দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মিললো ৪ মাসের শিশুর মরদেহ

কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মিললো ৪ মাসের  শিশুর  মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকে মিললো ৪ মাসের শিশুর মরদেহ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে আশরাফুল ইসলাম নামে (৪ মাস) এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আশরাফুল ইসলাম উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শিশু আশরাফুল ইসলামের বাবা শাহিন মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক। তাঁরা কুলিয়ারচর উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি গ্রামে বাস করেন। গত ০৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশু আশরাফুল ইসলামের মা তাকে ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির আঙ্গিনা ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর তার সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই।মুহূর্তেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘর, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা খুঁজেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।

এদিকে  নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরিহিত তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের কোলে একটি শিশু ছিল। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শিশু চুরির গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও দীর্ঘ ২৬ দিনেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।  অবশেষে   ৩ মার্চ (মঙ্গলবার)   সকালে বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। দীর্ঘদিন পানির মধ্যে থাকায় মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরো পড়ুন , গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা



 শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী রুপা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।স্থানীয়রা বলেন, এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিশুটির মৃত্যুতে আমরা সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছি।  দ্রুত তদন্ত করে শিশুটির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করার দাবি জানান তারা।


নিহত শিশু আশরাফুল ইসলামের বাবা শাহিন মিয়া বলেন, নিখোঁজের পর নানা জায়গায় খোঁজ করা হয়েছে। পুলিশও চেষ্টা করেছে। আমার সন্তানকে কী কারণে এবং কারা ট্যাংকের ভেতর ফেলে হত্যা করবে, তা ধারণা করতে পারছি না।কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ বিষয়টি  নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিখোঁজ হওয়া ওই শিশুর মরদেহ টয়লেটের ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে  ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রুপা আক্তার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিষয় : সেপটিক ট্যাং শিশুর মরদেহ ৪ মাস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মিললো ৪ মাসের শিশুর মরদেহ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে আশরাফুল ইসলাম নামে (৪ মাস) এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আশরাফুল ইসলাম উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শিশু আশরাফুল ইসলামের বাবা শাহিন মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক। তাঁরা কুলিয়ারচর উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি গ্রামে বাস করেন। গত ০৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশু আশরাফুল ইসলামের মা তাকে ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির আঙ্গিনা ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর তার সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই।মুহূর্তেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘর, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা খুঁজেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।


এদিকে  নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরিহিত তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের কোলে একটি শিশু ছিল। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শিশু চুরির গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও দীর্ঘ ২৬ দিনেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।  অবশেষে   ৩ মার্চ (মঙ্গলবার)   সকালে বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। দীর্ঘদিন পানির মধ্যে থাকায় মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।



আরো পড়ুন , গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা



 শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী রুপা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।স্থানীয়রা বলেন, এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিশুটির মৃত্যুতে আমরা সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছি।  দ্রুত তদন্ত করে শিশুটির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করার দাবি জানান তারা।


নিহত শিশু আশরাফুল ইসলামের বাবা শাহিন মিয়া বলেন, নিখোঁজের পর নানা জায়গায় খোঁজ করা হয়েছে। পুলিশও চেষ্টা করেছে। আমার সন্তানকে কী কারণে এবং কারা ট্যাংকের ভেতর ফেলে হত্যা করবে, তা ধারণা করতে পারছি না।কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ বিষয়টি  নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিখোঁজ হওয়া ওই শিশুর মরদেহ টয়লেটের ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে  ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রুপা আক্তার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত