দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

দায়িত্ব গ্রহণের পরই অ্যাকশনে ওসি জায়েদ নুর, চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটে অভিযান

দায়িত্ব গ্রহণের পরই অ্যাকশনে ওসি জায়েদ নুর, চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটে অভিযান
দায়িত্ব গ্রহণের পরই অ্যাকশনে ওসি জায়েদ নুর, চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটে অভিযান

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলে সবচেয়ে আলোচিত পদায়নগুলোর একটি ছিল নগরের ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে জায়েদ নুরের দায়িত্ব গ্রহণ। পুরোনো চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই থানার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নেতৃত্ব কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আগ্রহ ছিল।সেই আগ্রহের মধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মাথায় জায়েদ নুরের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে সফলতা পেয়ে নতুন আলোচনায় আসেন। পুলিশের দাবি, এটি শুধু চোরাই মোবাইল উদ্ধারের অভিযান নয় বরং এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে যারা প্রযুক্তির সহায়তায় চোরাই মোবাইলের পরিচয় পরিবর্তন করে পুনরায় বাজারজাত করত।চট্টগ্রাম মহানগরের ইতিহাস, বাণিজ্য, বিচারিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালী থানা এলাকা। আদালতপাড়া, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি, টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, চাক্তাই, কোতোয়ালী মোড়সহ পুরোনো নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা এই থানার আওতাধীন। প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ী, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে পুরো এলাকা। ফলে এই থানার দায়িত্ব কেবল একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং নগরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা, বিচারিক কার্যক্রম, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও এর ওপর বর্তায়। কোতোয়ালি থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে জায়েদ নুরের পদায়নকে সংশ্লিষ্টৎ মহল শুধুমাত্র প্রশাসনিক বদলি হিসেবে নয় বরং চাকরি জীবনে তার পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও দায়িত্ববোধের প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। একটি থানা এলাকার একজন অফিসার ইনচার্জের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি। তবে একজন পেশাদার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কখনো পরিস্থিতির চাপে নয়, আইন ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী যা অতীতের চাকরি জীবনেও আলোচিত এই কর্মকর্তা একাধিকবার দেখিয়েছেন।

আরও  পড়ুন, কসবায় র‍্যাবের অভিযানে ২৫.৫ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক

সিএমপি কমিশনার হাসান মো: শওকত আলীর নেতৃত্বে নগর পুলিশের কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব, তথ্যভিত্তিক পুলিশিং এবং জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব আরোপের বিষয়টি ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালী থানায় নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জায়েদ নুর থানার অপরাধচিত্র, সক্রিয় অপরাধচক্র এবং সাম্প্রতিক অপরাধ প্রবণতা নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।আলোচিত এই বিশেষ অভিযান নিয়ে পুলিশ জানায়, প্রথম ধাপে জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনিকে গ্রেফতারের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি জায়েদ নুরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো চুরির ঘটনা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যারা চোরাই মোবাইল সংগ্রহ করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর পরিচয় পরিবর্তন করে বাজারজাত করছে। গোপন তথ্য যাচাই, নজরদারি এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ২৪ জুন রাতে নন্দনকানন আবাসিক এলাকার তালেবিয়া জামে মসজিদসংলগ্ন একটি ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, ওই বাসাটিই ছিল চক্রটির অন্যতম অপারেশন সেন্টার।অভিযানে গ্রেফতার করা হয় চক্রের মূলহোতা মো. সোহেল উদ্দিন ওরফে ‘পার্টি সোহেল’ (৩৫) কে। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার সহযোগী আবু সাঈদ, মো. শামীম এবং সাইফুল ইসলাম (১৯) কে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যেকের দায়িত্ব ছিল আলাদা। কেউ চোর ও ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে মোবাইল সংগ্রহ করতেন,

 আরও  পড়ুন, 'এই এলাকার মালিক আমরা' এসআই এর মন্তব্য ঘিরে কটিয়াদীতে সমালোচনার ঝড়

কেউ প্রযুক্তিগতভাবে ডিভাইসের তথ্য পরিবর্তনের কাজে যুক্ত ছিলেন, আবার কেউ পরিবর্তিত মোবাইল বিভিন্ন স্থানে বিক্রির ব্যবস্থা করতেন।অভিযানে উদ্ধার করা হয় ২৪টি আইফোন,১৩৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন,৫টি ল্যাপটপ,২০১টি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড,৪৪৫টি মোবাইলের কেসিং, IMEI পরিবর্তনের বিশেষ যন্ত্রপাতি, মাইক্রোস্কোপ, বিভিন্ন চার্জার, মাল্টিপ্লাগ ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও নগদ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা।কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, মাননীয় সিএমপি কমিশনার মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রটিকে মালামাল সহ আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এমন অভিযান আমাদের চলমান থাকবে। এছাড়াও তিনি আরো বলেন আমার থানা এলাকায় কোন অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না। প্রতিবেদক চাকরিজীবনে নানান বার আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ হিসেবে কোনটিকে দেখছেন বলে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাকরি জীবনে আমি আইনের শাসন ও দায়িত্ববোধের উপরেই সব সময় প্রাধান্য দিয়েছি। পুলিশের চাকরিজীবনে পেশাদারিত্বের কোন বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ যে চিত্র পেয়েছে, তাতে চক্রটির কার্যক্রম পরিচালিত হতো কয়েকটি ধাপে প্রথমে ছিনতাই, চুরি বা ডাকাতির মাধ্যমে পাওয়া মোবাইল কম দামে সংগ্রহ। দ্বিতীয় ধাপে মোবাইলের কেসিং পরিবর্তন করে ব্যবহারের চিহ্ন মুছে ফেলা।তৃতীয় ধাপে বিশেষ সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির মাধ্যমে IMEI নম্বর পরিবর্তনের চেষ্টা। অতঃপর পরিবর্তিত মোবাইল বৈধ পণ্যের মতো বাজারে বিক্রি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া সফল হলে চুরি হওয়া মোবাইল শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে এবং তদন্তও জটিল হয়ে যায়। প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি স্বতন্ত্র International Mobile Equipment Identity (IMEI) নম্বর থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় এই নম্বর ব্যবহার করে ডিভাইস শনাক্ত ও অনুসন্ধানের চেষ্টা করে।

আরও  পড়ুন, পুত্র কর্তৃক পিতাকে মারধর! মামলা-পাল্টা মামলা, পিতার পক্ষে পুত্রবধূর সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই মোবাইল ফোন কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন আর শুধু মোবাইল চুরি করাই শেষ লক্ষ্য নয় প্রযুক্তির সহায়তায় সেগুলোকে নতুন পরিচয়ে বাজারে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।পুলিশ সূত্র জানায়, নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত টহলের পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চোরাই পণ্যের বাজার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ শনাক্তে নজরদারি বাড়ানো হয়। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে পুলিশের দাবি। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা নং-৬০ (তারিখ: ২৫ জুন ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪১৩/৩৪ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২(২) ও ২৭ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্ত, এগুলোর উৎস অনুসন্ধান এবং চক্রটির সঙ্গে আরও ব্যক্তি বা নেটওয়ার্ক যুক্ত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।কোতোয়ালী থানায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সংঘবদ্ধ প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান চট্টগ্রাম মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান। অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামত একটি সংঘবদ্ধ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধচক্রের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিলেও, সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত দায়, উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোর প্রকৃত মালিকানা এবং নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি আদালতে উপস্থাপিত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যভিত্তিক পুলিশিং এবং নাগরিক সহযোগিতা সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।

বিষয় : অভিযান সিন্ডিকেট দায়িত্ব গ্রহণ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


দায়িত্ব গ্রহণের পরই অ্যাকশনে ওসি জায়েদ নুর, চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটে অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলে সবচেয়ে আলোচিত পদায়নগুলোর একটি ছিল নগরের ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে জায়েদ নুরের দায়িত্ব গ্রহণ। পুরোনো চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই থানার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নেতৃত্ব কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আগ্রহ ছিল।সেই আগ্রহের মধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মাথায় জায়েদ নুরের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে সফলতা পেয়ে নতুন আলোচনায় আসেন। পুলিশের দাবি, এটি শুধু চোরাই মোবাইল উদ্ধারের অভিযান নয় বরং এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে যারা প্রযুক্তির সহায়তায় চোরাই মোবাইলের পরিচয় পরিবর্তন করে পুনরায় বাজারজাত করত।চট্টগ্রাম মহানগরের ইতিহাস, বাণিজ্য, বিচারিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালী থানা এলাকা। আদালতপাড়া, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি, টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, চাক্তাই, কোতোয়ালী মোড়সহ পুরোনো নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা এই থানার আওতাধীন। প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ী, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে পুরো এলাকা। ফলে এই থানার দায়িত্ব কেবল একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং নগরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা, বিচারিক কার্যক্রম, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও এর ওপর বর্তায়। কোতোয়ালি থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে জায়েদ নুরের পদায়নকে সংশ্লিষ্টৎ মহল শুধুমাত্র প্রশাসনিক বদলি হিসেবে নয় বরং চাকরি জীবনে তার পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও দায়িত্ববোধের প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। একটি থানা এলাকার একজন অফিসার ইনচার্জের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি। তবে একজন পেশাদার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কখনো পরিস্থিতির চাপে নয়, আইন ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী যা অতীতের চাকরি জীবনেও আলোচিত এই কর্মকর্তা একাধিকবার দেখিয়েছেন।

আরও  পড়ুন, কসবায় র‍্যাবের অভিযানে ২৫.৫ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক

সিএমপি কমিশনার হাসান মো: শওকত আলীর নেতৃত্বে নগর পুলিশের কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব, তথ্যভিত্তিক পুলিশিং এবং জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব আরোপের বিষয়টি ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালী থানায় নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জায়েদ নুর থানার অপরাধচিত্র, সক্রিয় অপরাধচক্র এবং সাম্প্রতিক অপরাধ প্রবণতা নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।আলোচিত এই বিশেষ অভিযান নিয়ে পুলিশ জানায়, প্রথম ধাপে জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনিকে গ্রেফতারের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি জায়েদ নুরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো চুরির ঘটনা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যারা চোরাই মোবাইল সংগ্রহ করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর পরিচয় পরিবর্তন করে বাজারজাত করছে। গোপন তথ্য যাচাই, নজরদারি এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ২৪ জুন রাতে নন্দনকানন আবাসিক এলাকার তালেবিয়া জামে মসজিদসংলগ্ন একটি ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, ওই বাসাটিই ছিল চক্রটির অন্যতম অপারেশন সেন্টার।অভিযানে গ্রেফতার করা হয় চক্রের মূলহোতা মো. সোহেল উদ্দিন ওরফে ‘পার্টি সোহেল’ (৩৫) কে। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার সহযোগী আবু সাঈদ, মো. শামীম এবং সাইফুল ইসলাম (১৯) কে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যেকের দায়িত্ব ছিল আলাদা। কেউ চোর ও ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে মোবাইল সংগ্রহ করতেন,

 আরও  পড়ুন, 'এই এলাকার মালিক আমরা' এসআই এর মন্তব্য ঘিরে কটিয়াদীতে সমালোচনার ঝড়

কেউ প্রযুক্তিগতভাবে ডিভাইসের তথ্য পরিবর্তনের কাজে যুক্ত ছিলেন, আবার কেউ পরিবর্তিত মোবাইল বিভিন্ন স্থানে বিক্রির ব্যবস্থা করতেন।অভিযানে উদ্ধার করা হয় ২৪টি আইফোন,১৩৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন,৫টি ল্যাপটপ,২০১টি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম কার্ড,৪৪৫টি মোবাইলের কেসিং, IMEI পরিবর্তনের বিশেষ যন্ত্রপাতি, মাইক্রোস্কোপ, বিভিন্ন চার্জার, মাল্টিপ্লাগ ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও নগদ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা।কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, মাননীয় সিএমপি কমিশনার মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় অভিযান পরিচালনা করে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রটিকে মালামাল সহ আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এমন অভিযান আমাদের চলমান থাকবে। এছাড়াও তিনি আরো বলেন আমার থানা এলাকায় কোন অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না। প্রতিবেদক চাকরিজীবনে নানান বার আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ হিসেবে কোনটিকে দেখছেন বলে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাকরি জীবনে আমি আইনের শাসন ও দায়িত্ববোধের উপরেই সব সময় প্রাধান্য দিয়েছি। পুলিশের চাকরিজীবনে পেশাদারিত্বের কোন বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ যে চিত্র পেয়েছে, তাতে চক্রটির কার্যক্রম পরিচালিত হতো কয়েকটি ধাপে প্রথমে ছিনতাই, চুরি বা ডাকাতির মাধ্যমে পাওয়া মোবাইল কম দামে সংগ্রহ। দ্বিতীয় ধাপে মোবাইলের কেসিং পরিবর্তন করে ব্যবহারের চিহ্ন মুছে ফেলা।তৃতীয় ধাপে বিশেষ সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির মাধ্যমে IMEI নম্বর পরিবর্তনের চেষ্টা। অতঃপর পরিবর্তিত মোবাইল বৈধ পণ্যের মতো বাজারে বিক্রি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া সফল হলে চুরি হওয়া মোবাইল শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে এবং তদন্তও জটিল হয়ে যায়। প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি স্বতন্ত্র International Mobile Equipment Identity (IMEI) নম্বর থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় এই নম্বর ব্যবহার করে ডিভাইস শনাক্ত ও অনুসন্ধানের চেষ্টা করে।

আরও  পড়ুন, পুত্র কর্তৃক পিতাকে মারধর! মামলা-পাল্টা মামলা, পিতার পক্ষে পুত্রবধূর সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই মোবাইল ফোন কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন আর শুধু মোবাইল চুরি করাই শেষ লক্ষ্য নয় প্রযুক্তির সহায়তায় সেগুলোকে নতুন পরিচয়ে বাজারে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।পুলিশ সূত্র জানায়, নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত টহলের পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চোরাই পণ্যের বাজার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ শনাক্তে নজরদারি বাড়ানো হয়। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে পুলিশের দাবি। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা নং-৬০ (তারিখ: ২৫ জুন ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪১৩/৩৪ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২(২) ও ২৭ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্ত, এগুলোর উৎস অনুসন্ধান এবং চক্রটির সঙ্গে আরও ব্যক্তি বা নেটওয়ার্ক যুক্ত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।কোতোয়ালী থানায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সংঘবদ্ধ প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান চট্টগ্রাম মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান। অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামত একটি সংঘবদ্ধ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধচক্রের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিলেও, সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত দায়, উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোর প্রকৃত মালিকানা এবং নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি আদালতে উপস্থাপিত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যভিত্তিক পুলিশিং এবং নাগরিক সহযোগিতা সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত