রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে পাবলিক পরীক্ষায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর 'নকলকাণ্ড' নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও পার হয়ে গেছে ১৫ দিন। জাতীয় ও স্থানীয় অন্তত ৩০টি গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পরও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই দীর্ঘসূত্রতা ও নীরবতা জনমনে গভীর ক্ষোভ ও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।তদন্তের ধীরগতি ও জনমনে অসন্তোষনকলের মহোৎসবের খবর চাউর হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, কেন্দ্র সচিব আব্দুল লতিব একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের ছত্রছায়ায় থাকায় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংকুচিত বোধ করছে।আরও পড়ুন , বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত আলালহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীস্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:"এত বড় জালিয়াতির ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হওয়ার পরও যদি বিচার না হয়, তবে সাধারণ মানুষ আর কার কাছে যাবে? আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।"সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা: স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নঅনিয়মের এই ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য যাতে আর বাইরে না আসে, সেজন্য গণমাধ্যমকর্মীদের কেন্দ্র এলাকায় নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরও পড়ুন , গঙ্গাচড়ায় আন্তঃস্কুল সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিততবে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বিষয়ে তার মন্তব্য বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, "বোর্ডের নীতিমালায় সাংবাদিকদের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ নেই, তাই প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছে।"বিশ্লেষকদের অভিমতসচেতন মহল ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সেখানে গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশ সীমিত করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এটি তথ্য গোপনের বা অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।সার্বিক পরিস্থিতি একনজরে:ঘটনার সময়কাল ১৫ দিন অতিবাহিতগণমাধ্যম কাভারেজ: ৩০টির বেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিতপ্রশাসনিক ব্যবস্থা:তদন্তাধীন (এখনও দৃশ্যমান কিছু নেই)কেন্দ্রের পরিস্থিতি:;সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা।আরও পড়ুন , রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্নএ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় এর সাথে সংবাদ দিগন্ত কথা বললে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট জমা দিবে,নকল কান্ডে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য এই তদন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এখন জনমনে একটাই প্রশ্ন—তদন্ত কমিটি কি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন জমা দেবে, নাকি প্রভাবশালী মহলের চাপে এই আলোচিত নকলকাণ্ডও শেষ পর্যন্ত ধামাচাপা পড়ে যাবে? শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও স্বচ্ছতা রক্ষায় এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।