বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এই ব্যয় বেড়ে মাসিক ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। এতে পুরো অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় ক্রয়-বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানই সরকারের ওপর ভর্তুকির বোঝা হিসেবে চাপছে। বর্তমানে মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে।
এদিকে গ্যাসের দাম ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৮ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে বিদ্যুৎ আমদানির খরচও বেড়েছে, বিশেষ করে ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে।
আরো পড়ুন , সরকার যাচাই করছে জ্বালানি তেলের দর ও ভর্তুকির চাহিদা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চিন্তা করছে। এ ক্ষেত্রে International Monetary Fund, World Bank এবং Asian Development Bank-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভর্তুকি বাড়ানোর পাশাপাশি খাতের অনিয়ম ও উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
Consumers Association of Bangladesh-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মনে করেন, গত কয়েক বছরের অনিয়ম বন্ধ করা গেলে বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বিদ্যুৎ বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, সময়মতো অর্থ ছাড় না হলে কয়লা ও জ্বালানি সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে, ফলে গ্রীষ্মে লোডশেডিং বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এই ব্যয় বেড়ে মাসিক ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। এতে পুরো অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় ক্রয়-বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানই সরকারের ওপর ভর্তুকির বোঝা হিসেবে চাপছে। বর্তমানে মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে।
এদিকে গ্যাসের দাম ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৮ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে বিদ্যুৎ আমদানির খরচও বেড়েছে, বিশেষ করে ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে।
আরো পড়ুন , সরকার যাচাই করছে জ্বালানি তেলের দর ও ভর্তুকির চাহিদা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চিন্তা করছে। এ ক্ষেত্রে International Monetary Fund, World Bank এবং Asian Development Bank-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভর্তুকি বাড়ানোর পাশাপাশি খাতের অনিয়ম ও উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
Consumers Association of Bangladesh-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মনে করেন, গত কয়েক বছরের অনিয়ম বন্ধ করা গেলে বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বিদ্যুৎ বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, সময়মতো অর্থ ছাড় না হলে কয়লা ও জ্বালানি সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে, ফলে গ্রীষ্মে লোডশেডিং বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন