ভোর হলেই পাইকগাছার আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। দূর থেকে কুয়াশা মনে হলেও কাছে গেলেই বোঝা যায়—এটি ইটভাটার ধোঁয়া। উপজেলার প্রায় ১৫টি ইটভাটার অধিকাংশই পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নি নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ভাটার আশপাশে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চাঁদখালী, গদাইপুর, রাড়ুলী ও হরিঢালী ইউনিয়নে মোট ১৩টি ইটভাটা রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন বিষয়টি জানলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ইটভাটাগুলো দাপটের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—কার আশ্রয়ে চলছে এসব ইটভাটা?
আরো পড়ুন , পুলিশের হেফাজতে থাকা নারীর অপ্রত্যাশিত মৃত্যু
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অধিকাংশ ইটভাটায় অগ্নি নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই ফায়ার এক্সটিংগুইশার কিংবা প্রশিক্ষিত কর্মী। কাঠ ও নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।ইটভাটার শ্রমিকদের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তারা কাজ করছেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নেই। নারী ও কিশোর শ্রম ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, “অসুস্থ হলে নিজের খরচেই চিকিৎসা করতে হয়।”
আরো পড়ুন , খুলনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
এদিকে রাড়ুলী এলাকার দুটি ভাটার মালিক দাবি করেছেন, তারা সাতক্ষীরা জেলার আওতাভুক্ত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভাটা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।গত বছর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। নির্দেশ অমান্য করলে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ভোর হলেই পাইকগাছার আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। দূর থেকে কুয়াশা মনে হলেও কাছে গেলেই বোঝা যায়—এটি ইটভাটার ধোঁয়া। উপজেলার প্রায় ১৫টি ইটভাটার অধিকাংশই পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নি নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ভাটার আশপাশে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চাঁদখালী, গদাইপুর, রাড়ুলী ও হরিঢালী ইউনিয়নে মোট ১৩টি ইটভাটা রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন বিষয়টি জানলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ইটভাটাগুলো দাপটের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—কার আশ্রয়ে চলছে এসব ইটভাটা?
আরো পড়ুন , পুলিশের হেফাজতে থাকা নারীর অপ্রত্যাশিত মৃত্যু
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অধিকাংশ ইটভাটায় অগ্নি নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই ফায়ার এক্সটিংগুইশার কিংবা প্রশিক্ষিত কর্মী। কাঠ ও নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।ইটভাটার শ্রমিকদের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তারা কাজ করছেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নেই। নারী ও কিশোর শ্রম ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, “অসুস্থ হলে নিজের খরচেই চিকিৎসা করতে হয়।”
আরো পড়ুন , খুলনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
এদিকে রাড়ুলী এলাকার দুটি ভাটার মালিক দাবি করেছেন, তারা সাতক্ষীরা জেলার আওতাভুক্ত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভাটা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।গত বছর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। নির্দেশ অমান্য করলে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন