ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে আবু হানিফ (৬০) নামে এক রাজমিস্ত্রী সরদারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু হানিফ উপজেলার বাক্তা ইউনিয়নের চাঁদপুর (নদীপাড়) গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজমিস্ত্রী সরদার হিসেবে এলাকায় কাজ করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল রোডের ঋণিপাড়া এলাকায় জনৈক শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন ইনছান আলী মুন্সী। জমির পাশ দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের পল্লী বিদ্যুতের গ্রিড লাইন ও খুঁটি থাকা সত্ত্বেও সেখানে ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবন নির্মাণ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছেন এবং সম্প্রতি তৃতীয় তলার কাজ শুরু করেন। সোমবার দুপুরে রাজমিস্ত্রী সরদার আবু হানিফের নেতৃত্বে পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এসময় ভবনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাইনে অসাবধানতাবশত তার হাত স্পর্শ করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছাদের ওপর লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিদ্যুৎস্পর্শে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
সহকর্মী শ্রমিক বুলবুল জানান, প্রতিদিনের মতো পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের পাশে কাজ করতে তারা অনীহা প্রকাশ করলেও ভবন মালিকের ছেলে জোরপূর্বক কাজ করান বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ বা স্থানান্তরের কোনো উদ্যোগ না নিয়েই নির্মাণকাজ চলছিল। ফলে এমন দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী ছিল বলে তারা মনে করেন।
আরও পড়ুন, ফুলবাড়ীয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
এছাড়া ভবন নির্মাণের শুরুতেই পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দেন রফিকুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, ভবনের চারপাশে নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম এক ইঞ্চি জায়গাও খালি রাখা হয়নি। কিন্তু সেই অভিযোগকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে ভবন মালিক ইনছান আলী মুন্সী প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে আবু হানিফ (৬০) নামে এক রাজমিস্ত্রী সরদারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু হানিফ উপজেলার বাক্তা ইউনিয়নের চাঁদপুর (নদীপাড়) গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজমিস্ত্রী সরদার হিসেবে এলাকায় কাজ করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল রোডের ঋণিপাড়া এলাকায় জনৈক শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন ইনছান আলী মুন্সী। জমির পাশ দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের পল্লী বিদ্যুতের গ্রিড লাইন ও খুঁটি থাকা সত্ত্বেও সেখানে ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবন নির্মাণ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছেন এবং সম্প্রতি তৃতীয় তলার কাজ শুরু করেন। সোমবার দুপুরে রাজমিস্ত্রী সরদার আবু হানিফের নেতৃত্বে পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এসময় ভবনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাইনে অসাবধানতাবশত তার হাত স্পর্শ করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছাদের ওপর লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিদ্যুৎস্পর্শে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
সহকর্মী শ্রমিক বুলবুল জানান, প্রতিদিনের মতো পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের পাশে কাজ করতে তারা অনীহা প্রকাশ করলেও ভবন মালিকের ছেলে জোরপূর্বক কাজ করান বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ বা স্থানান্তরের কোনো উদ্যোগ না নিয়েই নির্মাণকাজ চলছিল। ফলে এমন দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী ছিল বলে তারা মনে করেন।
আরও পড়ুন, ফুলবাড়ীয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
এছাড়া ভবন নির্মাণের শুরুতেই পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দেন রফিকুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, ভবনের চারপাশে নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম এক ইঞ্চি জায়গাও খালি রাখা হয়নি। কিন্তু সেই অভিযোগকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে ভবন মালিক ইনছান আলী মুন্সী প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন