দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন, বাজারে দাম না থাকায় দিশেহারা কৃষক

রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন, বাজারে দাম না থাকায় দিশেহারা কৃষক
রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন, বাজারে দাম না থাকায় দিশেহারা কৃষক

রংপুর জেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক আলু চাষিকে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই আলু বিক্রি করতে পারছেন মাত্র চার হাজার টাকার মতো। অনেক হাট-বাজারে ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন কৃষকরা। এতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আলু চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন, শরীয়তপুরে গুড়ের মধ্যে পোকা প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে নিয়মিত মামলা

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার এক আলু চাষি জানান, এবার আলুর ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম একেবারেই নেই। খরচ তুলতেই পারছি না। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।” আরেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে আলুর দাম কমিয়ে রেখেছে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ জানায়, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় সাময়িকভাবে দাম কম রয়েছে। কৃষকদের ধৈর্য ধরে আলু সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, হিমাগারে সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কৃষকদের নিজস্ব সংরক্ষণাগারেও আলু রাখা যেতে পারে। সময়ের ব্যবধানে বাজারে চাহিদা বাড়লে আলুর দামও বাড়তে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন, চন্দনাইশে দুই পৌরসভা ও আট ইউনিয়নে ২০ হাজার ৫০১ পরিবার পাচ্ছে ভিজিএফ চাল

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রংপুর জেলা থেকে প্রায় ৬ হাজার ৭ শত মেট্রিক টন আলু নেপাল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর রফতানির পরিমাণ আরও বাড়ানো গেলে কৃষকরা আলু চাষে লাভবান হতে পারবেন। কৃষকদের দাবি, বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারি নজরদারি বাড়ানো এবং আলু রফতানির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। এতে একদিকে কৃষকের লোকসান কমবে, অন্যদিকে দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিষয় : রংপুর কৃষক ফলন আলু

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন, বাজারে দাম না থাকায় দিশেহারা কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image

রংপুর জেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক আলু চাষিকে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই আলু বিক্রি করতে পারছেন মাত্র চার হাজার টাকার মতো। অনেক হাট-বাজারে ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন কৃষকরা। এতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আলু চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন, শরীয়তপুরে গুড়ের মধ্যে পোকা প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনে নিয়মিত মামলা

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার এক আলু চাষি জানান, এবার আলুর ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম একেবারেই নেই। খরচ তুলতেই পারছি না। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।” আরেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে আলুর দাম কমিয়ে রেখেছে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ জানায়, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় সাময়িকভাবে দাম কম রয়েছে। কৃষকদের ধৈর্য ধরে আলু সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, হিমাগারে সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কৃষকদের নিজস্ব সংরক্ষণাগারেও আলু রাখা যেতে পারে। সময়ের ব্যবধানে বাজারে চাহিদা বাড়লে আলুর দামও বাড়তে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন, চন্দনাইশে দুই পৌরসভা ও আট ইউনিয়নে ২০ হাজার ৫০১ পরিবার পাচ্ছে ভিজিএফ চাল

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রংপুর জেলা থেকে প্রায় ৬ হাজার ৭ শত মেট্রিক টন আলু নেপাল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর রফতানির পরিমাণ আরও বাড়ানো গেলে কৃষকরা আলু চাষে লাভবান হতে পারবেন। কৃষকদের দাবি, বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারি নজরদারি বাড়ানো এবং আলু রফতানির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। এতে একদিকে কৃষকের লোকসান কমবে, অন্যদিকে দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত