রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রকাশ্যে পদদলিত করে সংঘটিত হলো আরেকটি নৃশংস গণপিটুনির ঘটনা। জনতার উন্মত্ততায় প্রাণ হারান এক ব্যক্তি। এই ভয়াবহ ঘটনার পর অবশেষে অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। দুই মামলাতেই বাদী পুঠিয়া থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার চকপলাশি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটজনকে আটক করে স্থানীয় কিছু লোক। কিন্তু আটক করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার পরিবর্তে তারা নিজেরাই বিচারক, জল্লাদ ও আইন-প্রয়োগকারী সেজে ওঠে। আটজনকে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
এই নিষ্ঠুর হামলায় মো. শাহীন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শাহীন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। গণপিটুনিতে আহত অপর সাতজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।আহতরা হলেন—পুঠিয়ার চকপলাশি গ্রামের মো. শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী এলাকার মো. শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাই উপজেলার নানজেগুড়ি গ্রামের মো. খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বামালের চর গ্রামের সেলিম শেখ (৩০), একই উপজেলার কুটিবয়রা গ্রামের মো. মামুন (৪২) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মো. রূপচান (৩০)।
আরও পড়ুন, ঈদগাঁও উপজেলা-এ কৃষিজমি কেটে ইট উৎপাদন: পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে এফ.এম.এম ইটভাটার দৌরাত্ম্য
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্রসহ ওই দলটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এলাকায় প্রবেশ করেছিল—এমন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ট্রাকসহ তাদের আটক করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে উন্মত্ত জনতা ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আটক ব্যক্তিদের বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহীনকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি সমাজকে কেবল আরও সহিংস, বর্বর ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রকাশ্যে পদদলিত করে সংঘটিত হলো আরেকটি নৃশংস গণপিটুনির ঘটনা। জনতার উন্মত্ততায় প্রাণ হারান এক ব্যক্তি। এই ভয়াবহ ঘটনার পর অবশেষে অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। দুই মামলাতেই বাদী পুঠিয়া থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার চকপলাশি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটজনকে আটক করে স্থানীয় কিছু লোক। কিন্তু আটক করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার পরিবর্তে তারা নিজেরাই বিচারক, জল্লাদ ও আইন-প্রয়োগকারী সেজে ওঠে। আটজনকে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
এই নিষ্ঠুর হামলায় মো. শাহীন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শাহীন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। গণপিটুনিতে আহত অপর সাতজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।আহতরা হলেন—পুঠিয়ার চকপলাশি গ্রামের মো. শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী এলাকার মো. শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাই উপজেলার নানজেগুড়ি গ্রামের মো. খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বামালের চর গ্রামের সেলিম শেখ (৩০), একই উপজেলার কুটিবয়রা গ্রামের মো. মামুন (৪২) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মো. রূপচান (৩০)।
আরও পড়ুন, ঈদগাঁও উপজেলা-এ কৃষিজমি কেটে ইট উৎপাদন: পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে এফ.এম.এম ইটভাটার দৌরাত্ম্য
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্রসহ ওই দলটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এলাকায় প্রবেশ করেছিল—এমন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ট্রাকসহ তাদের আটক করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে উন্মত্ত জনতা ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আটক ব্যক্তিদের বেধড়ক মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহীনকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি সমাজকে কেবল আরও সহিংস, বর্বর ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন