রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব ইচলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মিত দেরিতে উপস্থিতি এবং চরম জনপ্রীতির অভিযোগে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম (ময়না) ও তার আপন বোন, সহকারী শিক্ষক মকসুদা বেগম (পাখি)-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। দুই বোনের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের কাছে বিদ্যালয়টি ‘ময়না-পাখির বিদ্যালয়’ নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বিদ্যালয়ে আসেন। অপরদিকে তার বোন সহকারী শিক্ষক হয়েও নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। এতে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন চারজন। অনুপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মকসুদা বেগম। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, “তিনি আমার বোন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ছুটিতে রয়েছেন।” তবে স্থানীয়দের দাবি, তার এই অনুপস্থিতি প্রায় নিয়মিত ঘটনা।
আরও পড়ুন, বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর রবিন হত্যা মামলার ৫ আসামী চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার
শিক্ষা কার্যক্রমের চিত্র আরও হতাশাজনক। বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শাখায় নাম তালিকাভুক্ত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়নি। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির উপস্থিতি খাতায়ও কোনো উপস্থিতি লিপিবদ্ধ করা হয়নি। নিয়মিত রোল কল ও পাঠদান কার্যক্রমও ঠিকমতো পরিচালিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে বলেন, “আজ কয়েকটি শ্রেণির রোল কল হয়নি, তবে আমরা নিয়মিত রোল কল করে থাকি।”
আরও পড়ুন, দিরাইয়ে মামলাবাজের দৌরাত্ম্যে পুরুষশূন্য মকসদপুর গ্রাম ভোগান্তিতে পরিবার
এছাড়া বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনাও রয়েছে চরম অবহেলায়। অফিস কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, আঙিনা, সিঁড়ি ও ছাদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব স্পষ্ট। রুটিন অনুযায়ী পাঠদান করা হয় না, এমনকি দৈনিক সমাবেশও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় না। অবকাঠামোগত দুর্বলতার আরেকটি চিত্র দেখা গেছে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে। বিদ্যালয়ে স্থায়ী পতাকাস্তম্ভ না থাকায় বাঁশের সঙ্গে জাতীয় পতাকা বেঁধে মাটিতে স্থাপন করা হয়েছে, যা একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টিকটূ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় সেখানে পাঠদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সঠিক পাঠদান না হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। অনেক শ্রেণিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে বিদ্যালয়টি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন, শরীয়তপুরে পোকাযুক্ত গুড়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের ২ লক্ষ টাকা জরিমানা
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর আগেও প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছিল। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, বিদ্যালয়ে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্বহীনতার এই চক্র ভাঙা না গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিষয় : রংপুর অবহেলা গঙ্গাচড়া শিক্ষা ব্যবস্থা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব ইচলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মিত দেরিতে উপস্থিতি এবং চরম জনপ্রীতির অভিযোগে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম (ময়না) ও তার আপন বোন, সহকারী শিক্ষক মকসুদা বেগম (পাখি)-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। দুই বোনের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের কাছে বিদ্যালয়টি ‘ময়না-পাখির বিদ্যালয়’ নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বিদ্যালয়ে আসেন। অপরদিকে তার বোন সহকারী শিক্ষক হয়েও নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। এতে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন চারজন। অনুপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মকসুদা বেগম। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, “তিনি আমার বোন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ছুটিতে রয়েছেন।” তবে স্থানীয়দের দাবি, তার এই অনুপস্থিতি প্রায় নিয়মিত ঘটনা।
আরও পড়ুন, বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর রবিন হত্যা মামলার ৫ আসামী চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার
শিক্ষা কার্যক্রমের চিত্র আরও হতাশাজনক। বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শাখায় নাম তালিকাভুক্ত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়নি। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির উপস্থিতি খাতায়ও কোনো উপস্থিতি লিপিবদ্ধ করা হয়নি। নিয়মিত রোল কল ও পাঠদান কার্যক্রমও ঠিকমতো পরিচালিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে বলেন, “আজ কয়েকটি শ্রেণির রোল কল হয়নি, তবে আমরা নিয়মিত রোল কল করে থাকি।”
আরও পড়ুন, দিরাইয়ে মামলাবাজের দৌরাত্ম্যে পুরুষশূন্য মকসদপুর গ্রাম ভোগান্তিতে পরিবার
এছাড়া বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনাও রয়েছে চরম অবহেলায়। অফিস কক্ষ, শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, আঙিনা, সিঁড়ি ও ছাদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব স্পষ্ট। রুটিন অনুযায়ী পাঠদান করা হয় না, এমনকি দৈনিক সমাবেশও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় না। অবকাঠামোগত দুর্বলতার আরেকটি চিত্র দেখা গেছে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে। বিদ্যালয়ে স্থায়ী পতাকাস্তম্ভ না থাকায় বাঁশের সঙ্গে জাতীয় পতাকা বেঁধে মাটিতে স্থাপন করা হয়েছে, যা একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টিকটূ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় সেখানে পাঠদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সঠিক পাঠদান না হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। অনেক শ্রেণিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে বিদ্যালয়টি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন, শরীয়তপুরে পোকাযুক্ত গুড়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের ২ লক্ষ টাকা জরিমানা
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর আগেও প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছিল। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, বিদ্যালয়ে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্বহীনতার এই চক্র ভাঙা না গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আপনার মতামত লিখুন