বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজপথে আন্দোলন, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মব সৃষ্টিকারীরা নতুন টার্গেট হিসেবে বেছে নিচ্ছে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলা, হুমকি, নির্যাতন ও অপমানের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি কেবল সাংবাদিক সমাজের জন্য নয়, পুরো রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যম কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ নয়, কোনো গোষ্ঠীর শত্রু নয়—গণমাধ্যম হলো জনগণের কণ্ঠস্বর। অথচ বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ইতিহাস বলে গণমাধ্যম সবসময়ই ঝুঁকিতে পড়ে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে মব সৃষ্টি করে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর, রিপোর্টারদের মারধর, অফিসে ঢুকে ভীতি প্রদর্শন এসব ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়।
এবিষয়ে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রিপন রুদ্র বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব হামলা তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয় বরং পরিকল্পিতভাবে করা হয় যাতে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। অপরাধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক সহিংসতা বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং গণমাধ্যমকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা চালানো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যে দলেরই হোক না কেন তাদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এটি এখন কেবল সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। অপরাধী অপরাধীই সে ক্ষমতাসীন দলের হোক, বিরোধী দলের হোক কিংবা তথাকথিত নিরপেক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যই হোক।
আরও পড়ুন, বনানীতে রকির অবৈধ গেস্ট হাউজ স্পা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে বিচার নয়, অপরাধ দেখে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নইলে গণমাধ্যমে হামলার সংস্কৃতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর সাম্প্রতিক হামলা দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় ও প্রভাবশালী গণমাধ্যম যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে জেলা-উপজেলার সাংবাদিকদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। এই হামলাগুলো শুধু একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নয় এগুলো পুরো গণমাধ্যম ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। ফলে সরকারের প্রতি আস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমগুলো মনে করছে, এসব ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে ভবিষ্যতে হামলা আরও বাড়বে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “মব” একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে, রাজনৈতিক স্লোগানের আড়ালে অথবা ধর্মীয় আবেগ উসকে দিয়ে হঠাৎ করে মব তৈরি করা হচ্ছে। এই মবের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু এখন সাংবাদিকরা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে হুমকি, মারধর, ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া এসব ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে। অথচ মব সৃষ্টিকারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব সত্য প্রকাশ। সেই সত্য যদি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলে দেয় তবে সেটাই গণমাধ্যমের সাফল্য। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এসব অপরাধী গোষ্ঠী এখন গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে, মামলা দিয়ে, হামলা চালিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে আরও দৃঢ় হতে হবে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে কোনো আপস করা যাবে না। প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে, একযোগে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে, যাতে কোনো একটি গণমাধ্যমকে আলাদা করে টার্গেট করা না যায়।
বর্তমান বাস্তবতায় গণমাধ্যমের মধ্যে বিভক্তি থাকলে সেটি অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন গণমাধ্যমের ঐক্য। প্রিন্ট, অনলাইন, টেলিভিশন সব ধরনের গণমাধ্যমকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে সাংবাদিক নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে। কোনো একটি গণমাধ্যম আক্রান্ত হলে সেটিকে আলাদা ঘটনা হিসেবে নয়, পুরো গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হিসেবে দেখতে হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। গণমাধ্যম সেই স্বাধীনতার অন্যতম বাহক। তাই গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উত্তেজনার এই সময়ে যদি শক্ত অবস্থান না নেয়, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই পারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে।
আরও পড়ুন, সহিংস রাজনীতি ও গণমাধ্যমের ওপর হামলা: আস্থার সংকটে স্বাধীনতা
পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, হামলার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকে অথবা পরে বিষয়টি ‘সাধারণ ঘটনা’ হিসেবে এড়িয়ে যায়। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
গণমাধ্যম আক্রান্ত হলে সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণমাধ্যমের ওপর হামলা চলতে থাকলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কমবে, গণতন্ত্র দুর্বল হবে এবং অরাজকতা বাড়বে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি গভীর সংকেত। এটি ইঙ্গিত দেয় রাষ্ট্র ও সমাজ কোন পথে এগোচ্ছে। এখনই যদি কঠোর অবস্থান না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে স্বাধীন সাংবাদিকতা চরম হুমকির মুখে পড়বে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা ও নির্যাতনের শিকার হলে—সে যে দলেরই হোক, যে পরিচয়েরই হোক—কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। মব সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে সব গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করবে এই অঙ্গীকারই পারে সত্য ও ন্যায়ের পথকে শক্তিশালী করতে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজপথে আন্দোলন, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মব সৃষ্টিকারীরা নতুন টার্গেট হিসেবে বেছে নিচ্ছে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলা, হুমকি, নির্যাতন ও অপমানের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি কেবল সাংবাদিক সমাজের জন্য নয়, পুরো রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যম কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ নয়, কোনো গোষ্ঠীর শত্রু নয়—গণমাধ্যম হলো জনগণের কণ্ঠস্বর। অথচ বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ইতিহাস বলে গণমাধ্যম সবসময়ই ঝুঁকিতে পড়ে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে মব সৃষ্টি করে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর, রিপোর্টারদের মারধর, অফিসে ঢুকে ভীতি প্রদর্শন এসব ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়।
এবিষয়ে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রিপন রুদ্র বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব হামলা তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয় বরং পরিকল্পিতভাবে করা হয় যাতে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। অপরাধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক সহিংসতা বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং গণমাধ্যমকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা চালানো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যে দলেরই হোক না কেন তাদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এটি এখন কেবল সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। অপরাধী অপরাধীই সে ক্ষমতাসীন দলের হোক, বিরোধী দলের হোক কিংবা তথাকথিত নিরপেক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যই হোক।
আরও পড়ুন, বনানীতে রকির অবৈধ গেস্ট হাউজ স্পা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে বিচার নয়, অপরাধ দেখে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নইলে গণমাধ্যমে হামলার সংস্কৃতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর সাম্প্রতিক হামলা দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় ও প্রভাবশালী গণমাধ্যম যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে জেলা-উপজেলার সাংবাদিকদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। এই হামলাগুলো শুধু একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নয় এগুলো পুরো গণমাধ্যম ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। ফলে সরকারের প্রতি আস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমগুলো মনে করছে, এসব ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে ভবিষ্যতে হামলা আরও বাড়বে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “মব” একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে, রাজনৈতিক স্লোগানের আড়ালে অথবা ধর্মীয় আবেগ উসকে দিয়ে হঠাৎ করে মব তৈরি করা হচ্ছে। এই মবের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু এখন সাংবাদিকরা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে হুমকি, মারধর, ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া এসব ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠছে। অথচ মব সৃষ্টিকারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব সত্য প্রকাশ। সেই সত্য যদি চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলে দেয় তবে সেটাই গণমাধ্যমের সাফল্য। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এসব অপরাধী গোষ্ঠী এখন গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে, মামলা দিয়ে, হামলা চালিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে আরও দৃঢ় হতে হবে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে কোনো আপস করা যাবে না। প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে, একযোগে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে, যাতে কোনো একটি গণমাধ্যমকে আলাদা করে টার্গেট করা না যায়।
বর্তমান বাস্তবতায় গণমাধ্যমের মধ্যে বিভক্তি থাকলে সেটি অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন গণমাধ্যমের ঐক্য। প্রিন্ট, অনলাইন, টেলিভিশন সব ধরনের গণমাধ্যমকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে সাংবাদিক নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে। কোনো একটি গণমাধ্যম আক্রান্ত হলে সেটিকে আলাদা ঘটনা হিসেবে নয়, পুরো গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হিসেবে দেখতে হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। গণমাধ্যম সেই স্বাধীনতার অন্যতম বাহক। তাই গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উত্তেজনার এই সময়ে যদি শক্ত অবস্থান না নেয়, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই পারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে।
আরও পড়ুন, সহিংস রাজনীতি ও গণমাধ্যমের ওপর হামলা: আস্থার সংকটে স্বাধীনতা
পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, হামলার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকে অথবা পরে বিষয়টি ‘সাধারণ ঘটনা’ হিসেবে এড়িয়ে যায়। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
গণমাধ্যম আক্রান্ত হলে সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণমাধ্যমের ওপর হামলা চলতে থাকলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কমবে, গণতন্ত্র দুর্বল হবে এবং অরাজকতা বাড়বে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি গভীর সংকেত। এটি ইঙ্গিত দেয় রাষ্ট্র ও সমাজ কোন পথে এগোচ্ছে। এখনই যদি কঠোর অবস্থান না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে স্বাধীন সাংবাদিকতা চরম হুমকির মুখে পড়বে। গণমাধ্যমের ওপর হামলা ও নির্যাতনের শিকার হলে—সে যে দলেরই হোক, যে পরিচয়েরই হোক—কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। মব সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে সব গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করবে এই অঙ্গীকারই পারে সত্য ও ন্যায়ের পথকে শক্তিশালী করতে।

আপনার মতামত লিখুন