দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

ফরিদপুরে জনমনে আতঙ্ক, বাড়ছে ডাকাতি

ফরিদপুরে জনমনে আতঙ্ক, বাড়ছে ডাকাতি
ফরিদপুরে জনমনে আতঙ্ক, বাড়ছে ডাকাতি

গভীর রাতে বসতবাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। একের পর একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। 

ফরিদপুরে সম্প্রতি ডাকাতি বৃদ্ধির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন যাপন করছেন সকলে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ভাটি কানাইপুর গ্রামে এক খাবার হোটেল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল আলী বেপারীর বসতঘরের বারান্দার গ্রিল কেটে একটি ডাকাতদল ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় আব্দুল আলী বেপারীর মুখে চেতনানাশক স্প্রে করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের দেশি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা এবং সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। ডাকাতির পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আব্দুল আলী বেপারীকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। এর আগেও জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলায় একই ধরনের ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গত ৯ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক নারী সদস্য (সংরক্ষিত আসন) বিউটি বেগমের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিউটি বেগম জানান, ওই রাতে তাঁর ছেলে, পুত্রবধূ, ছোট মেয়ে (র‌্যাব-২ এ কর্মরত এক সেনা সদস্যের স্ত্রী), নাতি ও বড় বোন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। ডাকাতরা তাঁর ও মেয়ের গলায় রামদা ঠেকিয়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল ফোন, টাকা ও অন্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এ ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জানিয়ে বিউটি বেগম বলেন, ‘সেই রাতের পর থেকে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছি না।’

আরও পড়ুন, ১ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিল চট্টগ্রাম বন্দর

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. আবুল হাসানাত খান বলেন, ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান শুক্রবার বিকেলে জানান, এখনো কোনো আসামি বা আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব শিগগির ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিষয় : ফরিদপুর ডাকাতি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ফরিদপুরে জনমনে আতঙ্ক, বাড়ছে ডাকাতি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গভীর রাতে বসতবাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। একের পর একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। 

ফরিদপুরে সম্প্রতি ডাকাতি বৃদ্ধির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন যাপন করছেন সকলে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ভাটি কানাইপুর গ্রামে এক খাবার হোটেল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল আলী বেপারীর বসতঘরের বারান্দার গ্রিল কেটে একটি ডাকাতদল ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় আব্দুল আলী বেপারীর মুখে চেতনানাশক স্প্রে করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের দেশি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা এবং সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। ডাকাতির পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আব্দুল আলী বেপারীকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মামলার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। এর আগেও জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলায় একই ধরনের ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গত ৯ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক নারী সদস্য (সংরক্ষিত আসন) বিউটি বেগমের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিউটি বেগম জানান, ওই রাতে তাঁর ছেলে, পুত্রবধূ, ছোট মেয়ে (র‌্যাব-২ এ কর্মরত এক সেনা সদস্যের স্ত্রী), নাতি ও বড় বোন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। ডাকাতরা তাঁর ও মেয়ের গলায় রামদা ঠেকিয়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল ফোন, টাকা ও অন্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এ ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জানিয়ে বিউটি বেগম বলেন, ‘সেই রাতের পর থেকে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছি না।’

আরও পড়ুন, ১ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিল চট্টগ্রাম বন্দর

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. আবুল হাসানাত খান বলেন, ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান শুক্রবার বিকেলে জানান, এখনো কোনো আসামি বা আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব শিগগির ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত