গরম পানি বা গরম লেবুর পানি পান অনেকের কাছে শান্তি ও স্বস্তি প্রদান করে। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে এবং হজমশক্তি উন্নত করা, চাপ কমানো এবং শরীরে উষ্ণতা বজায় রাখতে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
যদিও এই উপকারিতাগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, তবু অনেকে গরম পানি পান করে ইতিবাচক ফলাফল অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞরা পানির তাপমাত্রা ৫৪ থেকে ৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৩০–১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রাখার পরামর্শ দেন। এর বেশি তাপমাত্রা ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
গরম পানির বাষ্প নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে ঠান্ডা আবহাওয়া জনিত নাক বন্ধ, সাইনাসের সমস্যা এবং মাথাব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া গলাজুড়ে জমে থাকা শ্লেষ্মা নরম হয়ে গলা উষ্ণ হয় এবং ব্যথা কমে।
পাচনতন্ত্র সচল রাখতে সাধারণ পানি পান উপকারী হলেও গরম পানি আরও কার্যকর হতে পারে। ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর অন্ত্রের নড়াচড়া এবং গ্যাস নির্গমনের ওপর গরম পানির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পর্যাপ্ত পানি না খেলে স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে। ২০১৯ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, গরম পানি পান করলে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকলাপ উন্নত হয় এবং মেজাজও ভালো থাকে।
আরও পড়ুন: শীতে ঐতিহ্যবাহী খাবার, ভালো থাকবে মন ও শরীর
পানি পান না করা কোষ্ঠকাঠিন্যের সাধারণ কারণ। গরম বা ঠান্ডা যে কোনো পানিই কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। এটি মল নরম রাখে এবং মলত্যাগ সহজ করে।
ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনের সুপারিশ অনুযায়ী, নারীদের প্রতিদিন ২.৩ লিটার এবং পুরুষদের ৩.৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়, ফলমূল ও শাক-সবজি খেলে আরও ভালো।
ঠান্ডায় শরীরের কাঁপুনি কমাতে ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হালকা গরম পানি পান কার্যকর। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গরম পানি পান করলে রক্তনালীর (ধমনী ও শিরা) প্রসারণ ঘটে। ফলে সারা শরীরে রক্তপ্রবাহ কার্যকর হয় এবং রক্ত সরবরাহে সহায়তা হয়। যদিও এ বিষয়ে খুব কম গবেষণা আছে, তবু এটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা হিসেবে বিবেচিত।
বিষয় : শীতকাল স্বাস্থ্যকর গরমপানি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
গরম পানি বা গরম লেবুর পানি পান অনেকের কাছে শান্তি ও স্বস্তি প্রদান করে। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে এবং হজমশক্তি উন্নত করা, চাপ কমানো এবং শরীরে উষ্ণতা বজায় রাখতে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
যদিও এই উপকারিতাগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, তবু অনেকে গরম পানি পান করে ইতিবাচক ফলাফল অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞরা পানির তাপমাত্রা ৫৪ থেকে ৭১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৩০–১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রাখার পরামর্শ দেন। এর বেশি তাপমাত্রা ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
গরম পানির বাষ্প নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে ঠান্ডা আবহাওয়া জনিত নাক বন্ধ, সাইনাসের সমস্যা এবং মাথাব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া গলাজুড়ে জমে থাকা শ্লেষ্মা নরম হয়ে গলা উষ্ণ হয় এবং ব্যথা কমে।
পাচনতন্ত্র সচল রাখতে সাধারণ পানি পান উপকারী হলেও গরম পানি আরও কার্যকর হতে পারে। ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর অন্ত্রের নড়াচড়া এবং গ্যাস নির্গমনের ওপর গরম পানির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পর্যাপ্ত পানি না খেলে স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে। ২০১৯ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, গরম পানি পান করলে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকলাপ উন্নত হয় এবং মেজাজও ভালো থাকে।
আরও পড়ুন: শীতে ঐতিহ্যবাহী খাবার, ভালো থাকবে মন ও শরীর
পানি পান না করা কোষ্ঠকাঠিন্যের সাধারণ কারণ। গরম বা ঠান্ডা যে কোনো পানিই কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। এটি মল নরম রাখে এবং মলত্যাগ সহজ করে।
ইনস্টিটিউট অব মেডিসিনের সুপারিশ অনুযায়ী, নারীদের প্রতিদিন ২.৩ লিটার এবং পুরুষদের ৩.৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়, ফলমূল ও শাক-সবজি খেলে আরও ভালো।
ঠান্ডায় শরীরের কাঁপুনি কমাতে ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হালকা গরম পানি পান কার্যকর। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গরম পানি পান করলে রক্তনালীর (ধমনী ও শিরা) প্রসারণ ঘটে। ফলে সারা শরীরে রক্তপ্রবাহ কার্যকর হয় এবং রক্ত সরবরাহে সহায়তা হয়। যদিও এ বিষয়ে খুব কম গবেষণা আছে, তবু এটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা হিসেবে বিবেচিত।

আপনার মতামত লিখুন