দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফুলবাড়িয়ার বিখ্যাত হলুদ বছরে ৫০ কোটি টাকার বিক্রয়

ফুলবাড়িয়ার বিখ্যাত হলুদ বছরে ৫০ কোটি টাকার বিক্রয়
ফুলবাড়িয়ার বিখ্যাত হলুদ বছরে ৫০ কোটি টাকার বিক্রয়

ময়মনসিংহের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া, কালাদহ, এনায়েতপুর, কুশমাইল ও বাকতা ইউনিয়নের একাংশের মাটি লালচে।  তবে এই লাল মাটির জনপদই এখন হলুধ স্বপ্নের শস্যভান্ডার। এখানকার সবচেয়ে পরিচিত ও অর্থকরী ফসল হলো হলুদ। রং, গন্ধ ও স্বাদে অতুলনীয় ফুলবাড়িয়ার এই হলুদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। আর এই হলুদ চাষ করেই লাভের মুখ দেখছেন শত শত কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ফুলবাড়িয়ায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ৮৫০ হেক্টরে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজারদরের ধসের কারণে আবাদ নেমে আসে ৬৫০ হেক্টরে। তবে চলতি মৌসুমে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় কৃষকরা হলুদ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এ বছর নাওগাঁও, রাঙ্গামাটিয়া, বাকতা, কালাদহ, এনায়েতপুর ও কুশমাইল ইউনিয়নে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে। এসব এলাকায় ডিমলা, মালা ও মুথা জাতের দেশীয় হলুদ চাষ হয়।

কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলায় বছরে গড়ে সাড়ে তিন হাজার টন শুকনো হলুদ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকারও বেশি। 

ইতিহাসের শিকড় রাঙ্গামাটিয়ায়

ফুলবাড়িয়ায় হলুদ চাষের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস পাওয়া না গেলেও স্থানীয়দের ধারণা, এর শুরু রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন থেকেই। ইউনিয়নের প্রবীণ চাষি আবদুল রশিদ বলেন, জন্মের পর থেকেই দেখছি বাবা-চাচারা হলুদ চাষ করছেন। আমাদের রাঙ্গামাটিয়া থেকেই সম্ভবত ফুলবাড়িয়ায় প্রথম দেশি হলুদের আবাদ শুরু হয়।” বর্তমানে ফুলবাড়িয়ার হলুদ চাষের প্রভাব টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ঘাটাইল এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষক যুগ যুগ ধরে হলুদ চাষের সঙ্গে যুক্ত। চৈত্র-বৈশাখ মাসে মোটা বীজ বা ছড়া বীজ রোপণ করা হয়। বীজ রোপণের ৯ থেকে ১০ মাস পর, পাতা শুকিয়ে গেলে হলুদ উত্তোলন শুরু হয়। উত্তোলনের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পাতা কেটে দেওয়া হয়। এই অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু এবং দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে রাঙ্গামাটিয়ার গ্রামগুলো ‘হলুদের গ্রাম’ নামেও পরিচিত।

চাষিরা জানান, প্রতি কাঠা জমিতে জাতভেদে ১২ থেকে ১৫ মণ কাঁচা হলুদ পাওয়া যায়। মাটির নিচে ঝুড়ির মতো বেড়ে ওঠা বীজকে স্থানীয়ভাবে ‘পাড়ি হলুদ’ বলা হয়। প্রতিটি গাছের গোছায় পাঁচ থেকে সাতটি ছড়া, কিছু শিকড় এবং একটি মোটা মূল বীজ থাকে। কাঁচা হলুদ উত্তোলনের পর শুরু হয় প্রক্রিয়াজাতকরণ। রাঙ্গামাটিয়া, নাওগাঁওয়ের সন্তোষপুর ও বাকতার কালনায় এই দৃশ্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। প্রথমে কাঁচা হলুদ বড় পাতিলে গরম পানিতে সেদ্ধ করা হয়। ক্ষেত থেকে আনার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সেদ্ধ না করলে হলুদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ হলুদ জোগান দিচ্ছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ চুলা সামলাচ্ছেন। খড়-বিচালি ও শুকনো পাতা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ ধরনের মাটির চুলায় একসঙ্গে তিনটি পাতিলে হলুদ সেদ্ধ করা হয়। আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সেদ্ধ করার পর বাঁশের তৈরি ছাকনায় পানি ঝরিয়ে খোলা বাতাসে বাষ্প ছাড়ানো হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে কাঁচা হলুদ পরিণত হয় শুকনো হলুদে।

শ্রম ও বাজার

সন্তোষপুরের হলুদ খলার শ্রমিক কেরামত আলী জানান, সেদ্ধ থেকে শুকানো পর্যন্ত প্রতিদিনের কাজের জন্য তারা ৫০০ টাকা মজুরি পান। রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের নারী শ্রমিক হোসনে আরা বলেন, নারী শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩৫০ টাকা। রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলের গ্রামের ব্যবসায়ী ও চাষি মোজাফফর আলী বলেন, হলুদ মৌসুমে কেশবগঞ্জ বাজারের প্রতি হাটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার হলুদ বেচাকেনা হয়।” তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তিন একর জমিতে হলুদ আবাদ করলেও উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে মোটা শুকনো হলুদ ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং চিকন ছড়া হলুদ সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ভারতীয় হলুদ আমদানি বন্ধ হলে ফুলবাড়িয়ার হলুদের দাম আরও বাড়তে পারত।

কৃষি বিভাগের মতামত

উপজেলা কৃষি অফিসের রাঙ্গামাটিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বলেন, ফুলবাড়িয়ার হলুদের রং ভালো ও স্বাদে উৎকৃষ্ট। উৎপাদন বাড়াতে বিনার নতুন জাত সম্প্রসারণসহ রোগ ও পোকামাকড় দমনে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।” তাঁর ব্লকে এ বছর ২০০ হেক্টরের বেশি জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে এবং ফলন আগের চেয়ে ভালো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, ফুলবাড়িয়ার পাহাড়ি নিচু লাল মাটি হলুদ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানকার হলুদ দেশসেরা হিসেবে পরিচিত।” তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৪০ জন চাষিকে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। আরও বেশি চাষিকে এই সুবিধা দেওয়া গেলে এলাকায় হলুদ চাষ ব্যাপকভাবে বাড়বে। এ বছর ৭৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে, যা বাজারজাত হলে ৫২ কোটি টাকারও বেশি আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিষয় : ফুলবাড়িয়া

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ফুলবাড়িয়ার বিখ্যাত হলুদ বছরে ৫০ কোটি টাকার বিক্রয়

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া, কালাদহ, এনায়েতপুর, কুশমাইল ও বাকতা ইউনিয়নের একাংশের মাটি লালচে।  তবে এই লাল মাটির জনপদই এখন হলুধ স্বপ্নের শস্যভান্ডার। এখানকার সবচেয়ে পরিচিত ও অর্থকরী ফসল হলো হলুদ। রং, গন্ধ ও স্বাদে অতুলনীয় ফুলবাড়িয়ার এই হলুদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। আর এই হলুদ চাষ করেই লাভের মুখ দেখছেন শত শত কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ফুলবাড়িয়ায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ৮৫০ হেক্টরে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজারদরের ধসের কারণে আবাদ নেমে আসে ৬৫০ হেক্টরে। তবে চলতি মৌসুমে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় কৃষকরা হলুদ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এ বছর নাওগাঁও, রাঙ্গামাটিয়া, বাকতা, কালাদহ, এনায়েতপুর ও কুশমাইল ইউনিয়নে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে। এসব এলাকায় ডিমলা, মালা ও মুথা জাতের দেশীয় হলুদ চাষ হয়।

কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলায় বছরে গড়ে সাড়ে তিন হাজার টন শুকনো হলুদ উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকারও বেশি। 

ইতিহাসের শিকড় রাঙ্গামাটিয়ায়

ফুলবাড়িয়ায় হলুদ চাষের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস পাওয়া না গেলেও স্থানীয়দের ধারণা, এর শুরু রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন থেকেই। ইউনিয়নের প্রবীণ চাষি আবদুল রশিদ বলেন, জন্মের পর থেকেই দেখছি বাবা-চাচারা হলুদ চাষ করছেন। আমাদের রাঙ্গামাটিয়া থেকেই সম্ভবত ফুলবাড়িয়ায় প্রথম দেশি হলুদের আবাদ শুরু হয়।” বর্তমানে ফুলবাড়িয়ার হলুদ চাষের প্রভাব টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ঘাটাইল এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষক যুগ যুগ ধরে হলুদ চাষের সঙ্গে যুক্ত। চৈত্র-বৈশাখ মাসে মোটা বীজ বা ছড়া বীজ রোপণ করা হয়। বীজ রোপণের ৯ থেকে ১০ মাস পর, পাতা শুকিয়ে গেলে হলুদ উত্তোলন শুরু হয়। উত্তোলনের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পাতা কেটে দেওয়া হয়। এই অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু এবং দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে রাঙ্গামাটিয়ার গ্রামগুলো ‘হলুদের গ্রাম’ নামেও পরিচিত।

চাষিরা জানান, প্রতি কাঠা জমিতে জাতভেদে ১২ থেকে ১৫ মণ কাঁচা হলুদ পাওয়া যায়। মাটির নিচে ঝুড়ির মতো বেড়ে ওঠা বীজকে স্থানীয়ভাবে ‘পাড়ি হলুদ’ বলা হয়। প্রতিটি গাছের গোছায় পাঁচ থেকে সাতটি ছড়া, কিছু শিকড় এবং একটি মোটা মূল বীজ থাকে। কাঁচা হলুদ উত্তোলনের পর শুরু হয় প্রক্রিয়াজাতকরণ। রাঙ্গামাটিয়া, নাওগাঁওয়ের সন্তোষপুর ও বাকতার কালনায় এই দৃশ্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। প্রথমে কাঁচা হলুদ বড় পাতিলে গরম পানিতে সেদ্ধ করা হয়। ক্ষেত থেকে আনার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সেদ্ধ না করলে হলুদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ হলুদ জোগান দিচ্ছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ চুলা সামলাচ্ছেন। খড়-বিচালি ও শুকনো পাতা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ ধরনের মাটির চুলায় একসঙ্গে তিনটি পাতিলে হলুদ সেদ্ধ করা হয়। আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সেদ্ধ করার পর বাঁশের তৈরি ছাকনায় পানি ঝরিয়ে খোলা বাতাসে বাষ্প ছাড়ানো হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে কাঁচা হলুদ পরিণত হয় শুকনো হলুদে।

শ্রম ও বাজার

সন্তোষপুরের হলুদ খলার শ্রমিক কেরামত আলী জানান, সেদ্ধ থেকে শুকানো পর্যন্ত প্রতিদিনের কাজের জন্য তারা ৫০০ টাকা মজুরি পান। রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের নারী শ্রমিক হোসনে আরা বলেন, নারী শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩৫০ টাকা। রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলের গ্রামের ব্যবসায়ী ও চাষি মোজাফফর আলী বলেন, হলুদ মৌসুমে কেশবগঞ্জ বাজারের প্রতি হাটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার হলুদ বেচাকেনা হয়।” তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তিন একর জমিতে হলুদ আবাদ করলেও উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে মোটা শুকনো হলুদ ৬ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং চিকন ছড়া হলুদ সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ভারতীয় হলুদ আমদানি বন্ধ হলে ফুলবাড়িয়ার হলুদের দাম আরও বাড়তে পারত।

কৃষি বিভাগের মতামত

উপজেলা কৃষি অফিসের রাঙ্গামাটিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বলেন, ফুলবাড়িয়ার হলুদের রং ভালো ও স্বাদে উৎকৃষ্ট। উৎপাদন বাড়াতে বিনার নতুন জাত সম্প্রসারণসহ রোগ ও পোকামাকড় দমনে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।” তাঁর ব্লকে এ বছর ২০০ হেক্টরের বেশি জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে এবং ফলন আগের চেয়ে ভালো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, ফুলবাড়িয়ার পাহাড়ি নিচু লাল মাটি হলুদ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানকার হলুদ দেশসেরা হিসেবে পরিচিত।” তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৪০ জন চাষিকে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। আরও বেশি চাষিকে এই সুবিধা দেওয়া গেলে এলাকায় হলুদ চাষ ব্যাপকভাবে বাড়বে। এ বছর ৭৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে, যা বাজারজাত হলে ৫২ কোটি টাকারও বেশি আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত