নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের ভেতরে কুকুরের অবাধ বিচরণে চরম আতঙ্কে রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এবিষয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায় ইতোমধ্যে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।জানা যায়, নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল—যেখানে মানুষ আসে সুস্থতার আশায়, সেখানে এখন কুকুরের আতঙ্ক। হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে ও আশপাশে একাধিক কুকুরের আস্তানা গড়ে ওঠায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতাল এলাকায় কুকুরের উপদ্রব থাকলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরই মধ্যে ৬ থেকে ৭ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছে বলাইনগুয়া এলাকার বাসিন্দা আকাশের পাঁচ বছরের শিশু আযান এবং কাটলি এলাকার লিটন মিয়ার নয় বছরের মেয়ে তাইবা। স্বজনদের দাবি, তাইবার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
আরও পড়ুন, বান্দরবানে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ
পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। তারা দ্রুত কুকুর অপসারণ, হাসপাতাল চত্বর নিরাপদ করা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাইবা বলে, আমি বাসার সামনে খেলতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ করে কুকুর এসে আমাকে কামড়ে দেয়। পরে আমার নানু এসে আমাকে বাঁচায়। এবিষয়ে আযানের দাদু বলেন, আমার নাতি বাসার সামনে খেলছিল। হঠাৎ করে ৭-৮টা কুকুর এসে তাকে কামড় দেয়। পরে আমার বোন এসে রক্ষা করে। চিকিৎসা করানোর পর এখন মোটামুটি ভালো আছে। এই হাসপাতালের কুকুরগুলোর কারণে আমরা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় সমস্যা হবে।
এ বিষয়ে তাইবার মা মুন্নি আক্তার বলেন, আমার মেয়ে সকালে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। তখন ৫-৬টা কুকুর মিলে তাকে কামড় দেয়। প্রায় ৪০-৫০টা কামড় লেগেছে। সদর হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে এনেছি। এখনও নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াচ্ছি। আমি চাই, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক, যেন আর কোনো মায়ের সন্তান এভাবে আহত না হয়। উক্ত বিষয়ে লাশ কাটা ঘরের ডুম দিপু বলেন, মর্গে কোনো লাশ আনলে কুকুরগুলো তাড়া করে। এখানে এত কুকুর যে আমাদের বাচ্চারা ঘর থেকে বের হতে পারে না। কয়েকটা ছাগল এনেছিলাম, কুকুরে খেয়ে ফেলেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ও রোগীদের দু’পক্ষেরই সমস্যা হবে।
আরও পড়ুন, সাতক্ষীরায় জাতীয় সমাজসেবা দিবস পালন উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
এদিকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, হাসপাতালের ভেতরে কয়েকটা কুকুর একসাথে থাকে, ময়লা খায়। এখন যেকোনো মানুষকে কামড়াচ্ছে। সুযোগ পেলেই তাড়া করে। আমরা আতঙ্কে থাকি, রোগীরাও বিরক্ত হয়। দ্রুত এই কুকুরগুলো সরানোর ব্যবস্থা চাই। এবিষয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরামুল হাসান বলেন, কুকুর গুলো বাইরে থেকেও আসে, কিছু এখানে অবস্থান করে। আমরা সরানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। পৌর প্রশাসন বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভালো সমাধান হবে।এদিকে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, আমি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। আহত শিশুর বিষয়ে সদর হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলেছি।কুকুর না মারার বিষয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করবো। সময় নির্ধারণ হলেই যৌথভাবে কাজ শুরু করা হবে। নেত্রকোনার সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতাল এলাকায় কুকুরের আতঙ্ক আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেয়।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের ভেতরে কুকুরের অবাধ বিচরণে চরম আতঙ্কে রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এবিষয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায় ইতোমধ্যে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।জানা যায়, নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল—যেখানে মানুষ আসে সুস্থতার আশায়, সেখানে এখন কুকুরের আতঙ্ক। হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে ও আশপাশে একাধিক কুকুরের আস্তানা গড়ে ওঠায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতাল এলাকায় কুকুরের উপদ্রব থাকলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরই মধ্যে ৬ থেকে ৭ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছে বলাইনগুয়া এলাকার বাসিন্দা আকাশের পাঁচ বছরের শিশু আযান এবং কাটলি এলাকার লিটন মিয়ার নয় বছরের মেয়ে তাইবা। স্বজনদের দাবি, তাইবার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
আরও পড়ুন, বান্দরবানে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ
পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। তারা দ্রুত কুকুর অপসারণ, হাসপাতাল চত্বর নিরাপদ করা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাইবা বলে, আমি বাসার সামনে খেলতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ করে কুকুর এসে আমাকে কামড়ে দেয়। পরে আমার নানু এসে আমাকে বাঁচায়। এবিষয়ে আযানের দাদু বলেন, আমার নাতি বাসার সামনে খেলছিল। হঠাৎ করে ৭-৮টা কুকুর এসে তাকে কামড় দেয়। পরে আমার বোন এসে রক্ষা করে। চিকিৎসা করানোর পর এখন মোটামুটি ভালো আছে। এই হাসপাতালের কুকুরগুলোর কারণে আমরা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় সমস্যা হবে।
এ বিষয়ে তাইবার মা মুন্নি আক্তার বলেন, আমার মেয়ে সকালে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। তখন ৫-৬টা কুকুর মিলে তাকে কামড় দেয়। প্রায় ৪০-৫০টা কামড় লেগেছে। সদর হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে এনেছি। এখনও নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াচ্ছি। আমি চাই, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক, যেন আর কোনো মায়ের সন্তান এভাবে আহত না হয়। উক্ত বিষয়ে লাশ কাটা ঘরের ডুম দিপু বলেন, মর্গে কোনো লাশ আনলে কুকুরগুলো তাড়া করে। এখানে এত কুকুর যে আমাদের বাচ্চারা ঘর থেকে বের হতে পারে না। কয়েকটা ছাগল এনেছিলাম, কুকুরে খেয়ে ফেলেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ও রোগীদের দু’পক্ষেরই সমস্যা হবে।
আরও পড়ুন, সাতক্ষীরায় জাতীয় সমাজসেবা দিবস পালন উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
এদিকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, হাসপাতালের ভেতরে কয়েকটা কুকুর একসাথে থাকে, ময়লা খায়। এখন যেকোনো মানুষকে কামড়াচ্ছে। সুযোগ পেলেই তাড়া করে। আমরা আতঙ্কে থাকি, রোগীরাও বিরক্ত হয়। দ্রুত এই কুকুরগুলো সরানোর ব্যবস্থা চাই। এবিষয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরামুল হাসান বলেন, কুকুর গুলো বাইরে থেকেও আসে, কিছু এখানে অবস্থান করে। আমরা সরানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। পৌর প্রশাসন বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভালো সমাধান হবে।এদিকে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, আমি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। আহত শিশুর বিষয়ে সদর হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলেছি।কুকুর না মারার বিষয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করবো। সময় নির্ধারণ হলেই যৌথভাবে কাজ শুরু করা হবে। নেত্রকোনার সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতাল এলাকায় কুকুরের আতঙ্ক আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেয়।

আপনার মতামত লিখুন