দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরজুড়ে একযোগে ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান

চট্টগ্রাম নগরজুড়ে একযোগে ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান
চট্টগ্রাম নগরজুড়ে একযোগে ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান

নগরীতে সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একযোগে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ বা সংক্ষেপে ‘এস ড্রাইভ’ নামে পরিচিত এই অভিযানে নগরের অন্তত ১০টি স্থানে একসঙ্গে তল্লাশি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। 

গত রোববার (১ মার্চ) রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে নগরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা, সম্ভাব্য অস্ত্রের গোপন আস্তানা এবং মাদক সংশ্লিষ্ট স্পটগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, নগরীতে অপরাধীদের গতিবিধি দমনে পরিকল্পিতভাবে একাধিক স্থানে একই সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোনো একটি স্থানে অভিযান চালানো হলে অনেক সময় অন্য এলাকায় থাকা অপরাধীরা সতর্ক হয়ে পালিয়ে যায়। সে পরিস্থিতি এড়াতেই একযোগে এই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য ওসি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি নগরীর একটি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর নগরবাসীর মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতির বিষয়টিও স্বীকার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সম্ভাব্য অবস্থান শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অপরাধীরা বাইরে থেকে অস্ত্র এনে শহরে প্রবেশ করেছে এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। নগরীর প্রবেশমুখে নিয়মিত চেকপোস্ট থাকায় এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছে পুলিশ। বরং শহরের ভেতরেই কোথাও অস্ত্র মজুদ করে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এমন কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানের তথ্য পেয়েছে পুলিশ এবং সেগুলোতে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন, সীতাকুণ্ডে নৃশংসতার শিকার ৭ বছরের মেয়ে

তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো থানার লুট হওয়া অস্ত্র নাকি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পাহাড়ি সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে অস্ত্র সংগ্রহের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরের ১০টি এলাকায় ১০টি আলাদা দলে ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্দেহভাজন অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিএমপি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া। নগরজুড়ে পুলিশের এই সমন্বিত অভিযানকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরাধ দমনে পুলিশের এ উদ্যোগ নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিষয় : চট্টগ্রাম অভিযান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


চট্টগ্রাম নগরজুড়ে একযোগে ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image

নগরীতে সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একযোগে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ বা সংক্ষেপে ‘এস ড্রাইভ’ নামে পরিচিত এই অভিযানে নগরের অন্তত ১০টি স্থানে একসঙ্গে তল্লাশি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। 

গত রোববার (১ মার্চ) রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে নগরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা, সম্ভাব্য অস্ত্রের গোপন আস্তানা এবং মাদক সংশ্লিষ্ট স্পটগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, নগরীতে অপরাধীদের গতিবিধি দমনে পরিকল্পিতভাবে একাধিক স্থানে একই সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোনো একটি স্থানে অভিযান চালানো হলে অনেক সময় অন্য এলাকায় থাকা অপরাধীরা সতর্ক হয়ে পালিয়ে যায়। সে পরিস্থিতি এড়াতেই একযোগে এই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য ওসি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি নগরীর একটি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর নগরবাসীর মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতির বিষয়টিও স্বীকার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সম্ভাব্য অবস্থান শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অপরাধীরা বাইরে থেকে অস্ত্র এনে শহরে প্রবেশ করেছে এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। নগরীর প্রবেশমুখে নিয়মিত চেকপোস্ট থাকায় এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছে পুলিশ। বরং শহরের ভেতরেই কোথাও অস্ত্র মজুদ করে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এমন কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানের তথ্য পেয়েছে পুলিশ এবং সেগুলোতে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন, সীতাকুণ্ডে নৃশংসতার শিকার ৭ বছরের মেয়ে

তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো থানার লুট হওয়া অস্ত্র নাকি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পাহাড়ি সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে অস্ত্র সংগ্রহের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরের ১০টি এলাকায় ১০টি আলাদা দলে ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্দেহভাজন অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিএমপি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া। নগরজুড়ে পুলিশের এই সমন্বিত অভিযানকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরাধ দমনে পুলিশের এ উদ্যোগ নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত