রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কে এন বি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। স্কুল খুলেই প্রধান শিক্ষক জলধর চন্দ্র রায় বাড়িতে চলে যান—এমন অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন না। অনেক সময় স্কুল চলাকালীন সময়েও তাকে বিদ্যালয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের পাঠ্যসূচি পিছিয়ে পড়ছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করে নিজ বাড়িতে চলে যান। পরে বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, এটি তার নিত্যদিনের অভ্যাস। বিদ্যালয়ের পাশেই বাসা হওয়ায় সুযোগ নিয়ে তিনি দায়িত্বে অবহেলা করে থাকেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, ওই দিন প্রধান শিক্ষক কোনো ক্লাস নেননি। এমনকি তিনি নিয়মিত ক্লাসও নেন না। এতে তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
আরও পড়ুন, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে অস্ত্রসহ ২ ডাকাত আটক, জিম্মি থাকা ৩ জেলে উদ্ধার
অভিভাবকরা বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিদ্যালয়টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের কারণে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জলধর চন্দ্র রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে একই দিন বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে উত্তর গণেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক তহমিনা বেগমসহ আরও দুইজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। উপস্থিতি খাতায়ও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লিপিবদ্ধ ছিল না, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন, বাগেরহাটে ১০ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, ুঅভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিষয় : রংপুর গঙ্গাচড়া শিক্ষা ব্যবস্থা

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কে এন বি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শিক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। স্কুল খুলেই প্রধান শিক্ষক জলধর চন্দ্র রায় বাড়িতে চলে যান—এমন অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন না। অনেক সময় স্কুল চলাকালীন সময়েও তাকে বিদ্যালয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। এতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের পাঠ্যসূচি পিছিয়ে পড়ছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করে নিজ বাড়িতে চলে যান। পরে বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, এটি তার নিত্যদিনের অভ্যাস। বিদ্যালয়ের পাশেই বাসা হওয়ায় সুযোগ নিয়ে তিনি দায়িত্বে অবহেলা করে থাকেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, ওই দিন প্রধান শিক্ষক কোনো ক্লাস নেননি। এমনকি তিনি নিয়মিত ক্লাসও নেন না। এতে তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
আরও পড়ুন, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে অস্ত্রসহ ২ ডাকাত আটক, জিম্মি থাকা ৩ জেলে উদ্ধার
অভিভাবকরা বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিদ্যালয়টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৪ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের কারণে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জলধর চন্দ্র রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে একই দিন বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে উত্তর গণেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক তহমিনা বেগমসহ আরও দুইজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। উপস্থিতি খাতায়ও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লিপিবদ্ধ ছিল না, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন, বাগেরহাটে ১০ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, ুঅভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন