কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নিজ দপ্তরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫)। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন তাঁর স্বামী। মামলায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
আরো পড়ুন , সিলেটে এনসিপি নেতাদের সফর স্থানীয় সমালোচনার ঝড়
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষিকা আসমা সাদিয়াকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার সময় কক্ষের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে যা ঘটেছে
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিকেলে বিভাগে ইফতার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সভাপতির কক্ষ থেকে চিৎকার শোনা গেলে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা সেখানে ছুটে যান। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সেটি ভেঙে কক্ষে ঢুকে আসমা সাদিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষে আহত অবস্থায় ছিলেন ফজলুর রহমান।
মামলায় যা অভিযোগ
নিহত শিক্ষিকার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্ররোচনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মামলায় সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকে আসামি করা হয়েছে।এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় অর্থের স্বচ্ছতা ও হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনায় বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তদন্ত চলছেপুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
বিষয় : হত্যাকাণ্ড মামলা ছুরিকাঘাত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নিজ দপ্তরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫)। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন তাঁর স্বামী। মামলায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
আরো পড়ুন , সিলেটে এনসিপি নেতাদের সফর স্থানীয় সমালোচনার ঝড়
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষিকা আসমা সাদিয়াকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার সময় কক্ষের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে যা ঘটেছে
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিকেলে বিভাগে ইফতার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সভাপতির কক্ষ থেকে চিৎকার শোনা গেলে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা সেখানে ছুটে যান। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সেটি ভেঙে কক্ষে ঢুকে আসমা সাদিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষে আহত অবস্থায় ছিলেন ফজলুর রহমান।
মামলায় যা অভিযোগ
নিহত শিক্ষিকার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্ররোচনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মামলায় সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকে আসামি করা হয়েছে।এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় অর্থের স্বচ্ছতা ও হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনায় বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তদন্ত চলছেপুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন