ক্ষমতাসীনদের অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “বাংলাদেশে মন্ত্রীত্ব হইলো সোনার পাথরের বাটির মতো। ঘষা দিলেই কুরবানির পশু, ফ্ল্যাট, প্লট, জমি-জমা, স্বর্ণ অলংকার, গাড়ি-বাড়ি, রূপা-মুদ্রা, হীরা-জহরতের ছড়াছড়ি। নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়। কেউ আবার দেশের মাটিতে জায়গা না পেয়ে বিদেশে গিয়ে বাড়ি ক্রয় করে।” মন্ত্রীদের সন্তানদের বিলাসী জীবনযাপন নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, “তাদের সন্তানদের দিকে তাকাইলে প্রিন্স উইলিয়ামও লজ্জা পায়। জিজ্ঞেস করলে— ‘আয়ের উৎস কী?’ উত্তর দেয়— আব্বা।”
আরও পড়ুন, নজরুল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন : রিজভী
ক্ষমতাসীনদের জৌলুস ও প্রভাবের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “সূর্যের দিকে তাকাইলে যেমন চোখ অন্ধকার হয়ে আসে, তেমনি এদের চাকচিক্যময় সামগ্রীর দিকে তাকাইলেও চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।” পোস্টে রূপক ভাষায় আরও নানা মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা। তিনি লেখেন, “আরব শেখদের মতো বাঘ নিয়ে খেলা না করতে পারলেও বাঘিনী নিয়ে খেলা করে। এদের ছোট ছোট আয়েশি খাঁচায় কত ফুল ঝরে পড়ে!”
আরও পড়ুন, আওয়ামী লীগের পথেই সরকার চলছে: এনসিপি নেতা হাসনাত
কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি মিডিয়া ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “আবার কেউ কেউ মিডিয়া খুলে ভয় দেখায়— ‘খাইয়া দিমু’, ‘জেলে ভইরা দিমু’। এদের দুইটা শখের জায়গা আছে— অর্ধেক রাতারাতি খেলা-বিশেষজ্ঞ হইয়া উঠে, আরেক অর্ধেক সংস্কৃতির মান-ইজ্জত ডুবিয়ে দেয়।” তবে পোস্টের শেষাংশে আশার কথাও বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি লেখেন, “এতক্ষণ পড়ে মন খারাপ কইরেন না। শ্রীলঙ্কা আর সাম্প্রতিক নেপালে রাস্তায় রাস্তায় তাদের যেই পরিণতি হয়েছিল, ওই থ্রিলারগুলা নেট দুনিয়ায় একটু দেখলেই মন শান্তি হয়ে যাবে।”
আরও পড়ুন, চীনের আমন্ত্রণে ১০ দিনের সফরে যাচ্ছে বিএনপির ২০ সদস্যের তরুণ প্রতিনিধি দল
পোস্টের শেষ লাইনে তিনি আরও যোগ করেন, “যেখানেই রাজ-রাজ ভাব আর হাংকি-পাংকি দেখবেন, সেখানেই নেপালের উদাহরণ সেট করে দিবেন।” পাটওয়ারীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ তার বক্তব্যকে বাস্তবতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন।

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
ক্ষমতাসীনদের অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “বাংলাদেশে মন্ত্রীত্ব হইলো সোনার পাথরের বাটির মতো। ঘষা দিলেই কুরবানির পশু, ফ্ল্যাট, প্লট, জমি-জমা, স্বর্ণ অলংকার, গাড়ি-বাড়ি, রূপা-মুদ্রা, হীরা-জহরতের ছড়াছড়ি। নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়। কেউ আবার দেশের মাটিতে জায়গা না পেয়ে বিদেশে গিয়ে বাড়ি ক্রয় করে।” মন্ত্রীদের সন্তানদের বিলাসী জীবনযাপন নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, “তাদের সন্তানদের দিকে তাকাইলে প্রিন্স উইলিয়ামও লজ্জা পায়। জিজ্ঞেস করলে— ‘আয়ের উৎস কী?’ উত্তর দেয়— আব্বা।”
আরও পড়ুন, নজরুল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন : রিজভী
ক্ষমতাসীনদের জৌলুস ও প্রভাবের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “সূর্যের দিকে তাকাইলে যেমন চোখ অন্ধকার হয়ে আসে, তেমনি এদের চাকচিক্যময় সামগ্রীর দিকে তাকাইলেও চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।” পোস্টে রূপক ভাষায় আরও নানা মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা। তিনি লেখেন, “আরব শেখদের মতো বাঘ নিয়ে খেলা না করতে পারলেও বাঘিনী নিয়ে খেলা করে। এদের ছোট ছোট আয়েশি খাঁচায় কত ফুল ঝরে পড়ে!”
আরও পড়ুন, আওয়ামী লীগের পথেই সরকার চলছে: এনসিপি নেতা হাসনাত
কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি মিডিয়া ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “আবার কেউ কেউ মিডিয়া খুলে ভয় দেখায়— ‘খাইয়া দিমু’, ‘জেলে ভইরা দিমু’। এদের দুইটা শখের জায়গা আছে— অর্ধেক রাতারাতি খেলা-বিশেষজ্ঞ হইয়া উঠে, আরেক অর্ধেক সংস্কৃতির মান-ইজ্জত ডুবিয়ে দেয়।” তবে পোস্টের শেষাংশে আশার কথাও বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি লেখেন, “এতক্ষণ পড়ে মন খারাপ কইরেন না। শ্রীলঙ্কা আর সাম্প্রতিক নেপালে রাস্তায় রাস্তায় তাদের যেই পরিণতি হয়েছিল, ওই থ্রিলারগুলা নেট দুনিয়ায় একটু দেখলেই মন শান্তি হয়ে যাবে।”
আরও পড়ুন, চীনের আমন্ত্রণে ১০ দিনের সফরে যাচ্ছে বিএনপির ২০ সদস্যের তরুণ প্রতিনিধি দল
পোস্টের শেষ লাইনে তিনি আরও যোগ করেন, “যেখানেই রাজ-রাজ ভাব আর হাংকি-পাংকি দেখবেন, সেখানেই নেপালের উদাহরণ সেট করে দিবেন।” পাটওয়ারীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ তার বক্তব্যকে বাস্তবতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন।

আপনার মতামত লিখুন