। কিন্তু ২০১১ সালের গৃহযুদ্ধ দেশটির সেই অবস্থান পুরোপুরি বদলে দেয়।
আড়ও পড়ুন,সংগ্রাম, সাফল্য ও গৌরবের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আবারও সিরিয়ার দিকে ফিরতে শুরু করে আঞ্চলিক বাণিজ্য। জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক দামেস্কের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে হিজাজ রেলওয়ে। জর্ডান, সৌদি আরব, সিরিয়া ও তুরস্ক আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ঐতিহাসিক এই রেলপথ পুনর্নির্মাণে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরাক ও সিরিয়া কিরকুক-বানিয়াস তেল পাইপলাইন সংস্কারের বিষয়েও একমত হয়েছে।সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এরই মধ্যে ‘চার সাগর ও নয় করিডর’ প্রকল্পের মাধ্যমে পারস্য উপসাগর, কাস্পিয়ান, কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বড় ঝুঁকি। বিদেশি বিনিয়োগের নামে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি, কুর্দি ইস্যু এবং ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা সিরিয়ার নতুন বাণিজ্যপথকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রানজিট ও বিনিয়োগের বিপুল অর্থ যদি দেশের সাধারণ মানুষের পুনর্গঠন ও সামাজিক সেবায় না পৌঁছায়, তাহলে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে বিদেশি শক্তির পণ্য পরিবহনের একটি ভঙ্গুর করিডর হয়েই থেকে যেতে পারে।অর্থাৎ, হরমুজ সংকট সিরিয়ার সামনে খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার নতুন দরজা। এখন প্রশ্ন—দামেস্ক কি সেই সুযোগকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পারবে, নাকি নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাতেই আটকে যাবে?সংগ্রাম, সাফল্য ও গৌরবের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির

আপনার মতামত লিখুন