দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক রাতের অপেক্ষা, তারপরই নতুন ঠিকানা কিন্তু ভোরের আগেই মৃত্যু

এক রাতের অপেক্ষা, তারপরই নতুন ঠিকানা কিন্তু ভোরের আগেই মৃত্যু
বাংলাদেশ দর্শকদের জন্য হৃদয়বিদারক খবর

বাংলাদেশ সময়ের দর্শকদের জন্য ভারতের মুম্বাই থেকে এসেছে এক হৃদয়বিদারক খবর।মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন ঠিকানায় যাওয়ার কথা ছিল। ঘরের সব জিনিসপত্রও গুছিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—ভোর হওয়ার আগেই ধসে পড়ল পাশের চারতলা ভবন। আর সেই ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়ে মারা গেলেন এক মা ও তার চার সন্তান।ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকার মন্ডলা জনতা নগরে।নিহত 

আরো পড়ুন , ইরানের রাজনীতিতে নতুন বার্তা

আক্তার জাহান ও তার দিনমজুর স্বামী মঈনউদ্দিন ওয়াজিদ আলী শাহ আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, পাশের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টানা ভারী বর্ষণে ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়, টাইলস খসে পড়তে থাকে এবং পুরো ভবনটি একদিকে হেলে যায়। তাই পরদিন সকালেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন মঈনউদ্দিন—"আর মাত্র একটা রাত, তারপরই আমরা নিরাপদে চলে যাব।"কিন্তু সেই রাতই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ রাত।শনিবার গভীর রাতে বিকট শব্দে অবৈধ চারতলা ভবনটি পাশের টিনশেড ঘরগুলোর ওপর ধসে পড়ে। ঘটনার সময় বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান মঈনউদ্দিন। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান তার স্ত্রী ও চার সন্তান।রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।এ ঘটনায় ভবনের মালিক ও নির্মাণ ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার মামলা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে কীভাবে নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।এদিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক রাতের অপেক্ষা... একটি নতুন জীবনের স্বপ্ন... আর সেই স্বপ্নই মুহূর্তেই চাপা পড়ল ধ্বংসস্তূপের নিচে।

বিষয় : বাংলাদেশ দর্শকদের জন্য এক হৃদয়বিদারক খবর।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


এক রাতের অপেক্ষা, তারপরই নতুন ঠিকানা কিন্তু ভোরের আগেই মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সময়ের দর্শকদের জন্য ভারতের মুম্বাই থেকে এসেছে এক হৃদয়বিদারক খবর।মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন ঠিকানায় যাওয়ার কথা ছিল। ঘরের সব জিনিসপত্রও গুছিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—ভোর হওয়ার আগেই ধসে পড়ল পাশের চারতলা ভবন। আর সেই ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়ে মারা গেলেন এক মা ও তার চার সন্তান।ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকার মন্ডলা জনতা নগরে।নিহত 

আরো পড়ুন , ইরানের রাজনীতিতে নতুন বার্তা

আক্তার জাহান ও তার দিনমজুর স্বামী মঈনউদ্দিন ওয়াজিদ আলী শাহ আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, পাশের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টানা ভারী বর্ষণে ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়, টাইলস খসে পড়তে থাকে এবং পুরো ভবনটি একদিকে হেলে যায়। তাই পরদিন সকালেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন মঈনউদ্দিন—"আর মাত্র একটা রাত, তারপরই আমরা নিরাপদে চলে যাব।"কিন্তু সেই রাতই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ রাত।শনিবার গভীর রাতে বিকট শব্দে অবৈধ চারতলা ভবনটি পাশের টিনশেড ঘরগুলোর ওপর ধসে পড়ে। ঘটনার সময় বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান মঈনউদ্দিন। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান তার স্ত্রী ও চার সন্তান।রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।এ ঘটনায় ভবনের মালিক ও নির্মাণ ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার মামলা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে কীভাবে নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।এদিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক রাতের অপেক্ষা... একটি নতুন জীবনের স্বপ্ন... আর সেই স্বপ্নই মুহূর্তেই চাপা পড়ল ধ্বংসস্তূপের নিচে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত