দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

তীব্র গরমে গাজীপুরে রেকর্ড লোডশেডিং: অতিষ্ঠ জনজীবন, ব্যাহত শিল্পোৎপাদন

তীব্র গরমে গাজীপুরে রেকর্ড লোডশেডিং: অতিষ্ঠ জনজীবন, ব্যাহত শিল্পোৎপাদন
অতিষ্ঠ জনজীবন, ব্যাহত শিল্পোৎপাদন

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। দিন-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। বিশেষ করে বিদ্যুতের এই তীব্র সংকটে গাজীপুরের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।​গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে আসার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকছে না।​ রাতের বেলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ঘুমাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।​রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে।​দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বহুতল ভবনগুলোতে মোটরের মাধ্যমে পানি তুলতে না পেরে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।​"দিনে কয়বার বিদ্যুৎ যায় আর আসে, তার কোনো হিসাব নেই। 

 আরও  পড়ুন, সংবাদ প্রকাশের ‘জের’, কলাপাড়ায় সাংবাদিক ও শিক্ষককে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ

রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না, দিনে গরমে টেকা যাচ্ছে না। আমরা বিল ঠিকই দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না।"গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। তৈরি পোশাক শিল্পসহ শত শত ছোট-বড় কারখানা রয়েছে এখানে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসব কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।​জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তাতে উৎপাদন খরচ (Production Cost) কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল এবং বন্ধ থাকছে ওয়ার্কশপ ও বিপণিবিতানগুলোর কাজ।​কর্তৃপক্ষ কী বলছে?​বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (আরইবি) সূত্রের খবর, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এই লোডশেডিং বা 'লোড শেড শিডিউল' তৈরি করতে হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সঞ্চালন লাইনে সমস্যার কারণেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুতই গাজীপুরের এই বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাবে। তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।​তীব্র এই সংকট থেকে বাঁচতে এবং শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গাজীপুরবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ।

বিষয় : লোডশেডিং তীব্র গরম শিল্পোৎপাদন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


তীব্র গরমে গাজীপুরে রেকর্ড লোডশেডিং: অতিষ্ঠ জনজীবন, ব্যাহত শিল্পোৎপাদন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। দিন-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। বিশেষ করে বিদ্যুতের এই তীব্র সংকটে গাজীপুরের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।​গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে আসার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকছে না।​ রাতের বেলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ঘুমাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।​রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে।​দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বহুতল ভবনগুলোতে মোটরের মাধ্যমে পানি তুলতে না পেরে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।​"দিনে কয়বার বিদ্যুৎ যায় আর আসে, তার কোনো হিসাব নেই। 

 আরও  পড়ুন, সংবাদ প্রকাশের ‘জের’, কলাপাড়ায় সাংবাদিক ও শিক্ষককে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ

রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না, দিনে গরমে টেকা যাচ্ছে না। আমরা বিল ঠিকই দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না।"গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। তৈরি পোশাক শিল্পসহ শত শত ছোট-বড় কারখানা রয়েছে এখানে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসব কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।​জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তাতে উৎপাদন খরচ (Production Cost) কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল এবং বন্ধ থাকছে ওয়ার্কশপ ও বিপণিবিতানগুলোর কাজ।​কর্তৃপক্ষ কী বলছে?​বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (আরইবি) সূত্রের খবর, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এই লোডশেডিং বা 'লোড শেড শিডিউল' তৈরি করতে হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সঞ্চালন লাইনে সমস্যার কারণেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুতই গাজীপুরের এই বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাবে। তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।​তীব্র এই সংকট থেকে বাঁচতে এবং শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গাজীপুরবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত