দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

বগুড়ার ভোটে এবার প্রশ্ন একটাই—নাম না যোগ্যতা

বগুড়ার ভোটে এবার প্রশ্ন একটাই—নাম না যোগ্যতা
এবার মার্কা নয়, মানুষ

বগুড়ার সাতটি আসনে এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিযোগিতা নয়, এটা এক ধরনের নৈতিক পরীক্ষা। পরীক্ষা হচ্ছে এই প্রশ্নে, আমরা কি এবার সত্যিই যোগ্য মানুষকে বেছে নেব, নাকি আবারও পরিচিত নাম আর বড় দলের মোহে পড়ে যাব? বছরের পর বছর আমরা দেখেছি, ভোটের মাঠে দাঁড়ানো অনেকেই ক্ষমতায় গেছেন টাকা, প্রভাব আর পরিচয়ের জোরে। কিন্তু এলাকার মানুষ পেয়েছে খুব কমই। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল সবই ছিল স্লোগানে, বাস্তবে নয়। এই দীর্ঘ হতাশার পর এবার সাধারণ ভোটারদের কণ্ঠে যে সুর শোনা যাচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে বড় আশার কথা।

আজ বগুড়ার চায়ের দোকান থেকে ফেসবুক টাইমলাইন পর্যন্ত একটাই কথা-

সাধারণ মানুষের কাছে যাও 

একটুও কি তুমি টের পাও? 

কার পাশা গেছে-কার টেবিলে 

খেলা যে চলছে কোন লেভেলে;

দেখে দেখে কেটে গেল বেলা 

বদলে যাচ্ছে রাজনীতির খেলা - ঘুরে যায় রাজনীতির নাম, জনগণে জানে সমাধান। এবার মানুষ দেখেই ভোট দেবে, মার্কা দেখে না।” তরুণদের মুখে এসব ছোট কথা নয়। অনেক বড় সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এবারের প্রার্থীদের দিকে তাকালেই ছবিটা পরিষ্কার হয়। কোথাও ব্যবসায়ী, কোথাও সাবেক এমপি, কোথাও আবার শিক্ষক, অধ্যক্ষ, আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা। প্রশ্নটা তাই সহজেই অনুমেয়-কে বেশি যোগ্য? যার ব্যাংক ব্যালেন্স বড়, না যার চিন্তাভাবনা বড়?

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রানিরহাট এলাকার ভোটার সইমুদ্দিন মুন্সী বলছিলেন, আমরা এমন এমপি চাই, যিনি সংসদে কথা বলতে পারেন, ফাইল পড়তে পারেন, মানুষের কথা বুঝতে পারেন।” এই কথাটাই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সত্য। শিক্ষাগত যোগ্যতা মানেই সব নয়, এটা ঠিক। কিন্তু অশিক্ষা বা সীমিত প্রস্তুতি নিয়ে রাষ্ট্র চালানোর স্বপ্ন দেখা তো আরও ভয়ংকর। একজন এমপি শুধু এলাকার নেতা নন, তিনি দেশের আইনপ্রণেতা। সেখানে যদি চিন্তার গভীরতা না থাকে, তাহলে সিদ্ধান্ত হবে হালকা, আর তার খেসারত দেবে পুরো দেশ।

বগুড়ার কিছু আসনে এবার যে প্রার্থীরা সামনে এসেছেন শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ, আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা তাদের প্রোফাইল দেখলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভাবছে, ুএরা অন্তত দেশের কথা বোঝে।” আর এখানেই শুরু হয়েছে পুরোনো রাজনীতির অস্বস্তি। কারণ এতদিন যারা ক্ষমতায় থেকেছেন, তারা অভ্যস্ত ছিলেন এক ধরনের নিরাপদ চক্রে। দল মনোনয়ন দিলেই জয় নিশ্চিত, মানুষ কী ভাবছে সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু এবার সেই চিত্র বদলাচ্ছে। তরুণ ভোটাররা স্পষ্ট বলছে- আমরা দুর্নীতির গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। এবার কাজে অগ্রগতি দেখতে চাই।”

আরও পড়ুন, বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আলম

এই কথাটা শুধু রাজনৈতিক নয়, এটা সামাজিক প্রতিবাদ। এটা সেই প্রজন্মের কণ্ঠ, যারা ১৮ বছর ধরে ভোট দিতে পারেনি। যারা রাজনীতি দেখেছে দূর থেকে, কিন্তু ভোগ করেছে তার ফল। তারা আজ বলছে- আমরা শুধু নেতা বদলাতে চাই না, রাজনীতির ধরন বদলাতে চাই। এখানেই সারা দেশের মতো বগুড়ার নির্বাচনও হয়ে উঠছে জাতীয় প্রতীক। এই নির্বাচন দেখাবে-বাংলাদেশ কি এখনো ব্যক্তিপূজার রাজনীতিতে আটকে আছে, নাকি যোগ্যতার রাজনীতিতে হাঁটতে শুরু করেছে।

সত্য কথা বলতে গেলে, এবার যদি মানুষ আবারও শুধু পরিচিত নাম আর বড় দলের ছায়ায় ভোট দেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তারা বলবে- তোমরা সুযোগ পেয়েও বদলাওনি।” কিন্তু যদি এবার মানুষ সাহস দেখায়, যোগ্যতা দেখে ভোট দেয়, নৈতিকতা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইতিহাস লিখবে- বগুড়া থেকেই বদলের ঢেউ উঠেছিল।” এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হবে যদি আমরা বলতে পারি- এবার ভোটে জিতেছে দল নয়, জিতেছে যোগ্যতা। আর সেটাই হোক বগুড়ার মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

বিষয় : ভোট বগুড়া যোগ্যতা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


বগুড়ার ভোটে এবার প্রশ্ন একটাই—নাম না যোগ্যতা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বগুড়ার সাতটি আসনে এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিযোগিতা নয়, এটা এক ধরনের নৈতিক পরীক্ষা। পরীক্ষা হচ্ছে এই প্রশ্নে, আমরা কি এবার সত্যিই যোগ্য মানুষকে বেছে নেব, নাকি আবারও পরিচিত নাম আর বড় দলের মোহে পড়ে যাব? বছরের পর বছর আমরা দেখেছি, ভোটের মাঠে দাঁড়ানো অনেকেই ক্ষমতায় গেছেন টাকা, প্রভাব আর পরিচয়ের জোরে। কিন্তু এলাকার মানুষ পেয়েছে খুব কমই। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল সবই ছিল স্লোগানে, বাস্তবে নয়। এই দীর্ঘ হতাশার পর এবার সাধারণ ভোটারদের কণ্ঠে যে সুর শোনা যাচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে বড় আশার কথা।

আজ বগুড়ার চায়ের দোকান থেকে ফেসবুক টাইমলাইন পর্যন্ত একটাই কথা-

সাধারণ মানুষের কাছে যাও 

একটুও কি তুমি টের পাও? 

কার পাশা গেছে-কার টেবিলে 

খেলা যে চলছে কোন লেভেলে;

দেখে দেখে কেটে গেল বেলা 

বদলে যাচ্ছে রাজনীতির খেলা - ঘুরে যায় রাজনীতির নাম, জনগণে জানে সমাধান। এবার মানুষ দেখেই ভোট দেবে, মার্কা দেখে না।” তরুণদের মুখে এসব ছোট কথা নয়। অনেক বড় সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এবারের প্রার্থীদের দিকে তাকালেই ছবিটা পরিষ্কার হয়। কোথাও ব্যবসায়ী, কোথাও সাবেক এমপি, কোথাও আবার শিক্ষক, অধ্যক্ষ, আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা। প্রশ্নটা তাই সহজেই অনুমেয়-কে বেশি যোগ্য? যার ব্যাংক ব্যালেন্স বড়, না যার চিন্তাভাবনা বড়?

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রানিরহাট এলাকার ভোটার সইমুদ্দিন মুন্সী বলছিলেন, আমরা এমন এমপি চাই, যিনি সংসদে কথা বলতে পারেন, ফাইল পড়তে পারেন, মানুষের কথা বুঝতে পারেন।” এই কথাটাই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সত্য। শিক্ষাগত যোগ্যতা মানেই সব নয়, এটা ঠিক। কিন্তু অশিক্ষা বা সীমিত প্রস্তুতি নিয়ে রাষ্ট্র চালানোর স্বপ্ন দেখা তো আরও ভয়ংকর। একজন এমপি শুধু এলাকার নেতা নন, তিনি দেশের আইনপ্রণেতা। সেখানে যদি চিন্তার গভীরতা না থাকে, তাহলে সিদ্ধান্ত হবে হালকা, আর তার খেসারত দেবে পুরো দেশ।

বগুড়ার কিছু আসনে এবার যে প্রার্থীরা সামনে এসেছেন শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ, আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা তাদের প্রোফাইল দেখলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভাবছে, ুএরা অন্তত দেশের কথা বোঝে।” আর এখানেই শুরু হয়েছে পুরোনো রাজনীতির অস্বস্তি। কারণ এতদিন যারা ক্ষমতায় থেকেছেন, তারা অভ্যস্ত ছিলেন এক ধরনের নিরাপদ চক্রে। দল মনোনয়ন দিলেই জয় নিশ্চিত, মানুষ কী ভাবছে সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু এবার সেই চিত্র বদলাচ্ছে। তরুণ ভোটাররা স্পষ্ট বলছে- আমরা দুর্নীতির গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। এবার কাজে অগ্রগতি দেখতে চাই।”

আরও পড়ুন, বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আলম

এই কথাটা শুধু রাজনৈতিক নয়, এটা সামাজিক প্রতিবাদ। এটা সেই প্রজন্মের কণ্ঠ, যারা ১৮ বছর ধরে ভোট দিতে পারেনি। যারা রাজনীতি দেখেছে দূর থেকে, কিন্তু ভোগ করেছে তার ফল। তারা আজ বলছে- আমরা শুধু নেতা বদলাতে চাই না, রাজনীতির ধরন বদলাতে চাই। এখানেই সারা দেশের মতো বগুড়ার নির্বাচনও হয়ে উঠছে জাতীয় প্রতীক। এই নির্বাচন দেখাবে-বাংলাদেশ কি এখনো ব্যক্তিপূজার রাজনীতিতে আটকে আছে, নাকি যোগ্যতার রাজনীতিতে হাঁটতে শুরু করেছে।

সত্য কথা বলতে গেলে, এবার যদি মানুষ আবারও শুধু পরিচিত নাম আর বড় দলের ছায়ায় ভোট দেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তারা বলবে- তোমরা সুযোগ পেয়েও বদলাওনি।” কিন্তু যদি এবার মানুষ সাহস দেখায়, যোগ্যতা দেখে ভোট দেয়, নৈতিকতা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইতিহাস লিখবে- বগুড়া থেকেই বদলের ঢেউ উঠেছিল।” এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হবে যদি আমরা বলতে পারি- এবার ভোটে জিতেছে দল নয়, জিতেছে যোগ্যতা। আর সেটাই হোক বগুড়ার মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত